কারাবন্দি ইমরান খানের জীবিত থাকার প্রমাণ চাইলেন ছেলে কাসিম
- Update Time : ১০:৫৬:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৮১ Time View

কারাবন্দি ইমরান খানের জীবিত থাকার প্রমাণ চাইলেন ছেলে কাসিম
‘সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখা হচ্ছে, পরিবারের সঙ্গে দেখা বাধা’—অভিযোগ
পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং কারাবন্দি নেতা ইমরান খানকে ‘সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন’ অবস্থায় রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তার ছোট ছেলে কাসিম খান। কাসিম, যিনি দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের বাইরে বসবাস করছেন এবং সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে আছেন, এক্স–এ প্রকাশিত বিবৃতিতে জানান, পরিবারকে এখন পর্যন্ত তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এমনকি তার জীবিত থাকার কোনো প্রমাণও নেই, যা পরিস্থিতিকে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে অন্ধকারে রাখা’ হিসেবে তিনি আখ্যা দিয়েছেন।
৮৪৫ দিন কারাবন্দি, একক বন্দিত্বে ‘ডেথ সেল’
কাসিম খান জানিয়েছেন, তার বাবা ইমরান খান ৮৪৫ দিন ধরে কারাবন্দি অবস্থায় আছেন, এবং গত ছয় সপ্তাহ ধরে তাকে একক বন্দিত্বের ‘ডেথ সেল’-এ রাখা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পরিবার ও আইনজীবীদের সাক্ষাতের অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে। “কোনও ফোন কল হয়নি, কোনও দেখা হয়নি, এবং জীবনের কোনও প্রমাণও পাওয়া যায়নি,” কাসিম লিখেছেন।
পরিবারের উদ্বেগ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
কাসিম বলেন, এভাবে একাকী রাখা এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রাখা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তিনি পাকিস্তান প্রশাসনের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এমন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে যা তার বাবার নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে প্রভাবিত করছে।
বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংস্থা এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা ইতিমধ্যেই ইমরান খানের বন্দিত্ব ও তার একক কক্ষে অবস্থানের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন, ইমরান খানের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ এবং আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করতে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ইমরান খানকে ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তবে ২০২২ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কাসিমের এই অভিযোগ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তুলে এনেছে পাকিস্তানের কারাবাস ও মানবাধিকার পরিস্থিতি।
কাসিমের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি শুধু পরিবারিক নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, যতদিন তার বাবা নিরাপদভাবে ও ন্যায্যভাবে দেখা না পান, ততদিন বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার নজরে থাকবে।

















