সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১২ হাজার বছর পর জেগে উঠল ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:২৪:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৮৪ Time View

 

ইথিওপিয়ার উত্তর–পূর্বাঞ্চলে প্রায় ১২ হাজার বছর নিষ্ক্রিয় থাকার পর অবশেষে জেগে উঠল একটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি। আফার অঞ্চলের হায়লি গুব্বি নামের আগ্নেয়গিরিটি রবিবার ভয়ংকর অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়, যা কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং ছাই–ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী আকাশে উঠে যায় প্রায় ১৪ কিলোমিটার পর্যন্ত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে টুলুজ ভলকানিক অ্যাশ অ্যাডভাইজরি সেন্টার (VAAC)।

রিফট ভ্যালির ভূতাত্ত্বিক উত্তেজনা—কেন সক্রিয় হলো আগ্নেয়গিরিটি?

হায়লি গুব্বি অবস্থিত পূর্ব আফ্রিকার রিফট ভ্যালি অঞ্চলে, যেখানে আফ্রিকার দুটি টেকটোনিক প্লেট—নুবিয়ান প্লেটসোমালি প্লেট—ক্রমাগত পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ফলে সেখানে পৃথিবীর ভূত্বক দুর্বল হয়ে থাকে এবং ভূতাত্ত্বিক অস্থিরতা প্রায়ই দেখা যায়।

প্রায় ৫০০ মিটার উঁচু এই আগ্নেয়গিরিটিকে দীর্ঘদিন সুপ্ত বলে মনে করা হলেও বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে আসছিলেন যে রিফট ভ্যালির ক্রমবর্ধমান ভূতাত্ত্বিক চাপ কোনো সময় আগ্নেয়গিরিকে জাগিয়ে তুলতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো।

পরপর কয়েক ঘণ্টা অগ্ন্যুৎপাত—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিও

রবিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত টানা কয়েক ঘণ্টা আগ্নেয়গিরিটি থেকে ছাই ও গ্যাস নির্গত হয়। স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বাস্তুচ্যুত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আগ্নেয়গিরির মুখ থেকে ঘন সাদা ধুসর ধোঁয়া আকাশে উঠে বিরাট ছাতা তৈরি করেছে। যদিও এগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি এএফপি।

ছাই দূর–দূরান্তে ছড়িয়ে পড়ছে: ইয়েমেন–ওমান পর্যন্ত প্রভাব

ভিএএসি জানিয়েছে, অগ্ন্যুৎপাতের পর নির্গত ছাইয়ের কণা উচ্চ বায়ুমণ্ডলে পৌঁছে ইয়েমেন, ওমান, ভারত পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
এই ছাই বিমান চলাচলে সাময়িক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে কয়েকটি এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ।

১২ হাজার বছরের নীরবতার পর বিস্ফোরণ—বিজ্ঞানীরা বলছেন ‘অত্যন্ত বিরল ঘটনা’

স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের গ্লোবাল

ভলকানিজম প্রোগ্রাম জানায়, হায়লি গুব্বির সর্বশেষ অগ্ন্যুৎপাতের কোনো রেকর্ড হোলোসিন যুগে পাওয়া যায় না। অর্থাৎ গত ১২ হাজার বছর ধরে আগ্নেয়গিরিটি সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ছিল।

মিশিগান টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির আগ্নেয়গিরিবিদ অধ্যাপক সাইমন কার্নো ব্লুস্কাই প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে অগ্ন্যুৎপাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন—

“হায়লি গুব্বির মতো প্রাচীন সুপ্ত আগ্নেয়গিরির হঠাৎ সক্রিয় হওয়া রিফট ভ্যালির গভীরে চলমান ভূত্বকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এটি খুবই বিরল এবং বৈজ্ঞানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।”

ঝুঁকি ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনো অজানা

আফার আঞ্চলিক প্রশাসন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় আকারের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আগ্নেয়গিরির আশপাশে বসবাসকারী সম্প্রদায়ের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিফট ভ্যালির ভূতাত্ত্বিক চাপে ভবিষ্যতেও অঞ্চলে অনুরূপ অগ্ন্যুৎপাত অথবা ভূমিকম্পের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

১২ হাজার বছর পর জেগে উঠল ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরি

Update Time : ১০:২৪:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

 

ইথিওপিয়ার উত্তর–পূর্বাঞ্চলে প্রায় ১২ হাজার বছর নিষ্ক্রিয় থাকার পর অবশেষে জেগে উঠল একটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি। আফার অঞ্চলের হায়লি গুব্বি নামের আগ্নেয়গিরিটি রবিবার ভয়ংকর অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়, যা কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং ছাই–ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী আকাশে উঠে যায় প্রায় ১৪ কিলোমিটার পর্যন্ত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে টুলুজ ভলকানিক অ্যাশ অ্যাডভাইজরি সেন্টার (VAAC)।

রিফট ভ্যালির ভূতাত্ত্বিক উত্তেজনা—কেন সক্রিয় হলো আগ্নেয়গিরিটি?

হায়লি গুব্বি অবস্থিত পূর্ব আফ্রিকার রিফট ভ্যালি অঞ্চলে, যেখানে আফ্রিকার দুটি টেকটোনিক প্লেট—নুবিয়ান প্লেটসোমালি প্লেট—ক্রমাগত পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ফলে সেখানে পৃথিবীর ভূত্বক দুর্বল হয়ে থাকে এবং ভূতাত্ত্বিক অস্থিরতা প্রায়ই দেখা যায়।

প্রায় ৫০০ মিটার উঁচু এই আগ্নেয়গিরিটিকে দীর্ঘদিন সুপ্ত বলে মনে করা হলেও বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে আসছিলেন যে রিফট ভ্যালির ক্রমবর্ধমান ভূতাত্ত্বিক চাপ কোনো সময় আগ্নেয়গিরিকে জাগিয়ে তুলতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো।

পরপর কয়েক ঘণ্টা অগ্ন্যুৎপাত—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিও

রবিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত টানা কয়েক ঘণ্টা আগ্নেয়গিরিটি থেকে ছাই ও গ্যাস নির্গত হয়। স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বাস্তুচ্যুত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আগ্নেয়গিরির মুখ থেকে ঘন সাদা ধুসর ধোঁয়া আকাশে উঠে বিরাট ছাতা তৈরি করেছে। যদিও এগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি এএফপি।

ছাই দূর–দূরান্তে ছড়িয়ে পড়ছে: ইয়েমেন–ওমান পর্যন্ত প্রভাব

ভিএএসি জানিয়েছে, অগ্ন্যুৎপাতের পর নির্গত ছাইয়ের কণা উচ্চ বায়ুমণ্ডলে পৌঁছে ইয়েমেন, ওমান, ভারত পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
এই ছাই বিমান চলাচলে সাময়িক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে কয়েকটি এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ।

১২ হাজার বছরের নীরবতার পর বিস্ফোরণ—বিজ্ঞানীরা বলছেন ‘অত্যন্ত বিরল ঘটনা’

স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের গ্লোবাল ভলকানিজম প্রোগ্রাম জানায়, হায়লি গুব্বির সর্বশেষ অগ্ন্যুৎপাতের কোনো রেকর্ড হোলোসিন যুগে পাওয়া যায় না। অর্থাৎ গত ১২ হাজার বছর ধরে আগ্নেয়গিরিটি সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ছিল।

মিশিগান টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির আগ্নেয়গিরিবিদ অধ্যাপক সাইমন কার্নো ব্লুস্কাই প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে অগ্ন্যুৎপাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন—

“হায়লি গুব্বির মতো প্রাচীন সুপ্ত আগ্নেয়গিরির হঠাৎ সক্রিয় হওয়া রিফট ভ্যালির গভীরে চলমান ভূত্বকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এটি খুবই বিরল এবং বৈজ্ঞানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।”

ঝুঁকি ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনো অজানা

আফার আঞ্চলিক প্রশাসন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় আকারের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আগ্নেয়গিরির আশপাশে বসবাসকারী সম্প্রদায়ের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিফট ভ্যালির ভূতাত্ত্বিক চাপে ভবিষ্যতেও অঞ্চলে অনুরূপ অগ্ন্যুৎপাত অথবা ভূমিকম্পের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।