সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর শীর্ষ কমান্ডার হাইথাম আলী তাবাতাবাই নিহত

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:২৯:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১১০ Time View

লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের চালানো বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন হিজবুল্লাহর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার হাইথাম আলী তাবাতাবাই। রোববার (২৩ নভেম্বর) দাহিয়েহ এলাকার হারেত হরেক মহল্লায় একটি বহুতল ভবনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তাবাতাবাইসহ অন্তত পাঁচজন নিহত এবং বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।

হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানায়, মহান কমান্ডার হাইথাম আলী তাবাতাবাই ইসরায়েলি আগ্রাসনে শহীদ হয়েছেন।” তবে সংগঠনের ভেতরে তার নির্দিষ্ট সামরিক পদাধিকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, তাবাতাবাই ছিলেন হিজবুল্লাহর অন্যতম কৌশলী ও প্রভাবশালী সামরিক ব্যক্তিত্ব।

২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল–লেবানন সীমান্তে দীর্ঘ এক বছরের সংঘাত বন্ধে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটাই হিজবুল্লাহর সর্বোচ্চপদস্থ কোনো নেতার প্রথম নিহত হওয়ার ঘটনা। ফলে উত্তেজনা পুনরায় তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলার দায় স্বীকার করে দাবি করেছে যে তারা তাবাতাবাইকে “নিষ্ক্রিয়” করেছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় আগেই জানিয়েছিল, তাবাতাবাই দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিলেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যম বলছে, গত বছরের যুদ্ধের পর এ ছিল তাকে হত্যার তৃতীয় প্রচেষ্টা।

হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ নেতা মাহমুদ কামাতি বলেন, ইসরায়েলের এই হামলা আমাদের কাছে একটি ‘রেড লাইন’ লঙ্ঘনের নামান্তর। দক্ষিণ উপশহরে এই আগ্রাসন পুরো লেবাননজুড়ে নতুন উত্তেজনার দরজা খুলে দিয়েছে।” তিনি ইঙ্গিত দেন, দলটি প্রতিক্রিয়া জানাবে কি না—তা নিয়ে হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্ব এখন সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে।

লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা এনএনএ জানায়, হারেত হরেকের আল-আরিদ সড়কে একটি ভবনের ওপর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এতে ভবনটি আংশিক ধসে পড়ে, আশপাশের স্থাপনা ও গাড়িগুলোতে মারাত্মক ক্ষতি হয়।

ঘটনার পর এলাকায় জরুরি উদ্ধারকাজ চলছে এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই হামলা সীমান্ত উত্তেজনা পুনরায় বৃদ্ধি করতে পারে এবং ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর শীর্ষ কমান্ডার হাইথাম আলী তাবাতাবাই নিহত

Update Time : ০৯:২৯:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের চালানো বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন হিজবুল্লাহর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার হাইথাম আলী তাবাতাবাই। রোববার (২৩ নভেম্বর) দাহিয়েহ এলাকার হারেত হরেক মহল্লায় একটি বহুতল ভবনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তাবাতাবাইসহ অন্তত পাঁচজন নিহত এবং বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।

হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানায়, মহান কমান্ডার হাইথাম আলী তাবাতাবাই ইসরায়েলি আগ্রাসনে শহীদ হয়েছেন।” তবে সংগঠনের ভেতরে তার নির্দিষ্ট সামরিক পদাধিকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, তাবাতাবাই ছিলেন হিজবুল্লাহর অন্যতম কৌশলী ও প্রভাবশালী সামরিক ব্যক্তিত্ব।

২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল–লেবানন সীমান্তে দীর্ঘ এক বছরের সংঘাত বন্ধে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটাই হিজবুল্লাহর সর্বোচ্চপদস্থ কোনো নেতার প্রথম নিহত হওয়ার ঘটনা। ফলে উত্তেজনা পুনরায় তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলার দায় স্বীকার করে দাবি করেছে যে তারা তাবাতাবাইকে “নিষ্ক্রিয়” করেছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় আগেই জানিয়েছিল, তাবাতাবাই দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিলেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যম বলছে, গত বছরের যুদ্ধের পর এ ছিল তাকে হত্যার তৃতীয় প্রচেষ্টা।

হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ নেতা মাহমুদ কামাতি বলেন, ইসরায়েলের এই হামলা আমাদের কাছে একটি ‘রেড লাইন’ লঙ্ঘনের নামান্তর। দক্ষিণ উপশহরে এই আগ্রাসন পুরো লেবাননজুড়ে নতুন উত্তেজনার দরজা খুলে দিয়েছে।” তিনি ইঙ্গিত দেন, দলটি প্রতিক্রিয়া জানাবে কি না—তা নিয়ে হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্ব এখন সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে।

লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা এনএনএ জানায়, হারেত হরেকের আল-আরিদ সড়কে একটি ভবনের ওপর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এতে ভবনটি আংশিক ধসে পড়ে, আশপাশের স্থাপনা ও গাড়িগুলোতে মারাত্মক ক্ষতি হয়।

ঘটনার পর এলাকায় জরুরি উদ্ধারকাজ চলছে এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই হামলা সীমান্ত উত্তেজনা পুনরায় বৃদ্ধি করতে পারে এবং ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা