সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:২০:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১২১ Time View
ছবি: ওয়াশিংটন পোস্ট

 

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত একটি ঘনবসতিপূর্ণ ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েল ড্রোন হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবারের এ হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস এই ঘটনাকে “বর্বর আগ্রাসন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সন্ত্রাস” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উপকূলীয় শহর সাইদার উপকণ্ঠে অবস্থিত আইন আল-হিলওয়ে শরণার্থী শিবিরের একটি মসজিদের পার্কিং এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। হামলার তীব্রতায় গাড়িটি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে অন্তত ১৩ জন প্রাণ হারান এবং আরও চারজন গুরুতর আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরও কয়েকজনকে জরুরি ভিত্তিতে শিবিরের আশপাশের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

লেবাননের সরকারি বার্তাসংস্থা এনএএনএ জানিয়েছে, হামলার সময় বেশ কিছু মানুষ বিকেলের নামাজের পর মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থান করছিলেন। ফলে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।

ইসরায়েলের দাবি হামাসের পাল্টা বক্তব্য

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই হামলার দায় স্বীকার করে জানায়, লক্ষ্য ছিল শরণার্থী শিবিরের ভেতরে অবস্থানকারী হামাস সদস্যরা। দাবি করা হয়, শিবিরের ভেতরে হামাসের একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে উত্তর লেবাননে হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিখাই আদ্রেয়ি বলেন,
“উত্তর সীমান্তে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী হুমকি আমরা বরদাস্ত করবো না। লেবাননে হামাসসহ সক্রিয় সব সশস্ত্র গোষ্ঠী আমাদের নজরে রয়েছে।”

অন্যদিকে হামাস ইসরায়েলের বক্তব্য সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানায়, শরণার্থী শিবিরের ভেতরে তাদের কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নেই। তারা অভিযোগ করে, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে নিরীহ ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ওপর বোমাবর্ষণ করে লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে।
হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়, “এ হামলা বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ছাড়া কিছুই নয়।”

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন—লেবাননে উত্তেজনা বাড়ছে

গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবরের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই লেবাননের ভেতরে বিভিন্ন ফিলিস্তিনি সংগঠনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক টার্গেটেড হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। মঙ্গলবারের হামলার আগে দক্ষিণ লেবাননের আরও একটি এলাকায় দুটি গাড়িকে টার্গেট করে হামলা চালায় ইসরায়েল, যাতে দুইজন নিহত হন।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ২৭০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৮৫০ জন।

ইসরায়েলের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ

লেবাননের রাজনৈতিক বিশ্লেষক করিম এমিল বিতার আল জাজিরাকে বলেন,
“ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর স্বাক্ষরিত সমঝোতা অনুযায়ী তাদের ২৬ জানুয়ারির মধ্যে দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের কথা ছিল, কিন্তু তারা সেই প্রতিশ্রুতি মানেনি।”

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৯,৪৮৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে। লেবাননের সর্বশেষ হামলা সংঘাতকে আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: আল জাজিরা

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা

Update Time : ১০:২০:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
ছবি: ওয়াশিংটন পোস্ট

 

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত একটি ঘনবসতিপূর্ণ ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েল ড্রোন হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবারের এ হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস এই ঘটনাকে “বর্বর আগ্রাসন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সন্ত্রাস” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উপকূলীয় শহর সাইদার উপকণ্ঠে অবস্থিত আইন আল-হিলওয়ে শরণার্থী শিবিরের একটি মসজিদের পার্কিং এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। হামলার তীব্রতায় গাড়িটি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে অন্তত ১৩ জন প্রাণ হারান এবং আরও চারজন গুরুতর আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরও কয়েকজনকে জরুরি ভিত্তিতে শিবিরের আশপাশের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

লেবাননের সরকারি বার্তাসংস্থা এনএএনএ জানিয়েছে, হামলার সময় বেশ কিছু মানুষ বিকেলের নামাজের পর মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থান করছিলেন। ফলে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।

ইসরায়েলের দাবি হামাসের পাল্টা বক্তব্য

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই হামলার দায় স্বীকার করে জানায়, লক্ষ্য ছিল শরণার্থী শিবিরের ভেতরে অবস্থানকারী হামাস সদস্যরা। দাবি করা হয়, শিবিরের ভেতরে হামাসের একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে উত্তর লেবাননে হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিখাই আদ্রেয়ি বলেন,
“উত্তর সীমান্তে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী হুমকি আমরা বরদাস্ত করবো না। লেবাননে হামাসসহ সক্রিয় সব সশস্ত্র গোষ্ঠী আমাদের নজরে রয়েছে।”

অন্যদিকে হামাস ইসরায়েলের বক্তব্য সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানায়, শরণার্থী শিবিরের ভেতরে তাদের কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নেই। তারা অভিযোগ করে, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে নিরীহ ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ওপর বোমাবর্ষণ করে লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে।
হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়, “এ হামলা বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ছাড়া কিছুই নয়।”

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন—লেবাননে উত্তেজনা বাড়ছে

গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবরের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই লেবাননের ভেতরে বিভিন্ন ফিলিস্তিনি সংগঠনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক টার্গেটেড হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। মঙ্গলবারের হামলার আগে দক্ষিণ লেবাননের আরও একটি এলাকায় দুটি গাড়িকে টার্গেট করে হামলা চালায় ইসরায়েল, যাতে দুইজন নিহত হন।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ২৭০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৮৫০ জন।

ইসরায়েলের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ

লেবাননের রাজনৈতিক বিশ্লেষক করিম এমিল বিতার আল জাজিরাকে বলেন,
“ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর স্বাক্ষরিত সমঝোতা অনুযায়ী তাদের ২৬ জানুয়ারির মধ্যে দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের কথা ছিল, কিন্তু তারা সেই প্রতিশ্রুতি মানেনি।”

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৯,৪৮৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে। লেবাননের সর্বশেষ হামলা সংঘাতকে আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: আল জাজিরা