সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিহারের ফলাফল বিস্ময়কর, নির্বাচন শুরু থেকেই সুষ্ঠু হয়নি: রাহুল গান্ধী

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:৩৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৫৯ Time View
রাহুল গান্ধী। ছবি: সংগৃহীত

 

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর ভোটের ফলাফলকে “অবিশ্বাস্য” বলে আখ্যায়িত করেছেন ভারতের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী। যদিও তিনি সরাসরি ভোট কারচুপির অভিযোগ তোলেননি, তবে নির্বাচন যথাযথভাবে হয়নি—এমন প্রশ্ন তুলেছেন স্পষ্টভাবেই। ভোটের ফল প্রকাশের পর তিনি বলেন, “যে নির্বাচন শুরু থেকেই সুষ্ঠুভাবে হয়নি, সেখানে আমাদের জয়ের সুযোগও সংকুচিত হয়ে যায়।”

ভারতের খ্যাতনামা গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাহুল গান্ধী নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় মহাগঠবন্ধনকে ভোট দেওয়া লাখো মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, “বিহারের লাখ লাখ ভোটার যারা মহাগঠবন্ধনের প্রার্থীদের প্রতি বিশ্বাস রেখে ভোট দিয়েছেন—আমি তাদের প্রতি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বিহারের এই ফলাফল সত্যিই বিস্ময়কর ও প্রত্যাশার বাইরে। আমরা এমন একটি নির্বাচনে জয়ী হতে পারিনি, যার সূচনা থেকেই সুষ্ঠুতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল।”

তিনি আরও জানান, কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়া জোট নির্বাচন ফল বিশ্লেষণ করে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। তার ভাষায়, “আমাদের সংগ্রাম সংবিধান ও গণতন্ত্রকে রক্ষার সংগ্রাম। আমরা পিছু হটব না।”

বিহারের নির্বাচন: পরিসংখ্যান প্রেক্ষাপট

বিহার বিধানসভায় মোট আসন সংখ্যা ২৪৩টি। নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে দুই দফায়।
প্রথম দফায় ৬ নভেম্বর মোট ১২১টি আসনে ভোট হয়, যেখানে ভোট পড়ে ৬৫ শতাংশের বেশি।
দ্বিতীয় দফায় ১১ নভেম্বর ১২২টি আসনে ভোটগ্রহণে ভোটারের উপস্থিতি ছিল আরও বেশি—৬৮ শতাংশের ওপরে।
দুই দফা মিলিয়ে মোট ভোট পড়েছে প্রায় ৬৭ শতাংশ।

এই নির্বাচনে বড় দুটি জোট মুখোমুখি হয়—বিজেপি-জেডিইউ নেতৃত্বাধীন এনডিএ এবং কংগ্রেস-আরজেডি নেতৃত্বাধীন মহাগঠবন্ধন।

ফলাফল: বিশাল ব্যবধানে এনডিএর জয়

শুক্রবার রাতে ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ২৪২টি আসনের মধ্যে ২০২টিতে জয় পেয়েছে এনডিএ জোট। অপরদিকে, মহাগঠবন্ধন পেয়েছে মাত্র ৩৫টি আসন—যা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম।

জোটভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী—

  • বিজেপি পেয়েছে ৮৯টি আসন
  • জেডিইউ পেয়েছে ৮৫টি আসন
  • লোক জনশক্তি পার্টি পেয়েছে ১৯টি আসন
  • আওয়াম মোর্চা জিতেছে ৫টি আসন

কংগ্রেসের ভরাডুবি, আরজেডির অবস্থাও সংকটাপন্ন

প্রতিদ্বন্দ্বী মহাগঠবন্ধনের দুই মূল দল কংগ্রেস ও আরজেডি উভয়ই আশানুরূপ ফল করতে ব্যর্থ হয়েছে।

কংগ্রেস:
২০২০ সালের নির্বাচনে ৭০টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ১৯টি আসনে জয় পেয়েছিল দলটি।
কিন্তু এবারে ৬১টি আসনে প্রার্থী দিয়ে জিততে পেরেছে মাত্র ৬টি আসনে

আরজেডি:
২০২০ সালে ১৪৪টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ৭৫টিতে জয়ী হয়েছিল।
কিন্তু এবার ১৪৩টি আসনে লড়াই করে জয় পেয়েছে কেবল ২৫টি আসনে

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের শুরু থেকেই ইভিএম বিতর্ক, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা, স্থানীয় পর্যায়ে ভোটার দমনের অভিযোগ এবং প্রশাসনিক প্রভাব—এই সবকিছুই বিরোধী শিবিরের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করেছে। রাহুল গান্ধীর বক্তব্যও সেই ইঙ্গিতই বহন করে যে, বিরোধী দলগুলো নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করেনি।

ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে প্রভাব

বিহারের এই ফলাফল শুধু রাজ্য রাজনীতিই নয়, ২০২৬ সালের লোকসভা নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিরোধী শিবিরের দুর্বল ফল ইন্ডিয়া জোটের কৌশল পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করেছে। রাহুল গান্ধীর বক্তব্যও সেই বাস্তবতার প্রতিফলন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিহারের ফলাফল বিস্ময়কর, নির্বাচন শুরু থেকেই সুষ্ঠু হয়নি: রাহুল গান্ধী

Update Time : ১০:৩৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
রাহুল গান্ধী। ছবি: সংগৃহীত

 

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর ভোটের ফলাফলকে “অবিশ্বাস্য” বলে আখ্যায়িত করেছেন ভারতের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী। যদিও তিনি সরাসরি ভোট কারচুপির অভিযোগ তোলেননি, তবে নির্বাচন যথাযথভাবে হয়নি—এমন প্রশ্ন তুলেছেন স্পষ্টভাবেই। ভোটের ফল প্রকাশের পর তিনি বলেন, “যে নির্বাচন শুরু থেকেই সুষ্ঠুভাবে হয়নি, সেখানে আমাদের জয়ের সুযোগও সংকুচিত হয়ে যায়।”

ভারতের খ্যাতনামা গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাহুল গান্ধী নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় মহাগঠবন্ধনকে ভোট দেওয়া লাখো মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, “বিহারের লাখ লাখ ভোটার যারা মহাগঠবন্ধনের প্রার্থীদের প্রতি বিশ্বাস রেখে ভোট দিয়েছেন—আমি তাদের প্রতি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বিহারের এই ফলাফল সত্যিই বিস্ময়কর ও প্রত্যাশার বাইরে। আমরা এমন একটি নির্বাচনে জয়ী হতে পারিনি, যার সূচনা থেকেই সুষ্ঠুতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল।”

তিনি আরও জানান, কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়া জোট নির্বাচন ফল বিশ্লেষণ করে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। তার ভাষায়, “আমাদের সংগ্রাম সংবিধান ও গণতন্ত্রকে রক্ষার সংগ্রাম। আমরা পিছু হটব না।”

বিহারের নির্বাচন: পরিসংখ্যান প্রেক্ষাপট

বিহার বিধানসভায় মোট আসন সংখ্যা ২৪৩টি। নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে দুই দফায়।
প্রথম দফায় ৬ নভেম্বর মোট ১২১টি আসনে ভোট হয়, যেখানে ভোট পড়ে ৬৫ শতাংশের বেশি।
দ্বিতীয় দফায় ১১ নভেম্বর ১২২টি আসনে ভোটগ্রহণে ভোটারের উপস্থিতি ছিল আরও বেশি—৬৮ শতাংশের ওপরে।
দুই দফা মিলিয়ে মোট ভোট পড়েছে প্রায় ৬৭ শতাংশ।

এই নির্বাচনে বড় দুটি জোট মুখোমুখি হয়—বিজেপি-জেডিইউ নেতৃত্বাধীন এনডিএ এবং কংগ্রেস-আরজেডি নেতৃত্বাধীন মহাগঠবন্ধন।

ফলাফল: বিশাল ব্যবধানে এনডিএর জয়

শুক্রবার রাতে ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ২৪২টি আসনের মধ্যে ২০২টিতে জয় পেয়েছে এনডিএ জোট। অপরদিকে, মহাগঠবন্ধন পেয়েছে মাত্র ৩৫টি আসন—যা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম।

জোটভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী—

  • বিজেপি পেয়েছে ৮৯টি আসন
  • জেডিইউ পেয়েছে ৮৫টি আসন
  • লোক জনশক্তি পার্টি পেয়েছে ১৯টি আসন
  • আওয়াম মোর্চা জিতেছে ৫টি আসন

কংগ্রেসের ভরাডুবি, আরজেডির অবস্থাও সংকটাপন্ন

প্রতিদ্বন্দ্বী মহাগঠবন্ধনের দুই মূল দল কংগ্রেস ও আরজেডি উভয়ই আশানুরূপ ফল করতে ব্যর্থ হয়েছে।

কংগ্রেস:
২০২০ সালের নির্বাচনে ৭০টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ১৯টি আসনে জয় পেয়েছিল দলটি।
কিন্তু এবারে ৬১টি আসনে প্রার্থী দিয়ে জিততে পেরেছে মাত্র ৬টি আসনে

আরজেডি:
২০২০ সালে ১৪৪টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ৭৫টিতে জয়ী হয়েছিল।
কিন্তু এবার ১৪৩টি আসনে লড়াই করে জয় পেয়েছে কেবল ২৫টি আসনে

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের শুরু থেকেই ইভিএম বিতর্ক, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা, স্থানীয় পর্যায়ে ভোটার দমনের অভিযোগ এবং প্রশাসনিক প্রভাব—এই সবকিছুই বিরোধী শিবিরের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করেছে। রাহুল গান্ধীর বক্তব্যও সেই ইঙ্গিতই বহন করে যে, বিরোধী দলগুলো নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করেনি।

ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে প্রভাব

বিহারের এই ফলাফল শুধু রাজ্য রাজনীতিই নয়, ২০২৬ সালের লোকসভা নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিরোধী শিবিরের দুর্বল ফল ইন্ডিয়া জোটের কৌশল পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করেছে। রাহুল গান্ধীর বক্তব্যও সেই বাস্তবতার প্রতিফলন।