সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইআরজিসি, হামাস ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করবে সিরিয়া — মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাকের ঘোষণা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৩:৩০:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২২৮ Time View
হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সিরিয়ার অন্তর্বর্তী নেতা আল-শারা। ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করবে — বিশেষ করে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি), হামাস ও হিজবুল্লাহসহ বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। এই বক্তব্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত টম ব্যারাক, বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর)।

গত সপ্তাহে সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা হোয়াইট হাউসে যোগ দেন; ইতিহাস অনুযায়ী স্বাধীনতার পর থেকে সিরিয়ার কোনো প্রেসিডেন্টের প্রথম হোয়াইট হাউস সফর এটি—যা দু’দেশের সম্পর্কের একটি নাটকীয় মোড়কে পরিণত হয়েছে। সিরিয়ার এই অভিমুখ পরিবর্তনকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সঙ্কেত হিসেবে দেখছেন।

টম ব্যারাক বলেছে, সিরিয়া ইতোমধ্যেই আইএস (দায়েশ), আইআরজিসি, হামাস, হিজবুল্লাহ এবং “অন্যান্য সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক” মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করবে এবং এসব আতঙ্কিত জাতীয় ও আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর ক্ষুদ্র অসংহত অংশগুলিকে মোকাবিলা ও ধ্বংসে সক্রিয় ভূমিকা নেবে। এই মন্তব্যটি দুই দেশের কৌশলগত সমন্বয় ও নিরাপত্তা-সহযোগিতার একটি নতুন অধ্যায় সূচিত করতে পারে।

ওই সময়ই সিরিয়ান ও মার্কিন কর্মকর্তারা পাশাপাশি তুর্কি প্রতিনিধিদেরও নিয়ে একটি ত্রিপাক্ষিক আলোচনায় বসেন; আলোচ্যবিষয়গুলোর মধ্যে ছিল সিরিয়ার নতুন অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কাঠামো পুনর্গঠন, এবং সিরিয়ান কুর্দিদের নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র বাহিনী (এসডিএফ) কে সিরিয়ার সরকারি কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করার সম্ভাব্য পরিকল্পনা। এই বিষয়গুলো কেবল নিরাপত্তা-ই নয়, বরং সিরিয়ায় অন্তর্ভুক্তি ও পুনর্গঠনের ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

যুক্তরাষ্ট্র-সিরিয়া সম্পর্কের এই দ্রুত পরিবর্তন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নানা প্রশ্নও উত্থাপন করেছে। বিশেষ করে, আইআরজিসি ও হিজবোল্লাহকে একটি সময় সিরিয়ার ঘন এলায়েন্স বলেই দেখা হত; এখন ঐতিহ্যগত বন্ধুী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সিরিয়ার এমন প্রতিশ্রুতি, মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় ধরনের রুপান্তর নির্দেশ করতে পারে। সংবাদ বিশ্লেষকরা বলছেন—এটি শুধু ভূ-রাজনৈতিক অ্যালায়েন্সের পুনর্গঠন নয়, বরং তেল, আর্থিক পুনর্গঠন ও পুনর্নির্মাণ তহবিলের জন্য কড়া কূটনৈতিক ডিলগুলোরও সূচক।

সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উত্থান ও ইসলামের জঙ্গি-পূর্বভূমি থেকে প্রাসঙ্গিক শাখায় রুপান্তর—এই কয়েকটি কারণ মিলিয়ে বাইরের পক্ষগুলো সতর্ক। বিশেষত স্থানীয় ও আঞ্চলিক ছোট-মধ্যম সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কিভাবে প্রতিক্রিয়া দিবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে; পাশাপাশি কংগ্রেস এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও সিরিয়ার উপর থেকে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া বা নিশ্চিহ্ন করার বিষয়ে বিভক্ত।

সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন—যদি সিরিয়া বাস্তবে আইআরজিসি, হামাস ও হেজবোল্লাহর বিরুদ্ধে কার্যকর সহায়তা দিতেই আগ্রহী হয়, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদী নজরদারি, তথ্য-ভিত্তিক অপারেশন এবং আঞ্চলিক সমন্বয়ের মাধ্যমে করতে হবে। অন্যথায়, কেবল কূটনৈতিক ঘোষণা বা টাইপিক্যাল ব্যারিকে­mentো দিয়ে ফলাফল পাওয়া কঠিন হবে।

এই মুহূর্তে যা বলা যায়: সিরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সংলাপ ও সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতি ও নিরাপত্তা মানচিত্রকে বদলে দিতে পারে — তবে বাস্তবে কতটা স্থায়ী ও কার্যকর হবে তা নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ বাস্তব পদক্ষেপ এবং আঞ্চলিক অভিনেতাদের প্রতিক্রিয়ার উপর। 

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আইআরজিসি, হামাস ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করবে সিরিয়া — মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাকের ঘোষণা

Update Time : ০৩:৩০:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সিরিয়ার অন্তর্বর্তী নেতা আল-শারা। ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করবে — বিশেষ করে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি), হামাস ও হিজবুল্লাহসহ বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। এই বক্তব্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত টম ব্যারাক, বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর)।

গত সপ্তাহে সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা হোয়াইট হাউসে যোগ দেন; ইতিহাস অনুযায়ী স্বাধীনতার পর থেকে সিরিয়ার কোনো প্রেসিডেন্টের প্রথম হোয়াইট হাউস সফর এটি—যা দু’দেশের সম্পর্কের একটি নাটকীয় মোড়কে পরিণত হয়েছে। সিরিয়ার এই অভিমুখ পরিবর্তনকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সঙ্কেত হিসেবে দেখছেন।

টম ব্যারাক বলেছে, সিরিয়া ইতোমধ্যেই আইএস (দায়েশ), আইআরজিসি, হামাস, হিজবুল্লাহ এবং “অন্যান্য সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক” মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করবে এবং এসব আতঙ্কিত জাতীয় ও আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর ক্ষুদ্র অসংহত অংশগুলিকে মোকাবিলা ও ধ্বংসে সক্রিয় ভূমিকা নেবে। এই মন্তব্যটি দুই দেশের কৌশলগত সমন্বয় ও নিরাপত্তা-সহযোগিতার একটি নতুন অধ্যায় সূচিত করতে পারে।

ওই সময়ই সিরিয়ান ও মার্কিন কর্মকর্তারা পাশাপাশি তুর্কি প্রতিনিধিদেরও নিয়ে একটি ত্রিপাক্ষিক আলোচনায় বসেন; আলোচ্যবিষয়গুলোর মধ্যে ছিল সিরিয়ার নতুন অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কাঠামো পুনর্গঠন, এবং সিরিয়ান কুর্দিদের নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র বাহিনী (এসডিএফ) কে সিরিয়ার সরকারি কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করার সম্ভাব্য পরিকল্পনা। এই বিষয়গুলো কেবল নিরাপত্তা-ই নয়, বরং সিরিয়ায় অন্তর্ভুক্তি ও পুনর্গঠনের ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

যুক্তরাষ্ট্র-সিরিয়া সম্পর্কের এই দ্রুত পরিবর্তন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নানা প্রশ্নও উত্থাপন করেছে। বিশেষ করে, আইআরজিসি ও হিজবোল্লাহকে একটি সময় সিরিয়ার ঘন এলায়েন্স বলেই দেখা হত; এখন ঐতিহ্যগত বন্ধুী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সিরিয়ার এমন প্রতিশ্রুতি, মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় ধরনের রুপান্তর নির্দেশ করতে পারে। সংবাদ বিশ্লেষকরা বলছেন—এটি শুধু ভূ-রাজনৈতিক অ্যালায়েন্সের পুনর্গঠন নয়, বরং তেল, আর্থিক পুনর্গঠন ও পুনর্নির্মাণ তহবিলের জন্য কড়া কূটনৈতিক ডিলগুলোরও সূচক।

সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উত্থান ও ইসলামের জঙ্গি-পূর্বভূমি থেকে প্রাসঙ্গিক শাখায় রুপান্তর—এই কয়েকটি কারণ মিলিয়ে বাইরের পক্ষগুলো সতর্ক। বিশেষত স্থানীয় ও আঞ্চলিক ছোট-মধ্যম সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কিভাবে প্রতিক্রিয়া দিবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে; পাশাপাশি কংগ্রেস এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও সিরিয়ার উপর থেকে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া বা নিশ্চিহ্ন করার বিষয়ে বিভক্ত।

সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন—যদি সিরিয়া বাস্তবে আইআরজিসি, হামাস ও হেজবোল্লাহর বিরুদ্ধে কার্যকর সহায়তা দিতেই আগ্রহী হয়, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদী নজরদারি, তথ্য-ভিত্তিক অপারেশন এবং আঞ্চলিক সমন্বয়ের মাধ্যমে করতে হবে। অন্যথায়, কেবল কূটনৈতিক ঘোষণা বা টাইপিক্যাল ব্যারিকে­mentো দিয়ে ফলাফল পাওয়া কঠিন হবে।

এই মুহূর্তে যা বলা যায়: সিরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সংলাপ ও সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতি ও নিরাপত্তা মানচিত্রকে বদলে দিতে পারে — তবে বাস্তবে কতটা স্থায়ী ও কার্যকর হবে তা নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ বাস্তব পদক্ষেপ এবং আঞ্চলিক অভিনেতাদের প্রতিক্রিয়ার উপর।