সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মানি লন্ডারিং মামলায় চীনা নারীর কারাদণ্ড

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৩:৩০:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২২৮ Time View
৪৭ বছর বয়সী ওই নারী প্রতারকের নাম ঝিমিন কিয়ান যিনি ‘ইয়াদি ঝ্যাং’ নামেও পরিচিত।

যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্থপাচার মামলায় এক চীনা নারীকে দণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত। ৪৭ বছর বয়সী ঝিমিন কিয়ান, যিনি ‘ইয়াদি ঝ্যাং’ নামেও পরিচিত, তাকে ১১ বছর ৮ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্ট। অভিযোগ, কিয়ান বিশাল বিনিয়োগ প্রতারণার অর্থ বিটকয়েনে রূপান্তর করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচার করেছিলেন।

আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে চীনে এক বৃহৎ বিনিয়োগ প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার মানুষকে ঠকিয়ে তিনি ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেন। এই অর্থ পরে তিনি বিটকয়েন ও বিলাসবহুল সম্পত্তিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করেন।

মামলার তদন্তে জানা গেছে, কিয়ান অর্থপাচারের অংশ হিসেবে প্রায় ৬১,০০০ বিটকয়েন সংগ্রহ করেন, যার বর্তমান বাজারমূল্য ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। এটি যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দের ঘটনা বলে নিশ্চিত করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ।

চীনা কর্তৃপক্ষের হাতে ধরা পড়ার আগেই কিয়ান ২০১৭ সালে দেশ ত্যাগ করে যুক্তরাজ্যে আত্মগোপনে চলে যান। চীনা পুলিশ পরে প্রতারণার কিছু অর্থ উদ্ধার করলেও, কিয়ান প্রায় ৭০,০০০ বিটকয়েন নিজের কাছে রেখে একটি ল্যাপটপে সংরক্ষণ করেন।

২০১৮ সালে তিনি লন্ডনে ৪০.৫ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের তিনটি বিলাসবহুল সম্পত্তি কেনার চেষ্টা করলে ব্যাংকের ‘নো-ইওর-কাস্টমার’ (KYC) যাচাইয়ের সময় তার কার্যকলাপ সন্দেহজনক মনে হয় এবং তদন্ত শুরু হয়।

তবে কিয়ান ২০২০ সালে আবারও পালিয়ে যান। পরে পুলিশ তার লকার থেকে চীনে পাচার করা অর্থের রেকর্ড ও ল্যাপটপসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উদ্ধার করে।

অবশেষে ২০২৪ সালের এপ্রিলে যুক্তরাজ্যে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় কিয়ান ও তার সহযোগী, মালয়েশীয় নাগরিক সেনঘক লিংকে গ্রেফতার করা হয়। তখন তারা লন্ডনে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছিলেন। কিয়ানের কাছ থেকে প্রায় ৬২

মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি, বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও দুটি জাল পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়।

এই মামলায় সহযোগী লিংকে ৪ বছর ১১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মেট্রোপলিটন পুলিশের অর্থনৈতিক ও সাইবার অপরাধ ইউনিটের প্রধান উইল লাইন বলেন,

“এটি যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ জব্দের মানি লন্ডারিং মামলা এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে সংঘটিত সবচেয়ে বড় আর্থিক অপরাধ। এটি প্রমাণ করে—অপরাধীরা যতই প্রযুক্তি ব্যবহার করুক, আইনের হাত থেকে তারা রেহাই পাবে না।”

এই মামলাটি এখন যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থপাচার রোধে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পথ সুগম করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মানি লন্ডারিং মামলায় চীনা নারীর কারাদণ্ড

Update Time : ০৩:৩০:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
৪৭ বছর বয়সী ওই নারী প্রতারকের নাম ঝিমিন কিয়ান যিনি ‘ইয়াদি ঝ্যাং’ নামেও পরিচিত।

যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্থপাচার মামলায় এক চীনা নারীকে দণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত। ৪৭ বছর বয়সী ঝিমিন কিয়ান, যিনি ‘ইয়াদি ঝ্যাং’ নামেও পরিচিত, তাকে ১১ বছর ৮ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্ট। অভিযোগ, কিয়ান বিশাল বিনিয়োগ প্রতারণার অর্থ বিটকয়েনে রূপান্তর করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচার করেছিলেন।

আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে চীনে এক বৃহৎ বিনিয়োগ প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার মানুষকে ঠকিয়ে তিনি ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেন। এই অর্থ পরে তিনি বিটকয়েন ও বিলাসবহুল সম্পত্তিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করেন।

মামলার তদন্তে জানা গেছে, কিয়ান অর্থপাচারের অংশ হিসেবে প্রায় ৬১,০০০ বিটকয়েন সংগ্রহ করেন, যার বর্তমান বাজারমূল্য ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। এটি যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দের ঘটনা বলে নিশ্চিত করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ।

চীনা কর্তৃপক্ষের হাতে ধরা পড়ার আগেই কিয়ান ২০১৭ সালে দেশ ত্যাগ করে যুক্তরাজ্যে আত্মগোপনে চলে যান। চীনা পুলিশ পরে প্রতারণার কিছু অর্থ উদ্ধার করলেও, কিয়ান প্রায় ৭০,০০০ বিটকয়েন নিজের কাছে রেখে একটি ল্যাপটপে সংরক্ষণ করেন।

২০১৮ সালে তিনি লন্ডনে ৪০.৫ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের তিনটি বিলাসবহুল সম্পত্তি কেনার চেষ্টা করলে ব্যাংকের ‘নো-ইওর-কাস্টমার’ (KYC) যাচাইয়ের সময় তার কার্যকলাপ সন্দেহজনক মনে হয় এবং তদন্ত শুরু হয়।

তবে কিয়ান ২০২০ সালে আবারও পালিয়ে যান। পরে পুলিশ তার লকার থেকে চীনে পাচার করা অর্থের রেকর্ড ও ল্যাপটপসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উদ্ধার করে।

অবশেষে ২০২৪ সালের এপ্রিলে যুক্তরাজ্যে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় কিয়ান ও তার সহযোগী, মালয়েশীয় নাগরিক সেনঘক লিংকে গ্রেফতার করা হয়। তখন তারা লন্ডনে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছিলেন। কিয়ানের কাছ থেকে প্রায় ৬২

মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি, বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও দুটি জাল পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়।

এই মামলায় সহযোগী লিংকে ৪ বছর ১১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মেট্রোপলিটন পুলিশের অর্থনৈতিক ও সাইবার অপরাধ ইউনিটের প্রধান উইল লাইন বলেন,

“এটি যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ জব্দের মানি লন্ডারিং মামলা এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে সংঘটিত সবচেয়ে বড় আর্থিক অপরাধ। এটি প্রমাণ করে—অপরাধীরা যতই প্রযুক্তি ব্যবহার করুক, আইনের হাত থেকে তারা রেহাই পাবে না।”

এই মামলাটি এখন যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থপাচার রোধে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পথ সুগম করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।