সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের সঙ্গে অভিবাসন ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী ইতালি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:৫৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২০৯ Time View

বাংলাদেশের সঙ্গে অভিবাসন বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী ইতালি
আইনসম্মত অভিবাসন নিশ্চিতকরণে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর জোর দিলেন রাষ্ট্রদূত আলেসান্দ্রো

বাংলাদেশ ও ইতালির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর ও টেকসই করতে অভিবাসন, বিনিয়োগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্টোনিও আলেসান্দ্রো। তিনি বলেন, ইতালি বাংলাদেশের সঙ্গে বহুমাত্রিক সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে এবং দুই দেশ অভিবাসন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত হয়েছে।

সোমবার (১০ নভেম্বর) রাজধানীতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত এক সেমিনারে রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন। সেমিনারের শিরোনাম ছিল— সম্পর্ক জোরদার: বাংলাদেশইতালি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি

রাষ্ট্রদূত আলেসান্দ্রো বলেন, “অভিবাসন অবশ্যই আইনসিদ্ধ ও নিরাপদ পথে হতে হবে। আমরা চাই বাংলাদেশের নাগরিকরা বৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশ করে সেখানে নিজেদের দক্ষতা ও শ্রম দিয়ে অবদান রাখুক, কিন্তু অবৈধ অনুপ্রবেশ বা মিথ্যা আশ্রয় প্রার্থনা কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং বাংলাদেশের পাসপোর্টের বৈশ্বিক মানকেও নিচে নামিয়ে আনে।”

তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, চলতি বছরে প্রায় ১৮ হাজার বাংলাদেশি নাগরিক লিবিয়া হয়ে অবৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশ করেছেন, অন্যদিকে হাজার বাংলাদেশি বৈধ ভিসা পেয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫৩০ জন শিক্ষার্থী

রাষ্ট্রদূতের মতে, অবৈধ অভিবাসনের এই প্রবণতা রোধে উভয় দেশকেই সচেতনতা ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে। তাঁর ভাষায়, “অবৈধ পথে কেউ গেলে সেটা শুধু ব্যক্তিগত ঝুঁকি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তিরও ক্ষতি।”

বিনিয়োগ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইতালি বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী, তবে এর জন্য প্রয়োজন সরকারি নথিপত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি, শুল্কহার হ্রাস, এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ইতালির বাজারে বেশ জনপ্রিয়, আবার ইতালি থেকে বাংলাদেশে শিল্প যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি আসে। এই পারস্পরিক বাণিজ্যকে আরও সম্প্রসারিত করার সময় এসেছে।”

তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ইতালীয় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে, তবে তাদের আস্থা অর্জনে প্রয়োজন স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত ব্যবসায়িক পরিবেশ।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ে আলেসান্দ্রো বলেন, “ইতালি কোনো দেশের ভূরাজনৈতিক স্বার্থে বা জোটগত কারণে অস্ত্র বিক্রি করে না। তবে বাংলাদেশ যদি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় করতে চায়, সেটি সম্পূর্ণ তাদের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত।”

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক হবে। তিনি বলেন, “ইতালি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে এবং বিশ্বাস করে— সংস্কার ও স্থিতিশীলতা এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি করবে, যাতে কেউ রাজনৈতিক কারণে বিদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য না হয়।”

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, ইউক্রেন যুদ্ধবিষয়ক ব্যস্ততার কারণে স্থগিত হওয়া এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি শিগগিরই ঢাকা সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সেমিনারটির সভাপতিত্ব করেন বিআইআইএসএস মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ইফতেখার আনিস। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক . সৈয়দা রোজানা রশিদ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (পূর্ব ইউরোপ, সিআইএস, পশ্চিম ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন) মোশাররফ হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক . কাজী মারুফুল ইসলাম

সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ও ইতালির সম্পর্ক এখন কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। শ্রমবাজার, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব, প্রতিরক্ষা সংলাপ ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হতে পারে।

শেষে উভয় পক্ষই পারস্পরিক সম্মান, আস্থা কৌশলগত সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ নির্মাণে অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাংলাদেশের সঙ্গে অভিবাসন ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী ইতালি

Update Time : ০৯:৫৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের সঙ্গে অভিবাসন বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী ইতালি
আইনসম্মত অভিবাসন নিশ্চিতকরণে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর জোর দিলেন রাষ্ট্রদূত আলেসান্দ্রো

বাংলাদেশ ও ইতালির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর ও টেকসই করতে অভিবাসন, বিনিয়োগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্টোনিও আলেসান্দ্রো। তিনি বলেন, ইতালি বাংলাদেশের সঙ্গে বহুমাত্রিক সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে এবং দুই দেশ অভিবাসন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত হয়েছে।

সোমবার (১০ নভেম্বর) রাজধানীতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত এক সেমিনারে রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন। সেমিনারের শিরোনাম ছিল— সম্পর্ক জোরদার: বাংলাদেশইতালি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি

রাষ্ট্রদূত আলেসান্দ্রো বলেন, “অভিবাসন অবশ্যই আইনসিদ্ধ ও নিরাপদ পথে হতে হবে। আমরা চাই বাংলাদেশের নাগরিকরা বৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশ করে সেখানে নিজেদের দক্ষতা ও শ্রম দিয়ে অবদান রাখুক, কিন্তু অবৈধ অনুপ্রবেশ বা মিথ্যা আশ্রয় প্রার্থনা কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং বাংলাদেশের পাসপোর্টের বৈশ্বিক মানকেও নিচে নামিয়ে আনে।”

তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, চলতি বছরে প্রায় ১৮ হাজার বাংলাদেশি নাগরিক লিবিয়া হয়ে অবৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশ করেছেন, অন্যদিকে হাজার বাংলাদেশি বৈধ ভিসা পেয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫৩০ জন শিক্ষার্থী

রাষ্ট্রদূতের মতে, অবৈধ অভিবাসনের এই প্রবণতা রোধে উভয় দেশকেই সচেতনতা ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে। তাঁর ভাষায়, “অবৈধ পথে কেউ গেলে সেটা শুধু ব্যক্তিগত ঝুঁকি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তিরও ক্ষতি।”

বিনিয়োগ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইতালি বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী, তবে এর জন্য প্রয়োজন সরকারি নথিপত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি, শুল্কহার হ্রাস, এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ইতালির বাজারে বেশ জনপ্রিয়, আবার ইতালি থেকে বাংলাদেশে শিল্প যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি আসে। এই পারস্পরিক বাণিজ্যকে আরও সম্প্রসারিত করার সময় এসেছে।”

তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ইতালীয় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে, তবে তাদের আস্থা অর্জনে প্রয়োজন স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত ব্যবসায়িক পরিবেশ।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ে আলেসান্দ্রো বলেন, “ইতালি কোনো দেশের ভূরাজনৈতিক স্বার্থে বা জোটগত কারণে অস্ত্র বিক্রি করে না। তবে বাংলাদেশ যদি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় করতে চায়, সেটি সম্পূর্ণ তাদের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত।”

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক হবে। তিনি বলেন, “ইতালি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে এবং বিশ্বাস করে— সংস্কার ও স্থিতিশীলতা এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি করবে, যাতে কেউ রাজনৈতিক কারণে বিদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য না হয়।”

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, ইউক্রেন যুদ্ধবিষয়ক ব্যস্ততার কারণে স্থগিত হওয়া এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি শিগগিরই ঢাকা সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সেমিনারটির সভাপতিত্ব করেন বিআইআইএসএস মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ইফতেখার আনিস। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক . সৈয়দা রোজানা রশিদ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (পূর্ব ইউরোপ, সিআইএস, পশ্চিম ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন) মোশাররফ হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক . কাজী মারুফুল ইসলাম

সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ও ইতালির সম্পর্ক এখন কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। শ্রমবাজার, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব, প্রতিরক্ষা সংলাপ ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হতে পারে।

শেষে উভয় পক্ষই পারস্পরিক সম্মান, আস্থা কৌশলগত সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ নির্মাণে অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।