বিয়ের দাবিতে চাচির ছয় দিন ধরে ভাতিজার বাড়িতে অবস্থান, এলাকায় তোলপাড়
- Update Time : ০২:৫৯:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
- / ১৯১ Time View

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এক বিরল ও বিতর্কিত ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। বিয়ের দাবিতে এক নারী তার ভাতিজার বাড়িতে টানা ছয় দিন ধরে অবস্থান করছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ছাপরহাটি ইউনিয়নের একটি গ্রামে। এ ঘটনার পর থেকেই ভাতিজা (২০) বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই নারী (২৫) তার সাবেক স্বামীর চাচাতো ভাইয়ের ছেলে অর্থাৎ নিজের ভাতিজার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমেছে। আশপাশের লোকজনের মধ্যে এ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। সংবাদমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ভাতিজার পরিবারের সদস্যরা বিব্রত হয়ে পড়েন এবং দ্রুত বাড়ির ফটক বন্ধ করে দেন। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই নারী এখনো বাড়ির ভেতরেই অবস্থান করছেন এবং বিয়ের দাবি থেকে সরে দাঁড়াননি।
স্থানীয় ছাপরহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আনছার আলী সাংবাদিকদের বলেন, “ওই নারী আমাদের জানিয়েছেন, তার দুই থেকে তিন বছরের সম্পর্ক রয়েছে ভাতিজার সঙ্গে। গত শনিবার (১৮ অক্টোবর) তিনি বিয়ের দাবিতে ছেলেটির বাড়িতে আসেন এবং তখন থেকেই অবস্থান করছেন। ঘটনাটি প্রকাশের পরপরই ভাতিজা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনার তিন দিন পর মেয়েটির স্বামী তাকে তালাক দিয়েছেন।”
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কনক কুমার গোস্বামী জানান, “বিষয়টি আগে জানতাম না, আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। প্রয়োজনে সামাজিকভাবে বিষয়টি দেখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
এদিকে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হাকিম আজাদ বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বিষয়টিকে ‘পারিবারিক মর্যাদাহানির ঘটনা’ বলে মন্তব্য করছেন, আবার কেউ কেউ বলছেন, এটি সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের উদাহরণ। স্থানীয়দের ধারণা, দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্কটি আগেই জটিল আকার ধারণ করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে এসেছে বিয়ের দাবির এই অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে।
গ্রামবাসীর একাধিক ব্যক্তি জানান, নারীটি প্রতিদিন ভাতিজার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও তারা তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখছেন না। তিনি দাবি করছেন, “আমি শুধু আমার অধিকার চাই। যিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার কাছেই আমি বিয়ে চাই।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানারকম গুঞ্জন ও তর্ক-বিতর্ক চলছে। কেউ বলছেন, সম্পর্ক থাকলেও এমন প্রকাশ্য অবস্থান সমাজে অস্বস্তি সৃষ্টি করছে; আবার কেউ মনে করেন, মেয়েটি তার অধিকারের জন্য সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন।
ঘটনাটি এখন স্থানীয় প্রশাসনের নজরে এসেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা মীমাংসা হয়নি। গ্রামবাসী অপেক্ষা করছে—বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেওয়া এই নারী শেষ পর্যন্ত তার কাঙ্ক্ষিত প্রতিশ্রুতি পান কি না, নাকি বিষয়টি আরও জটিল দিকে মোড় নেয়।












