সাকিব আল হাসানকে আর কখনো বাংলাদেশের হয়ে খেলতে দেওয়া হবে না, “ফ্যাসিস্ট শাসনের অংশীদার”: ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ
- Update Time : ১০:৩১:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ২৮৭ Time View

বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়ের অন্যতম নাম সাকিব আল হাসান। কিন্তু সেই অধ্যায় যেন শেষ হতে চলেছে চিরতরে। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এই কিংবদন্তি অলরাউন্ডারকে আর কখনো লাল-সবুজ জার্সি গায়ে মাঠে দেখা যাবে না—এমনই চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
সোমবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোর-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আসিফ মাহমুদ বলেন, “তাকে বাংলাদেশের পতাকা বহন করতে দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশের জার্সি গায়ে খেলার সুযোগ করে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এখন থেকে আমার বোর্ডের প্রতি স্পষ্ট নির্দেশনা থাকবে—সাকিব আল হাসান আর কখনো বাংলাদেশ টিমে খেলতে পারবেন না।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের ঝড়
এই সিদ্ধান্তের সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিতর্ক থেকে। গত রোববার রাত ৯টার দিকে সাকিব আল হাসান তাঁর ফেসবুক পেজে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিতে দেখা যায়, সাকিব হাসিনার সঙ্গে সৌহার্দপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “শুভ জন্মদিন, আপা।”
এই পোস্ট ঘিরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ রাত ১০টার দিকে নিজের ফেসবুকে লেখেন, “একজনকে পুনর্বাসন না করায় সহস্র গালি দিয়েছেন আপনারা আমাকে। বাট আই ওয়াজ রাইট। এন্ড অব দ্য ডিসকাশন।”
এর পাল্টা জবাবে রাত ১১টা ২০ মিনিটে সাকিব লেখেন, “যাক, শেষমেশ কেউ একজন স্বীকার করলেন যে তাঁর জন্যই আমার আর বাংলাদেশের জার্সি গায়ে দেওয়া হলো না, দেশের হয়ে খেলতে পারলাম না।”
আসিফ মাহমুদের পাল্টা ব্যাখ্যা
পরদিন বিকেল ৫টার দিকে আবারো নিজের ফেসবুকে লিখেন আসিফ মাহমুদ: “ভাইয়া, আমাকে জোর
সাকিবের অবস্থান
এদিকে সাকিবও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা সবসময় ক্রিকেট দেখতেন, খেলার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। তাই সম্পর্কটা রাজনীতির আগের থেকেই তৈরি। আমি একজনকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছি, এর বাইরে কোনো উদ্দেশ্য বা ইঙ্গিত ছিল না।”
ক্রিকেটাঙ্গনে সাকিবের ভবিষ্যৎ
তবে বিতর্কের ঝড়ে তাঁর ব্যাখ্যা যেন হারিয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে উত্তপ্ত আলোচনা-সমালোচনা। অনেকে মনে করছেন, সাকিবকে এভাবে নির্বাসনে পাঠানো বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বড় ধাক্কা। দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জেতানো এই অলরাউন্ডারকে মাঠে না পাওয়া মানে শুধু একটি খেলোয়াড় হারানো নয়, বরং ক্রিকেট ইতিহাসের একটি অধ্যায়ের ইতি টানা।
অন্যদিকে সমালোচকেরা বলছেন, একজন জাতীয় দলের প্রতিনিধির রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক জাহির করা অনৈতিক। তাঁদের মতে, জাতীয় পতাকা বহনকারীর ক্ষেত্রে নৈতিক অবস্থানই সর্বাগ্রে গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক অভিঘাত
ঘটনার রাজনৈতিক মাত্রা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। সমালোচকেরা বলছেন, সাকিব আল হাসান বর্তমান ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সময় নানা সুবিধা পেয়েছিলেন। তাই অনেকের চোখে তিনি শুধু একজন ক্রিকেটার নন, বরং একসময়কার “ফ্যাসিস্ট শাসনের অংশীদার” হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছেন। ফলে তাঁর পুনর্বাসনের সুযোগ থাকলেও তা যে রাজনৈতিকভাবে জটিল হয়ে উঠেছিল, সেটাই এখন প্রকাশ্যে আসলো।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা না দিলেও ক্রীড়া উপদেষ্টার এই বক্তব্য কার্যত সাকিবের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টেনে দিয়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই—বাংলাদেশ ক্রিকেট কি এভাবে নিজেদের সেরা খেলোয়াড়কে বিদায় জানাবে, নাকি এখনও কোনো সমঝোতার দরজা খোলা থাকবে?











