সময়: বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাখাইনে তীব্র হচ্ছে সংঘাত, টেকনাফে ঢুকে পড়ছে রোহিঙ্গারা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:১৪:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • / ৪৬০ Time View

ROHINGYA 2024

টেকনাফে ঢুকে পড়ছে রোহিঙ্গারা। ছবি: ইত্তেফাক

 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মি সহ কয়েকটি বিদ্রোহী সংগঠনের মধ্যে তীব্র সংঘাত চলছে। এই সহিংসতা থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গারা কৌশলে কক্সবাজারের টেকনাফে প্রবেশ করছে। শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা পর্যন্ত বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা টেকনাফের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের মংডু টাউনশিপ এলাকায় সরকারি বাহিনী ও আরাকান আর্মি সহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত বাড়ছে। শুক্রবার রাত থেকে মংডুর বিভিন্ন এলাকা থেকে মর্টার শেল ও গ্রেনেড-বোমার বিস্ফোরণের শব্দ বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় শোনা যাচ্ছে।

রাখাইনে চলমান এই সংঘাতের মধ্যে সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পেলেও, অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। সীমান্তের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে বাংলাদেশে প্রায় ১২ হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে এবং আরও প্রায় ৫০ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে ঢুকতে প্রস্তুত রয়েছে। এই সংঘাত গত ছয় মাস ধরে চলতে থাকলেও, বর্তমানে তা সর্বাধিক তীব্র আকার ধারণ করেছে।

টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর আরাফা বেগম বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মর্টার শেল ও গ্রেনেড-বোমার বিস্ফোরণে এপারেও ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। বিস্ফোরণের শব্দে মানুষের ঘরবাড়ি কাঁপছে এবং রাতে বিস্ফোরণের আওয়াজে শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে কান্নাকাটি করছে।

উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের নজর এড়িয়ে বহু রোহিঙ্গা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে ঢুকেছে। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা জড়ো হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে।

রাখাইনের মংডু টাউনশিপের বিপরীতে নাফ নদী পার হলেই বাংলাদেশ। টেকনাফের জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, রাতের অন্ধকারে রোহিঙ্গারা নৌকা নিয়ে নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। বেশিরভাগ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় প্রবেশ করছে।

রাতেই বাংলাদেশে চার শতাধিক রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে এবং মংডুর উত্তরের প্যারাংপুরু ও দক্ষিণের ফাদংচা এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করছে। দালালদের মাধ্যমে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে বলে জানা গেছে।

 

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের সদস্য নজির আহমদ বলেন, কেরনতলি সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকালে শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিজিবি এসব রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে।

শুক্রবার রাতে নাফ নদী পার হয়ে কেরনতলির এক বাসিন্দার বাড়িতে আশ্রয় নেয় ১৫ শিশু ও ৯ নারীসহ ৩০ জন রোহিঙ্গা। তাদের মধ্যে জাহেদা বেগম ও নুর জাহান বলেন, মংডুতে সরকারি বাহিনীর সাথে আরাকান আর্মির তীব্র যুদ্ধ চলছে, যা বোমা ও মর্টার শেলের বিস্ফোরণের মাধ্যমে সংঘটিত হচ্ছে।

টেকনাফ বাস স্টেশনের করিম উল্লাহ বলেন, প্রতিদিন মিয়ানমার থেকে আসা নতুন রোহিঙ্গারা গাড়িতে করে ক্যাম্পে চলে যাচ্ছে।

টেকনাফে আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মাইন উদ্দিন বলেন, কিছু রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে প্রবেশ করেছে এবং তাদের নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। নতুন রোহিঙ্গা প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আদনান চৌধুরী বলেন, সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটছে এবং বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে নাফ নদী থেকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে টহল জোরদার করা হয়েছে।

কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা বলেন, বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে নতুন রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিচ্ছেন, তবে কতজন রোহিঙ্গা ঢুকেছে তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই।

এর আগে, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, নতুন করে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৮ হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে।

সুত্রঃইত্তেফাক

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাখাইনে তীব্র হচ্ছে সংঘাত, টেকনাফে ঢুকে পড়ছে রোহিঙ্গারা

Update Time : ১০:১৪:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪
টেকনাফে ঢুকে পড়ছে রোহিঙ্গারা। ছবি: ইত্তেফাক

 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মি সহ কয়েকটি বিদ্রোহী সংগঠনের মধ্যে তীব্র সংঘাত চলছে। এই সহিংসতা থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গারা কৌশলে কক্সবাজারের টেকনাফে প্রবেশ করছে। শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা পর্যন্ত বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা টেকনাফের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের মংডু টাউনশিপ এলাকায় সরকারি বাহিনী ও আরাকান আর্মি সহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত বাড়ছে। শুক্রবার রাত থেকে মংডুর বিভিন্ন এলাকা থেকে মর্টার শেল ও গ্রেনেড-বোমার বিস্ফোরণের শব্দ বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় শোনা যাচ্ছে।

রাখাইনে চলমান এই সংঘাতের মধ্যে সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পেলেও, অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। সীমান্তের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে বাংলাদেশে প্রায় ১২ হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে এবং আরও প্রায় ৫০ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে ঢুকতে প্রস্তুত রয়েছে। এই সংঘাত গত ছয় মাস ধরে চলতে থাকলেও, বর্তমানে তা সর্বাধিক তীব্র আকার ধারণ করেছে।

টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর আরাফা বেগম বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মর্টার শেল ও গ্রেনেড-বোমার বিস্ফোরণে এপারেও ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। বিস্ফোরণের শব্দে মানুষের ঘরবাড়ি কাঁপছে এবং রাতে বিস্ফোরণের আওয়াজে শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে কান্নাকাটি করছে।

উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের নজর এড়িয়ে বহু রোহিঙ্গা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে ঢুকেছে। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা জড়ো হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে।

রাখাইনের মংডু টাউনশিপের বিপরীতে নাফ নদী পার হলেই বাংলাদেশ। টেকনাফের জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, রাতের অন্ধকারে রোহিঙ্গারা নৌকা নিয়ে নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। বেশিরভাগ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় প্রবেশ করছে।

রাতেই বাংলাদেশে চার শতাধিক রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে এবং মংডুর উত্তরের প্যারাংপুরু ও দক্ষিণের ফাদংচা এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করছে। দালালদের মাধ্যমে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে বলে জানা গেছে।

 

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের সদস্য নজির আহমদ বলেন, কেরনতলি সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকালে শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিজিবি এসব রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে।

শুক্রবার রাতে নাফ নদী পার হয়ে কেরনতলির এক বাসিন্দার বাড়িতে আশ্রয় নেয় ১৫ শিশু ও ৯ নারীসহ ৩০ জন রোহিঙ্গা। তাদের মধ্যে জাহেদা বেগম ও নুর জাহান বলেন, মংডুতে সরকারি বাহিনীর সাথে আরাকান আর্মির তীব্র যুদ্ধ চলছে, যা বোমা ও মর্টার শেলের বিস্ফোরণের মাধ্যমে সংঘটিত হচ্ছে।

টেকনাফ বাস স্টেশনের করিম উল্লাহ বলেন, প্রতিদিন মিয়ানমার থেকে আসা নতুন রোহিঙ্গারা গাড়িতে করে ক্যাম্পে চলে যাচ্ছে।

টেকনাফে আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মাইন উদ্দিন বলেন, কিছু রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে প্রবেশ করেছে এবং তাদের নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। নতুন রোহিঙ্গা প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আদনান চৌধুরী বলেন, সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটছে এবং বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে নাফ নদী থেকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে টহল জোরদার করা হয়েছে।

কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা বলেন, বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে নতুন রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিচ্ছেন, তবে কতজন রোহিঙ্গা ঢুকেছে তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই।

এর আগে, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, নতুন করে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৮ হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে।

সুত্রঃইত্তেফাক