সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছেলে আমার মস্ত বড় অফিসার: পরিবার ও সমাজের জন্য সতর্কবার্তা

বিল্লাল হোসেন
  • Update Time : ০৯:৫১:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • / ২৪১ Time View

ঢাকা মিরপুর, সি ব্লকে নুরজাহান বেগম নিজস্ব ফ্ল্যাটে নিঃসঙ্গতা নিয়ে মৃত্যু হয় আর মৃত অবস্থায় এই দুখিনী মা পরে থাকে প্রায় ৭-৮ দিন, শরীরে অসংখ্য পোকা বসবাস শুরু করেছে, তবুও কোন সন্তান খোঁজ নেননি এই মৃত মায়ের, পরে লাশের গন্ধ পেয়ে প্রতিবেশীরা ৯৯৯ লাইনে ফোন দিয়ে পুলিশের সহায়তায় লাশ বের করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

মায়ের প্রতি কতো অবহেলা, অযত্ন, উদাসীন আর অকৃতজ্ঞ হলে ৭-৮ দিনের মধ্যেও তিন ছেলে এবং মেয়েরা একটা বারও ফোন দিয়ে খোঁজ নেওয়ার সুযোগ পাননি।

 

এই তিন ছেলেকেই চাকরিচ্যুত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে যাতে আর কোন মা যেন তাঁর সন্তানের দ্বারা নূরজাহান বেগমের মতো এভাবে অযত্নে আর অবহেলায় মারা না যায়।

এই খবর আজ সমাজের এক করুণ ও বিভৎসতার চিত্র তুলে ধরলো, আর এই খবরে এমনও হবে কোন দম্পতি অনাগত সন্তানের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে অথবা সন্তান লালন-পালনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।

মানলাম মিরপুরের ৭৫ বছরের হতভাগা বৃদ্ধা কিংবা তার স্বামী ঢাবির প্রয়াত অধ্যাপক তাদের উচ্চশিক্ষিত সন্তানদের মানবিক এবং নৈতিক শিক্ষা দিতে পারেন নাই। কিন্তু এই বৃদ্ধা মায়ের ওপর চরম অবহেলাজনিত এই মৃত্যুর দায় কি তার সন্তানদের না? আইন কি বলে?

যদি অবহেলার কারণে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের মৃত্যু ঘটে, কিন্তু উদ্দেশ্য হত্যার ছিল না (Culpable homicide not amounting to murder), তবে ৩০৪ ধারায় সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাবন্দিত্ব বা ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু কথা হলো যে দেশে সরাসরি হত্যার বিচার হয় না, সেই দেশে এই বৃদ্ধা মায়ের ব্যাপক ক্ষমতাধর সন্তানদের বিচার করবে কে? তবে তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করা যেতে পারে। প্রথম ছেলে ড. এ কে এম আনিসুর রহমান, যুগ্ম সচিব- একে বিচারের আওতায় আনা যাবে না। কারণ সরকারি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধের বিচার সরকারই আইন করে রেস্ট্রিক্ট করে দিছে। তার দ্বিতীয় ছেলে ড. এ কে এম আশিকুর রহমান,  বুয়েটের সিএসই বিভাগের একজন অধ্যাপক। বুয়েটের ছাত্ররা ইচ্ছে করলে তাকে বয়কট করতে পারে। কারণ দেশের সব আন্দোলন, সংগ্রাম কিংবা সমাজের যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্ররাই সবসময় প্রতিবাদী ভুমিকা পালন করে। এই জ্ঞানপাপী, অমানুষ এলিট সন্তানদের জন্য এটাই হবে উপযুক্ত শিক্ষা।

নচিকেতার সেই বিখ্যাত গান আজ বাস্তবে মনে হয় আরও প্রাণ পেলো : ছেলে আমার মস্ত বড়ো, মস্ত অফিসার…..!

হে আল্লাহ্ তুমি এধরণের সন্তান তুমি কাউকেই দান করিও না, এধরণের সন্তান থাকার চেয়ে নিঃসন্তান থাকাটাই অধিক শ্রেয়।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিল্লাল হোসেন

বিল্লাল হোসেন, একজন প্রজ্ঞাবান পেশাজীবী, যিনি গণিতের ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ, ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ হিসেবে একটি সমৃদ্ধ ও বহুমুখী ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। তার আর্থিক খাতে যাত্রা তাকে নেতৃত্বের ভূমিকায় নিয়ে গেছে, বিশেষ করে সৌদি আরবের আল-রাজি ব্যাংকিং Inc. এবং ব্যাংক-আল-বিলাদে বিদেশী সম্পর্ক ও করেসপন্ডেন্ট মেইন্টেনেন্স অফিসার হিসেবে। প্রথাগত অর্থনীতির গণ্ডির বাইরে, বিল্লাল একজন প্রখ্যাত লেখক ও বিশ্লেষক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে মননশীল কলাম ও গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করে। তার দক্ষতা বিস্তৃত বিষয় জুড়ে রয়েছে, যেমন অর্থনীতির জটিলতা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, প্রবাসী শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট, রেমিটেন্স, রিজার্ভ এবং অন্যান্য সম্পর্কিত দিক। বিল্লাল তার লেখায় একটি অনন্য বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসেন, যা ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে অর্জিত বাস্তব জ্ঞানকে একত্রিত করে একাডেমিক কঠোরতার সাথে। তার প্রবন্ধগুলো শুধুমাত্র জটিল বিষয়গুলির উপর গভীর বোঝাপড়ার প্রতিফলন নয়, বরং পাঠকদের জন্য জ্ঞানপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে, যা তত্ত্ব ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। বিল্লাল হোসেনের অবদান তার প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে যে, তিনি আমাদের আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বের জটিলতাগুলি উন্মোচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি বিস্তৃত এবং আরও সূক্ষ্ম বোঝাপড়ার দিকে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

ছেলে আমার মস্ত বড় অফিসার: পরিবার ও সমাজের জন্য সতর্কবার্তা

Update Time : ০৯:৫১:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

ঢাকা মিরপুর, সি ব্লকে নুরজাহান বেগম নিজস্ব ফ্ল্যাটে নিঃসঙ্গতা নিয়ে মৃত্যু হয় আর মৃত অবস্থায় এই দুখিনী মা পরে থাকে প্রায় ৭-৮ দিন, শরীরে অসংখ্য পোকা বসবাস শুরু করেছে, তবুও কোন সন্তান খোঁজ নেননি এই মৃত মায়ের, পরে লাশের গন্ধ পেয়ে প্রতিবেশীরা ৯৯৯ লাইনে ফোন দিয়ে পুলিশের সহায়তায় লাশ বের করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

মায়ের প্রতি কতো অবহেলা, অযত্ন, উদাসীন আর অকৃতজ্ঞ হলে ৭-৮ দিনের মধ্যেও তিন ছেলে এবং মেয়েরা একটা বারও ফোন দিয়ে খোঁজ নেওয়ার সুযোগ পাননি।

 

এই তিন ছেলেকেই চাকরিচ্যুত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে যাতে আর কোন মা যেন তাঁর সন্তানের দ্বারা নূরজাহান বেগমের মতো এভাবে অযত্নে আর অবহেলায় মারা না যায়।

এই খবর আজ সমাজের এক করুণ ও বিভৎসতার চিত্র তুলে ধরলো, আর এই খবরে এমনও হবে কোন দম্পতি অনাগত সন্তানের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে অথবা সন্তান লালন-পালনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।

মানলাম মিরপুরের ৭৫ বছরের হতভাগা বৃদ্ধা কিংবা তার স্বামী ঢাবির প্রয়াত অধ্যাপক তাদের উচ্চশিক্ষিত সন্তানদের মানবিক এবং নৈতিক শিক্ষা দিতে পারেন নাই। কিন্তু এই বৃদ্ধা মায়ের ওপর চরম অবহেলাজনিত এই মৃত্যুর দায় কি তার সন্তানদের না? আইন কি বলে?

যদি অবহেলার কারণে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের মৃত্যু ঘটে, কিন্তু উদ্দেশ্য হত্যার ছিল না (Culpable homicide not amounting to murder), তবে ৩০৪ ধারায় সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাবন্দিত্ব বা ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু কথা হলো যে দেশে সরাসরি হত্যার বিচার হয় না, সেই দেশে এই বৃদ্ধা মায়ের ব্যাপক ক্ষমতাধর সন্তানদের বিচার করবে কে? তবে তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করা যেতে পারে। প্রথম ছেলে ড. এ কে এম আনিসুর রহমান, যুগ্ম সচিব- একে বিচারের আওতায় আনা যাবে না। কারণ সরকারি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধের বিচার সরকারই আইন করে রেস্ট্রিক্ট করে দিছে। তার দ্বিতীয় ছেলে ড. এ কে এম আশিকুর রহমান,  বুয়েটের সিএসই বিভাগের একজন অধ্যাপক। বুয়েটের ছাত্ররা ইচ্ছে করলে তাকে বয়কট করতে পারে। কারণ দেশের সব আন্দোলন, সংগ্রাম কিংবা সমাজের যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্ররাই সবসময় প্রতিবাদী ভুমিকা পালন করে। এই জ্ঞানপাপী, অমানুষ এলিট সন্তানদের জন্য এটাই হবে উপযুক্ত শিক্ষা।

নচিকেতার সেই বিখ্যাত গান আজ বাস্তবে মনে হয় আরও প্রাণ পেলো : ছেলে আমার মস্ত বড়ো, মস্ত অফিসার…..!

হে আল্লাহ্ তুমি এধরণের সন্তান তুমি কাউকেই দান করিও না, এধরণের সন্তান থাকার চেয়ে নিঃসন্তান থাকাটাই অধিক শ্রেয়।