ছেলে আমার মস্ত বড় অফিসার: পরিবার ও সমাজের জন্য সতর্কবার্তা
- Update Time : ০৯:৫১:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
- / ২৪১ Time View

ঢাকা মিরপুর, সি ব্লকে নুরজাহান বেগম নিজস্ব ফ্ল্যাটে নিঃসঙ্গতা নিয়ে মৃত্যু হয় আর মৃত অবস্থায় এই দুখিনী মা পরে থাকে প্রায় ৭-৮ দিন, শরীরে অসংখ্য পোকা বসবাস শুরু করেছে, তবুও কোন সন্তান খোঁজ নেননি এই মৃত মায়ের, পরে লাশের গন্ধ পেয়ে প্রতিবেশীরা ৯৯৯ লাইনে ফোন দিয়ে পুলিশের সহায়তায় লাশ বের করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
মায়ের প্রতি কতো অবহেলা, অযত্ন, উদাসীন আর অকৃতজ্ঞ হলে ৭-৮ দিনের মধ্যেও তিন ছেলে এবং মেয়েরা একটা বারও ফোন দিয়ে খোঁজ নেওয়ার সুযোগ পাননি।
এই তিন ছেলেকেই চাকরিচ্যুত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে যাতে আর কোন মা যেন তাঁর সন্তানের দ্বারা নূরজাহান বেগমের মতো এভাবে অযত্নে আর অবহেলায় মারা না যায়।
এই খবর আজ সমাজের এক করুণ ও বিভৎসতার চিত্র তুলে ধরলো, আর এই খবরে এমনও হবে কোন দম্পতি অনাগত সন্তানের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে অথবা সন্তান লালন-পালনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।
মানলাম মিরপুরের ৭৫ বছরের হতভাগা বৃদ্ধা কিংবা তার স্বামী ঢাবির প্রয়াত অধ্যাপক তাদের উচ্চশিক্ষিত সন্তানদের মানবিক এবং নৈতিক শিক্ষা দিতে পারেন নাই। কিন্তু এই বৃদ্ধা মায়ের ওপর চরম অবহেলাজনিত এই মৃত্যুর দায় কি তার সন্তানদের না? আইন কি বলে?
যদি অবহেলার কারণে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের মৃত্যু ঘটে, কিন্তু উদ্দেশ্য হত্যার ছিল না (Culpable homicide not amounting to murder), তবে ৩০৪ ধারায় সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাবন্দিত্ব বা ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু কথা হলো যে দেশে সরাসরি হত্যার বিচার হয় না, সেই দেশে এই বৃদ্ধা মায়ের ব্যাপক ক্ষমতাধর সন্তানদের বিচার করবে কে? তবে তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করা যেতে পারে। প্রথম ছেলে ড. এ কে এম আনিসুর রহমান, যুগ্ম সচিব- একে বিচারের আওতায় আনা যাবে না। কারণ সরকারি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধের বিচার সরকারই আইন করে রেস্ট্রিক্ট করে দিছে। তার দ্বিতীয় ছেলে ড. এ কে এম আশিকুর রহমান, বুয়েটের সিএসই বিভাগের একজন অধ্যাপক। বুয়েটের ছাত্ররা ইচ্ছে করলে তাকে বয়কট করতে পারে। কারণ দেশের সব আন্দোলন, সংগ্রাম কিংবা সমাজের যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্ররাই সবসময় প্রতিবাদী ভুমিকা পালন করে। এই জ্ঞানপাপী, অমানুষ এলিট সন্তানদের জন্য এটাই হবে উপযুক্ত শিক্ষা।
নচিকেতার সেই বিখ্যাত গান আজ বাস্তবে মনে হয় আরও প্রাণ পেলো : ছেলে আমার মস্ত বড়ো, মস্ত অফিসার…..!
হে আল্লাহ্ তুমি এধরণের সন্তান তুমি কাউকেই দান করিও না, এধরণের সন্তান থাকার চেয়ে নিঃসন্তান থাকাটাই অধিক শ্রেয়।














