সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমি কাউকে ধর্ষণ করিনি: এপস্টাইন ইস্যুতে ট্রাম্পের জোরালো দাবি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:১৭:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৯৩ Time View

ওয়াশিংটনে ‘হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনার’ অনুষ্ঠানে সশস্ত্র হামলার চেষ্টা চালানো এক ব্যক্তির ইশতেহার নিয়ে প্রশ্ন করায় এক সাংবাদিকের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রোববার (২৭ এপ্রিল) CBS News-এর সাংবাদিক নোরাহ ও’ডোনেল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজেকে কোনো ধরনের অনৈতিক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলে দাবি করেন। একপর্যায়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি ধর্ষক নই, আমি কাউকে ধর্ষণ করিনি।”

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, সংবাদমাধ্যম ইচ্ছাকৃতভাবে এক ‘অসুস্থ’ ব্যক্তির বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি মনে করেন, ওই ইশতেহারের কিছু বক্তব্য প্রয়াত বিতর্কিত অর্থদাতা জেফ্রি এপস্টাইন-এর সঙ্গে তার সম্পর্কের ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, যদিও সেখানে সরাসরি এপস্টাইনের নাম উল্লেখ ছিল না।

তিনি দাবি করেন, এসব অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তিনি সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ। উল্টো তিনি ডেমোক্র্যাট শিবিরের নেতাদের দিকে অভিযোগ তুলে বলেন, বিভিন্ন কেলেঙ্কারির সঙ্গে তারাই বেশি জড়িত।

হামলার চেষ্টা চালানো ক্যালিফোর্নিয়ার ৩১ বছর বয়সী বাসিন্দা কোল টমাস অ্যালেন সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ওই ব্যক্তি একজন ‘উগ্রবাদী’ এবং ‘ধর্মবিদ্বেষী’। তার দাবি, অ্যালেন একসময় ধর্মবিশ্বাসী থাকলেও পরে চরমপন্থী হয়ে ওঠেন।

রাজনৈতিক সহিংসতার জন্য ট্রাম্প বিরোধী দলীয় নেতাদের ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’কে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্যই দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। গত দুই বছরে এটি তার ওপর তৃতীয় দফার হামলার চেষ্টা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ঘটনার সময় নিজের অবস্থান সম্পর্কে ট্রাম্প জানান, গুলির শব্দ শুনেও তিনি বিচলিত হননি। বরং পরিস্থিতি নিজে পর্যবেক্ষণ করতে চেয়েছিলেন। এ সময় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হলেও ট্রাম্প কিছুটা সময় সেখানে অবস্থান করেন।

এদিকে, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রশংসা করে তিনি বলেন, পুরো পরিস্থিতি তিনি অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন।

এই ঘটনার মাধ্যমে ট্রাম্প একদিকে রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেছেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আমি কাউকে ধর্ষণ করিনি: এপস্টাইন ইস্যুতে ট্রাম্পের জোরালো দাবি

Update Time : ১২:১৭:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

ওয়াশিংটনে ‘হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনার’ অনুষ্ঠানে সশস্ত্র হামলার চেষ্টা চালানো এক ব্যক্তির ইশতেহার নিয়ে প্রশ্ন করায় এক সাংবাদিকের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রোববার (২৭ এপ্রিল) CBS News-এর সাংবাদিক নোরাহ ও’ডোনেল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজেকে কোনো ধরনের অনৈতিক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলে দাবি করেন। একপর্যায়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি ধর্ষক নই, আমি কাউকে ধর্ষণ করিনি।”

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, সংবাদমাধ্যম ইচ্ছাকৃতভাবে এক ‘অসুস্থ’ ব্যক্তির বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি মনে করেন, ওই ইশতেহারের কিছু বক্তব্য প্রয়াত বিতর্কিত অর্থদাতা জেফ্রি এপস্টাইন-এর সঙ্গে তার সম্পর্কের ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, যদিও সেখানে সরাসরি এপস্টাইনের নাম উল্লেখ ছিল না।

তিনি দাবি করেন, এসব অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তিনি সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ। উল্টো তিনি ডেমোক্র্যাট শিবিরের নেতাদের দিকে অভিযোগ তুলে বলেন, বিভিন্ন কেলেঙ্কারির সঙ্গে তারাই বেশি জড়িত।

হামলার চেষ্টা চালানো ক্যালিফোর্নিয়ার ৩১ বছর বয়সী বাসিন্দা কোল টমাস অ্যালেন সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ওই ব্যক্তি একজন ‘উগ্রবাদী’ এবং ‘ধর্মবিদ্বেষী’। তার দাবি, অ্যালেন একসময় ধর্মবিশ্বাসী থাকলেও পরে চরমপন্থী হয়ে ওঠেন।

রাজনৈতিক সহিংসতার জন্য ট্রাম্প বিরোধী দলীয় নেতাদের ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’কে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্যই দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। গত দুই বছরে এটি তার ওপর তৃতীয় দফার হামলার চেষ্টা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ঘটনার সময় নিজের অবস্থান সম্পর্কে ট্রাম্প জানান, গুলির শব্দ শুনেও তিনি বিচলিত হননি। বরং পরিস্থিতি নিজে পর্যবেক্ষণ করতে চেয়েছিলেন। এ সময় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হলেও ট্রাম্প কিছুটা সময় সেখানে অবস্থান করেন।

এদিকে, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রশংসা করে তিনি বলেন, পুরো পরিস্থিতি তিনি অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন।

এই ঘটনার মাধ্যমে ট্রাম্প একদিকে রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেছেন।