আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ: কোরআন ও হাদিসে নারীর অধিকার ও মর্যাদা
- Update Time : ০২:৩৪:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
- / ১৮৯ Time View

আজ (রোববার, ৮ মার্চ) সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য—‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার।’ দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, সম্মাননা প্রদানসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে নারীর অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে ইসলাম বহু আগেই একটি সুস্পষ্ট ও ন্যায়ভিত্তিক কাঠামো প্রদান করেছে, যা কোরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
ইসলামের দৃষ্টিতে নারী ও পুরুষ উভয়েই আল্লাহর সৃষ্টির অংশ এবং মর্যাদার দিক থেকে তারা সমান। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন: “হে মানবজাতি! আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি।” (সূরা হুজুরাত: ১৩)। এই আয়াত মানবসমাজে নারী-পুরুষের সমমর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তি স্থাপন করে। ইসলাম ঘোষণা করেছে যে মানুষের মর্যাদা নির্ধারণ হয় তার তাকওয়া বা নৈতিকতার দ্বারা, লিঙ্গের দ্বারা নয়।
নারীর সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে ইসলাম অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।” এই হাদিসের মাধ্যমে পারিবারিক জীবনে নারীর প্রতি সদাচরণ, ভালোবাসা ও সম্মানের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। ইসলামের ইতিহাসে দেখা যায়, নবী করিম (সা.) তাঁর স্ত্রীদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ও শ্রদ্ধাশীল আচরণ করতেন এবং মুসলিম সমাজকে একই শিক্ষা দিয়েছেন।
ইসলাম নারীদের শিক্ষা লাভের অধিকারও নিশ্চিত করেছে। নবী করিম (সা.) বলেছেন, “জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য ফরজ।” এই নির্দেশনার মাধ্যমে ইসলাম নারীর শিক্ষার গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইতিহাসে দেখা যায়, ইসলামের প্রারম্ভিক যুগেই অসংখ্য নারী জ্ঞানচর্চা, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
অর্থনৈতিক অধিকারেও ইসলাম নারীদের স্বতন্ত্র মর্যাদা দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে: “পুরুষ যা উপার্জন করে তার অংশ তার জন্য, আর নারী যা উপার্জন করে তার অংশ তার জন্য।” (সূরা নিসা: ৩২)। অর্থাৎ নারী নিজস্ব সম্পত্তির মালিক হতে পারেন, ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারেন এবং তার উপার্জনের ওপর পূর্ণ অধিকার রাখেন। ইসলামের ইতিহাসে খাদিজা (রা.) একজন সফল ব্যবসায়ী নারী হিসেবে সুপরিচিত।
পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে নারীর মর্যাদা রক্ষার বিষয়েও ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। কোরআনে মায়ের মর্যাদা সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, সন্তানের প্রতি মায়ের ত্যাগ ও কষ্টের কারণে তাকে বিশেষ সম্মান দিতে হবে। এক হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেছেন, “তোমার জান্নাত তোমার মায়ের পদতলে।” এই বাণী ইসলামে মাতৃত্বের মর্যাদা কতটা উচ্চ তা স্পষ্ট করে।
আধুনিক বিশ্বে আন্তর্জাতিক নারী দিবস নারীর অধিকার, সমতা ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। তবে ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, নারীর অধিকার কোনো আধুনিক ধারণা নয়; বরং প্রায় চৌদ্দশ বছর আগেই কোরআন ও হাদিসে নারীর শিক্ষা, সম্পত্তি, সম্মান, নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশের সব নারীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী দিবস প্রথম স্বীকৃতি পায় ১৯৭৫ সালে, যখন জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। তবে এর পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকদের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস, যা উনবিংশ শতাব্দীর শ্রম আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত।
আজকের দিনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়; এটি নারী-পুরুষের পারস্পরিক সম্মান, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান। কোরআন ও হাদিসের আলোকে নারীর মর্যাদা ও অধিকারকে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।














