সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধ ১০ দিনের বেশি চললে ক্ষেপণাস্ত্র সংকটে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র: পেন্টাগনের সতর্কবার্তা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:২৩:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
  • / ১৬৩ Time View

 

ইরান–এর সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাত যদি আরও ১০ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মজুত বিপজ্জনক মাত্রায় নেমে আসতে পারে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে পেন্টাগন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের চতুর্থ দিনে উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–কে সম্ভাব্য এই ঝুঁকির বিষয়ে অবহিত করেছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত কেবল সামরিক চাপই সৃষ্টি করবে না; বরং যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুল অর্থ ব্যয়ে গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র পুনরায় সংগ্রহ করতে হবে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং এই মজুত দিয়ে দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চালানো সম্ভব।

ফাঁস হওয়া তথ্যানুযায়ী, বিশেষ করে ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার ঘাটতি সবচেয়ে বেশি প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েল ও ইউক্রেনকে বিপুল সামরিক সহায়তা দেওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুত ইতোমধ্যে সংকুচিত হয়েছে। ফলে নতুন করে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে জড়ালে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা চাপে পড়তে পারে।

গত বছরের ইরান সংশ্লিষ্ট সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের থাড ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ২৫ শতাংশ ব্যবহার করেছিল বলে জানা গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ব্যাপক হারে ড্রোন ও রকেট ব্যবহার করছে। এসব মোকাবিলায় যে উন্নত ইন্টারসেপ্টর প্রয়োজন, সেগুলোর উৎপাদন হার তুলনামূলক ধীর। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরান মাসে প্রায় ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হলেও যুক্তরাষ্ট্র মাসে মাত্র ৬ থেকে ৭টি ইন্টারসেপ্টর উৎপাদন করতে পারে—যা দীর্ঘমেয়াদে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে।

যুদ্ধের আর্থিক বোঝা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পরিচালনায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬৫ লাখ ডলার ব্যয় হয়। অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই শতকোটি ডলার ব্যয়ের তথ্য উঠে এসেছে। পেন হোয়ার্টন বাজেট মডেলের পরিচালক কেন্ট স্মেটার্স পূর্বাভাস দিয়েছেন, সংঘাত কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হলে মোট ব্যয় ২০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জেডিএএম কিট এবং নৌবাহিনীর এসএম–৩ ইন্টারসেপ্টরের মজুতও নিম্নমুখী। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী ও ইরান-সম্পর্কিত অভিযানে বারবার এসব ব্যবহারের কারণেই এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত রাশিয়া বা চীনের মতো পরাশক্তির সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি ও তীব্র সংঘাতের জন্য নকশা করা হয়েছিল। কিন্তু ইরানের মতো দেশের দীর্ঘস্থায়ী, স্বল্পব্যয়ী ড্রোন ও রকেট কৌশলের বিপরীতে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা—উভয়ই চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইরান যুদ্ধ ১০ দিনের বেশি চললে ক্ষেপণাস্ত্র সংকটে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র: পেন্টাগনের সতর্কবার্তা

Update Time : ০২:২৩:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

 

ইরান–এর সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাত যদি আরও ১০ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মজুত বিপজ্জনক মাত্রায় নেমে আসতে পারে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে পেন্টাগন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের চতুর্থ দিনে উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–কে সম্ভাব্য এই ঝুঁকির বিষয়ে অবহিত করেছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত কেবল সামরিক চাপই সৃষ্টি করবে না; বরং যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুল অর্থ ব্যয়ে গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র পুনরায় সংগ্রহ করতে হবে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং এই মজুত দিয়ে দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চালানো সম্ভব।

ফাঁস হওয়া তথ্যানুযায়ী, বিশেষ করে ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার ঘাটতি সবচেয়ে বেশি প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েল ও ইউক্রেনকে বিপুল সামরিক সহায়তা দেওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুত ইতোমধ্যে সংকুচিত হয়েছে। ফলে নতুন করে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে জড়ালে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা চাপে পড়তে পারে।

গত বছরের ইরান সংশ্লিষ্ট সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের থাড ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ২৫ শতাংশ ব্যবহার করেছিল বলে জানা গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ব্যাপক হারে ড্রোন ও রকেট ব্যবহার করছে। এসব মোকাবিলায় যে উন্নত ইন্টারসেপ্টর প্রয়োজন, সেগুলোর উৎপাদন হার তুলনামূলক ধীর। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরান মাসে প্রায় ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হলেও যুক্তরাষ্ট্র মাসে মাত্র ৬ থেকে ৭টি ইন্টারসেপ্টর উৎপাদন করতে পারে—যা দীর্ঘমেয়াদে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে।

যুদ্ধের আর্থিক বোঝা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পরিচালনায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬৫ লাখ ডলার ব্যয় হয়। অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই শতকোটি ডলার ব্যয়ের তথ্য উঠে এসেছে। পেন হোয়ার্টন বাজেট মডেলের পরিচালক কেন্ট স্মেটার্স পূর্বাভাস দিয়েছেন, সংঘাত কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হলে মোট ব্যয় ২০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জেডিএএম কিট এবং নৌবাহিনীর এসএম–৩ ইন্টারসেপ্টরের মজুতও নিম্নমুখী। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী ও ইরান-সম্পর্কিত অভিযানে বারবার এসব ব্যবহারের কারণেই এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত রাশিয়া বা চীনের মতো পরাশক্তির সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি ও তীব্র সংঘাতের জন্য নকশা করা হয়েছিল। কিন্তু ইরানের মতো দেশের দীর্ঘস্থায়ী, স্বল্পব্যয়ী ড্রোন ও রকেট কৌশলের বিপরীতে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা—উভয়ই চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি