সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হার্ভার্ডের সঙ্গে সব একাডেমিক সম্পর্ক ছিন্ন করছে পেন্টাগন

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:২০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৩৭ Time View
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি সংগৃহীত

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সব ধরনের একাডেমিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে হার্ভার্ডের সঙ্গে সামরিক শিক্ষা, ফেলোশিপ ও বিভিন্ন সার্টিফিকেট কোর্স নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে পেন্টাগন এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। খবর প্রকাশ করেছে এএফপি।

আইভি লিগভুক্ত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ‘ওক’ বা অতি-উদারপন্থী মতাদর্শ প্রচারের অভিযোগ তুলেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই আদর্শিক বিরোধের জের ধরেই পেন্টাগন এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে পেন্টাগন আমাদের সেরা ও মেধাবী কর্মকর্তাদের উচ্চশিক্ষার জন্য হার্ভার্ডে পাঠিয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, বিশ্ববিদ্যালয়টি আমাদের লড়াকু সৈনিকদের গুরুত্ব ও মূল্যবোধকে সম্মান করবে।”

তবে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “বাস্তবে দেখা গেছে, আমাদের অনেক কর্মকর্তা হার্ভার্ড থেকে ফিরে আসছেন বিশ্বায়ন ও উগ্র আদর্শে প্রভাবিত হয়ে। এসব চিন্তাধারা আমাদের সামরিক বাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কোনো সহায়তা করে না।”

পেন্টাগন জানিয়েছে, ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। তবে বর্তমানে যেসব সামরিক কর্মকর্তা হার্ভার্ডে অধ্যয়নরত আছেন, তারা তাদের কোর্স শেষ করার সুযোগ পাবেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

 

পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে পিট হেগসেথ লেখেন, “হার্ভার্ড ‘ওক’ বা অতি-উদারপন্থী হতে পারে, কিন্তু যুদ্ধ দপ্তর পেন্টাগন তা নয়।”

তিনি আরও জানান, সামরিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে পেন্টাগন এখন আইভি লিগভুক্ত অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও তাদের সম্পর্ক পর্যালোচনা করবে। লক্ষ্য হলো—এসব প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যৎ উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা পেন্টাগনের নিজস্ব গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের তুলনায় কতটা মানসম্মত ও সাশ্রয়ী শিক্ষা দিতে পারছে, তা যাচাই করা।

উল্লেখ্য, পিট হেগসেথ নিজেও আইভি লিগের সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি প্রিন্সটন ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তবে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, তিনি একপর্যায়ে তার হার্ভার্ড ডিগ্রি ফেরত পাঠিয়েছিলেন। ফক্স নিউজের সাবেক এই সঞ্চালক দীর্ঘদিন ধরেই হার্ভার্ডের বামপন্থী নীতির কড়া সমালোচক।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের সময় হার্ভার্ডসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ইহুদি শিক্ষার্থীদের যথাযথ সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন আইনি পদক্ষেপ ও বড় অঙ্কের জরিমানার দাবিও তুলেছে।

বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের এমন চাপ একাডেমিক স্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি তৈরি করছে। হার্ভার্ডের সাবেক প্রেসিডেন্টসহ অনেক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প হার্ভার্ডের প্রায় ২৬০ কোটি ডলারের সরকারি অনুদান কমানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপের পদক্ষেপও নেন, যারা বর্তমানে হার্ভার্ডের মোট শিক্ষার্থীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

হার্ভার্ডের সঙ্গে সব একাডেমিক সম্পর্ক ছিন্ন করছে পেন্টাগন

Update Time : ০৯:২০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি সংগৃহীত

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সব ধরনের একাডেমিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে হার্ভার্ডের সঙ্গে সামরিক শিক্ষা, ফেলোশিপ ও বিভিন্ন সার্টিফিকেট কোর্স নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে পেন্টাগন এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। খবর প্রকাশ করেছে এএফপি।

আইভি লিগভুক্ত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ‘ওক’ বা অতি-উদারপন্থী মতাদর্শ প্রচারের অভিযোগ তুলেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই আদর্শিক বিরোধের জের ধরেই পেন্টাগন এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে পেন্টাগন আমাদের সেরা ও মেধাবী কর্মকর্তাদের উচ্চশিক্ষার জন্য হার্ভার্ডে পাঠিয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, বিশ্ববিদ্যালয়টি আমাদের লড়াকু সৈনিকদের গুরুত্ব ও মূল্যবোধকে সম্মান করবে।”

তবে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “বাস্তবে দেখা গেছে, আমাদের অনেক কর্মকর্তা হার্ভার্ড থেকে ফিরে আসছেন বিশ্বায়ন ও উগ্র আদর্শে প্রভাবিত হয়ে। এসব চিন্তাধারা আমাদের সামরিক বাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কোনো সহায়তা করে না।”

পেন্টাগন জানিয়েছে, ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। তবে বর্তমানে যেসব সামরিক কর্মকর্তা হার্ভার্ডে অধ্যয়নরত আছেন, তারা তাদের কোর্স শেষ করার সুযোগ পাবেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

 

পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে পিট হেগসেথ লেখেন, “হার্ভার্ড ‘ওক’ বা অতি-উদারপন্থী হতে পারে, কিন্তু যুদ্ধ দপ্তর পেন্টাগন তা নয়।”

তিনি আরও জানান, সামরিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে পেন্টাগন এখন আইভি লিগভুক্ত অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও তাদের সম্পর্ক পর্যালোচনা করবে। লক্ষ্য হলো—এসব প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যৎ উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা পেন্টাগনের নিজস্ব গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের তুলনায় কতটা মানসম্মত ও সাশ্রয়ী শিক্ষা দিতে পারছে, তা যাচাই করা।

উল্লেখ্য, পিট হেগসেথ নিজেও আইভি লিগের সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি প্রিন্সটন ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তবে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, তিনি একপর্যায়ে তার হার্ভার্ড ডিগ্রি ফেরত পাঠিয়েছিলেন। ফক্স নিউজের সাবেক এই সঞ্চালক দীর্ঘদিন ধরেই হার্ভার্ডের বামপন্থী নীতির কড়া সমালোচক।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের সময় হার্ভার্ডসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ইহুদি শিক্ষার্থীদের যথাযথ সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন আইনি পদক্ষেপ ও বড় অঙ্কের জরিমানার দাবিও তুলেছে।

বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের এমন চাপ একাডেমিক স্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি তৈরি করছে। হার্ভার্ডের সাবেক প্রেসিডেন্টসহ অনেক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প হার্ভার্ডের প্রায় ২৬০ কোটি ডলারের সরকারি অনুদান কমানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপের পদক্ষেপও নেন, যারা বর্তমানে হার্ভার্ডের মোট শিক্ষার্থীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ।