সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ভাইভায় ডিজিটাল জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:৩০:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৩১ Time View

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সারা দেশের ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী এখন চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি জেলা পর্যায়ে ভাইভা পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) মৌখিক পরীক্ষার নম্বর যাচাই-বাছাইসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

অধিদপ্তর সূত্র জানায়, কারিগরি প্রক্রিয়া শেষ হলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। তবে শুরু থেকেই দ্রুতগতির এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে যে ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছিল, মৌখিক পরীক্ষার সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বাস্তব প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বিশেষ করে ভাইভা বোর্ডে সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়ে একাধিক ‘ভুয়া’ প্রার্থী শনাক্ত হওয়ায় প্রকৃত চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দিনাজপুরে এমনই একটি ঘটনায় ভাইভা বোর্ডে ১১ জন প্রার্থী জালিয়াতির অভিযোগে আটক হন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মৌখিক পরীক্ষা দিতে এসে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) হাবিবুল হাসানের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ওই প্রার্থীরা জালিয়াতির বিষয়টি স্বীকার করেন। আটককৃতদের একজন গোলাম রাফসানী জানান, ১০ লাখ টাকার চুক্তিতে তার হয়ে অন্য একজন লিখিত পরীক্ষা দিয়েছিলেন। একই ধরনের ডিভাইস ব্যবহার ও প্রতারণার অভিযোগে মানস চন্দ্র রায়সহ আরও ১০ জন আটক হন।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ১১ জনই অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অস্তিত্বের ইঙ্গিত মিলেছে, যেখানে শিক্ষা অফিসের কিছু কর্মচারী ও শিক্ষকদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে।

বর্তমানে সারা দেশে ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে। এই সংকট নিরসনের লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এবার ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদের বিপরীতে রেকর্ডসংখ্যক পরীক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান জানান, শুধু সহকারী শিক্ষক নয়—দেশে বর্তমানে প্রায় ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে। এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ মহলের নির্দেশনায় অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং এতে অধিদপ্তরের কোনো ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য নেই।

উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৮ জন প্রার্থী। মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে, ২১ জানুয়ারি ফলাফল প্রকাশ করা হয়—যা সময়ের বিচারে রেকর্ড। তবে ডিজিটাল জালিয়াতি, সার্টিফিকেট নম্বর বাতিল এবং ভাইভায় নতুন পাস-ফেল পদ্ধতি চালুর কারণে চাকরিপ্রার্থীদের একটি বড় অংশের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে জালিয়াতি চক্র নির্মূল এবং প্রকৃত মেধাবীদের নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ প্রার্থীরা। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বর্তমানে ত্রুটিমুক্ত ও নির্ভুল মেধা তালিকা প্রণয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ভাইভায় ডিজিটাল জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে

Update Time : ১১:৩০:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সারা দেশের ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী এখন চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি জেলা পর্যায়ে ভাইভা পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) মৌখিক পরীক্ষার নম্বর যাচাই-বাছাইসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

অধিদপ্তর সূত্র জানায়, কারিগরি প্রক্রিয়া শেষ হলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। তবে শুরু থেকেই দ্রুতগতির এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে যে ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছিল, মৌখিক পরীক্ষার সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বাস্তব প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বিশেষ করে ভাইভা বোর্ডে সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়ে একাধিক ‘ভুয়া’ প্রার্থী শনাক্ত হওয়ায় প্রকৃত চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দিনাজপুরে এমনই একটি ঘটনায় ভাইভা বোর্ডে ১১ জন প্রার্থী জালিয়াতির অভিযোগে আটক হন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মৌখিক পরীক্ষা দিতে এসে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) হাবিবুল হাসানের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ওই প্রার্থীরা জালিয়াতির বিষয়টি স্বীকার করেন। আটককৃতদের একজন গোলাম রাফসানী জানান, ১০ লাখ টাকার চুক্তিতে তার হয়ে অন্য একজন লিখিত পরীক্ষা দিয়েছিলেন। একই ধরনের ডিভাইস ব্যবহার ও প্রতারণার অভিযোগে মানস চন্দ্র রায়সহ আরও ১০ জন আটক হন।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ১১ জনই অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অস্তিত্বের ইঙ্গিত মিলেছে, যেখানে শিক্ষা অফিসের কিছু কর্মচারী ও শিক্ষকদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে।

বর্তমানে সারা দেশে ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে। এই সংকট নিরসনের লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এবার ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদের বিপরীতে রেকর্ডসংখ্যক পরীক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান জানান, শুধু সহকারী শিক্ষক নয়—দেশে বর্তমানে প্রায় ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে। এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ মহলের নির্দেশনায় অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং এতে অধিদপ্তরের কোনো ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য নেই।

উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৮ জন প্রার্থী। মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে, ২১ জানুয়ারি ফলাফল প্রকাশ করা হয়—যা সময়ের বিচারে রেকর্ড। তবে ডিজিটাল জালিয়াতি, সার্টিফিকেট নম্বর বাতিল এবং ভাইভায় নতুন পাস-ফেল পদ্ধতি চালুর কারণে চাকরিপ্রার্থীদের একটি বড় অংশের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে জালিয়াতি চক্র নির্মূল এবং প্রকৃত মেধাবীদের নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ প্রার্থীরা। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বর্তমানে ত্রুটিমুক্ত ও নির্ভুল মেধা তালিকা প্রণয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।