ভারতীয় রাজনীতিবিদরা কেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একমনা, আর আমাদের রাজনীতিকরা কেন নয়?
- Update Time : ০৫:০০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২০৩ Time View

ভারতের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, বিভিন্ন দল ও রাজনৈতিক মতাদর্শের রাজনীতিবিদরা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে দেশের স্বার্থকে কেন্দ্র করে একমনা হয়ে কার্যক্রম চালান। উদাহরণ হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা যখন দেশের স্বার্থে আন্তর্জাতিক চুক্তি বা সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করেন, তখন রাজনৈতিক দলের পার্থক্য পাশ কাটিয়ে জাতীয় ঐক্য দৃশ্যমান হয়। ২০১৯ সালে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে সন্ত্রাসী হামলার পর সকল বড় রাজনৈতিক দল একমনে পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক ও সামরিক অবস্থান নির্ধারণ করেছিল [The Hindu, 2019]।
অন্যদিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে রাজনীতিবিদরা প্রায়ই পার্টির স্বার্থকে দেশের স্বার্থের উপরে স্থান দেন। জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি, সীমান্ত ইস্যু কিংবা আন্তর্জাতিক চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও রাজনৈতিক বিভাজন জনগণের আস্থা ও দেশের স্বার্থকে প্রভাবিত করে। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৩ সালে ভারত-চীন সীমান্ত সংঘর্ষ বা বাংলাদেশের পানি ও বিদ্যুৎ সংক্রান্ত চুক্তিতে রাজনৈতিক বিতর্কে জাতীয় ঐক্য স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানানো এবং নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টায় ব্যস্ত ছিলেন, যা দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল [Prothom Alo, 2023]।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির দীর্ঘদিনের পার্থক্য, দলীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করেই রাজনীতির চর্চা, এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্বল্প দূরদর্শিতার কারণে। ভারতের মতো দেশে রাজনৈতিক ঐক্য ও জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়ার প্রচেষ্টা শক্তিশালী, কারণ দেশটি বহুবার আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে এবং এতে জনগণের আস্থা ও দেশীয় নীতি সমন্বয় বজায় রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রায়ই স্বল্পমেয়াদি ভোটব্যবস্থা, বিরোধী দলকে প্রাধান্য দেওয়া বা সরকারের সমালোচনায় ফোকাস করে জাতীয় স্বার্থকে পেছনে ফেলে।
এ কারণে দেশের নীতিনির্ধারণ, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, রাজনৈতিক স্বার্থকেন্দ্রিক মনোভাব পরিবর্তন না হলে বাংলাদেশের জনগণ ও দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে [Dhaka Tribune, 2024]।
ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যাস জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়া, যা দেশের স্বার্থকে রক্ষা করে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিভাজন ও স্বার্থকেন্দ্রিক রাজনীতি দেশের স্বার্থ ও জনগণের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে। তাই রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ার মানসিকতা তৈরির প্রয়োজন।
সূত্র:
- The Hindu, “Indian Political Parties Show Unity After Pulwama Attack,” 2019.
- Prothom Alo, “Bangladesh’s Water and Electricity Disputes with India,” 2023.
- Dhaka Tribune, “Political Division and Its Impact on National Security,” 2024.















