সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে হামলায় সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না: যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:২০:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১২৭ Time View

ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে সৌদি আরব তাদের আকাশসীমা কিংবা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না—এমন স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে রিয়াদ। এক টেলিফোন আলাপে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ এ তথ্য প্রকাশ করে।

ফোনালাপে সৌদি যুবরাজ বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনের যেকোনো প্রচেষ্টাকে সৌদি আরব সমর্থন করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ুক—এমন কোনো পদক্ষেপে সৌদি আরব যুক্ত হবে না।

এর আগে ইরানের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় থেকে যুদ্ধ এড়ানোর লক্ষ্যে যেকোনো উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, সংকট নিরসনে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পথই সবচেয়ে কার্যকর।

সৌদি যুবরাজের এই আশ্বাসের আগেই সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) একই ধরনের অবস্থান নেয়। আমিরাত কর্তৃপক্ষও জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তারা তাদের আকাশসীমা বা আঞ্চলিক জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে। গত সোমবার দুই মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও সহায়ক যুদ্ধজাহাজ ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে পৌঁছেছে। এর ফলে সেখানে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে এবং একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ইরানের দিকে একটি ‘নৌবহর’ এগিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করলেও বলেন, সেটি ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়বে না বলেই তিনি আশা করছেন।

অন্যদিকে, ইরানে গত কিছুদিন ধরে চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতিকে ঘিরে মানবাধিকার সংকটও গভীর হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, বিক্ষোভ দমনে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সাধারণ পথচারীরাও ছিলেন। সংগঠনগুলোর মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই সবচেয়ে বড় দমন-পীড়নের ঘটনা।

তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এই অস্থিরতা ও প্রাণহানির জন্য বিদেশে অবস্থানরত বিরোধী গোষ্ঠীর মদদপুষ্ট ‘সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাবাজরা’ দায়ী।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইরানে হামলায় সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না: যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

Update Time : ১২:২০:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে সৌদি আরব তাদের আকাশসীমা কিংবা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না—এমন স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে রিয়াদ। এক টেলিফোন আলাপে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ এ তথ্য প্রকাশ করে।

ফোনালাপে সৌদি যুবরাজ বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনের যেকোনো প্রচেষ্টাকে সৌদি আরব সমর্থন করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ুক—এমন কোনো পদক্ষেপে সৌদি আরব যুক্ত হবে না।

এর আগে ইরানের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় থেকে যুদ্ধ এড়ানোর লক্ষ্যে যেকোনো উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, সংকট নিরসনে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পথই সবচেয়ে কার্যকর।

সৌদি যুবরাজের এই আশ্বাসের আগেই সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) একই ধরনের অবস্থান নেয়। আমিরাত কর্তৃপক্ষও জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তারা তাদের আকাশসীমা বা আঞ্চলিক জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে। গত সোমবার দুই মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও সহায়ক যুদ্ধজাহাজ ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে পৌঁছেছে। এর ফলে সেখানে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে এবং একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ইরানের দিকে একটি ‘নৌবহর’ এগিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করলেও বলেন, সেটি ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়বে না বলেই তিনি আশা করছেন।

অন্যদিকে, ইরানে গত কিছুদিন ধরে চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতিকে ঘিরে মানবাধিকার সংকটও গভীর হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, বিক্ষোভ দমনে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সাধারণ পথচারীরাও ছিলেন। সংগঠনগুলোর মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই সবচেয়ে বড় দমন-পীড়নের ঘটনা।

তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এই অস্থিরতা ও প্রাণহানির জন্য বিদেশে অবস্থানরত বিরোধী গোষ্ঠীর মদদপুষ্ট ‘সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাবাজরা’ দায়ী।