সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভারে ছয় খুন: ‘অনৈতিক যৌনাচারে লিপ্ত দেখলেই সানডে–মানডে ক্লোজ করতাম’

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:০৬:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৩৯ Time View

সাভারে সংঘটিত ধারাবাহিক ছয়টি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ভবঘুরে মশিউর রহমান সম্রাট (ছদ্মনাম) পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে খুনকে ‘থার্টি ফোর’ কিংবা ‘সানডে–মানডে ক্লোজ’ বলে উল্লেখ করতেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে তিনি বলেন, কোনো ভবঘুরে নারী বা পুরুষকে অনৈতিক যৌনাচারে লিপ্ত হতে দেখলেই তিনি তাদের হত্যা করতেন এবং সেটাকেই নিজের ভাষায় ‘ক্লোজ’ বলা হতো।

সাভার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন জানান, সম্রাট কোনো মানসিক রোগী নন। তবে দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত মাদকাসক্তির কারণে তিনি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে মানুষ হত্যা করাই তার নেশায় পরিণত হয়। তিনি আরও জানান, মশিউর রহমান সম্রাট তার প্রকৃত নাম নয়। আত্মগোপনের জন্য তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন এবং তার স্থায়ী ঠিকানাও সাভারে নয়। তার প্রকৃত পরিচয় ও বাড়ির ঠিকানা শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাভারে আসার পর ওই সিরিয়াল কিলার অধিকাংশ রাত কাটাতেন সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার মডেল মসজিদে। ২০২৫ সালের ৪ জুলাই আসমা বেগম নামের এক বৃদ্ধাকে হত্যার পর তিনি সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে আশ্রয় নেন। এরপর গত পাঁচ মাসে ওই ভবন থেকে পর্যায়ক্রমে আরও পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিয়মিত নজরদারি থাকলেও পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে তখন তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার রাতে নজরদারির সময় কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে সম্রাটের ব্যবহৃত বিছানায় এক কিশোরীকে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। পরদিন শনিবার রাতে ওই কিশোরীসহ আরও একজনকে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়। রোববার দুপুরের পর মরদেহ উদ্ধার এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়। পরে রোববার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি ছয়টি হত্যার দায় স্বীকার করেন।

পুলিশ আরও জানায়, দিনের বেলায় তিনি থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করলেও গভীর রাতে ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক ও বিভিন্ন পদচারী-সেতু এলাকায় অবস্থান করতেন। ভবঘুরে নারী ও পুরুষদের ফুসলিয়ে পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করতেন তিনি।

সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরমান আলী বলেন, আসামি খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে। একই সঙ্গে এই ছয় হত্যার বাইরেও আরও কোনো অপরাধে তিনি জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাভারে ছয় খুন: ‘অনৈতিক যৌনাচারে লিপ্ত দেখলেই সানডে–মানডে ক্লোজ করতাম’

Update Time : ০২:০৬:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

সাভারে সংঘটিত ধারাবাহিক ছয়টি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ভবঘুরে মশিউর রহমান সম্রাট (ছদ্মনাম) পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে খুনকে ‘থার্টি ফোর’ কিংবা ‘সানডে–মানডে ক্লোজ’ বলে উল্লেখ করতেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে তিনি বলেন, কোনো ভবঘুরে নারী বা পুরুষকে অনৈতিক যৌনাচারে লিপ্ত হতে দেখলেই তিনি তাদের হত্যা করতেন এবং সেটাকেই নিজের ভাষায় ‘ক্লোজ’ বলা হতো।

সাভার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন জানান, সম্রাট কোনো মানসিক রোগী নন। তবে দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত মাদকাসক্তির কারণে তিনি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে মানুষ হত্যা করাই তার নেশায় পরিণত হয়। তিনি আরও জানান, মশিউর রহমান সম্রাট তার প্রকৃত নাম নয়। আত্মগোপনের জন্য তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন এবং তার স্থায়ী ঠিকানাও সাভারে নয়। তার প্রকৃত পরিচয় ও বাড়ির ঠিকানা শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাভারে আসার পর ওই সিরিয়াল কিলার অধিকাংশ রাত কাটাতেন সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার মডেল মসজিদে। ২০২৫ সালের ৪ জুলাই আসমা বেগম নামের এক বৃদ্ধাকে হত্যার পর তিনি সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে আশ্রয় নেন। এরপর গত পাঁচ মাসে ওই ভবন থেকে পর্যায়ক্রমে আরও পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিয়মিত নজরদারি থাকলেও পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে তখন তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার রাতে নজরদারির সময় কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে সম্রাটের ব্যবহৃত বিছানায় এক কিশোরীকে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। পরদিন শনিবার রাতে ওই কিশোরীসহ আরও একজনকে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়। রোববার দুপুরের পর মরদেহ উদ্ধার এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়। পরে রোববার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি ছয়টি হত্যার দায় স্বীকার করেন।

পুলিশ আরও জানায়, দিনের বেলায় তিনি থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করলেও গভীর রাতে ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক ও বিভিন্ন পদচারী-সেতু এলাকায় অবস্থান করতেন। ভবঘুরে নারী ও পুরুষদের ফুসলিয়ে পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করতেন তিনি।

সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরমান আলী বলেন, আসামি খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে। একই সঙ্গে এই ছয় হত্যার বাইরেও আরও কোনো অপরাধে তিনি জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।