সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওমানে গাড়ির ভেতরে চট্টগ্রামের চার প্রবাসী ভাইয়ের রহস্যজনক মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ রাঙ্গুনিয়া

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:৪৩:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • / ১১৯ Time View

ওমানে কর্মরত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার একই পরিবারের চার ভাইয়ের রহস্যজনক মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। একটি গাড়ির ভেতর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে ওমান পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির এসি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত ও মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নিহত চার ভাই হলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দারাজারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. রাশেদ, মো. শাহেদ, মো. সিরাজ ও মো. শহিদ। তারা সবাই আবদুল মজিদের ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে ওমান-এ কর্মরত ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চারজনই প্রবাসে জীবিকার সন্ধানে ওমানে অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে দুই ভাই অবিবাহিত ছিলেন এবং আগামী ১৫ মে দেশে ফেরার প্রস্তুতি চলছিল। দেশে ফেরার আগে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে বের হয়েছিলেন তারা। কেনাকাটা শেষে ফেরার পথেই ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।

ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় বুধবার (১৩ মে) একটি গাড়ির ভেতর তাদের নিথর দেহ পাওয়া যায়। ওমান পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করছে, দীর্ঘ সময় গাড়ি চালু অবস্থায় থাকায় এসি বা ইঞ্জিন থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস গাড়ির ভেতরে জমে গিয়ে শ্বাসরোধজনিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো রহস্য জড়িত রয়েছে—তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ দূতাবাস ওমান তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে পাঠানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানা গেছে।

একসঙ্গে একই পরিবারের চার ভাইয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাঙ্গুনিয়ার বন্দারাজারপাড়াজুড়ে নেমে এসেছে শোকের মাতম। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। প্রতিবেশীরা বলছেন, পরিবারটি ছিল অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সৎ। পরিবারের স্বপ্ন পূরণে চার ভাই একসঙ্গে বিদেশে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্নই মুহূর্তে দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা দ্রুত মরদেহ দেশে আনা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ওমানে গাড়ির ভেতরে চট্টগ্রামের চার প্রবাসী ভাইয়ের রহস্যজনক মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ রাঙ্গুনিয়া

Update Time : ১১:৪৩:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

ওমানে কর্মরত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার একই পরিবারের চার ভাইয়ের রহস্যজনক মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। একটি গাড়ির ভেতর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে ওমান পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির এসি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত ও মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নিহত চার ভাই হলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দারাজারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. রাশেদ, মো. শাহেদ, মো. সিরাজ ও মো. শহিদ। তারা সবাই আবদুল মজিদের ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে ওমান-এ কর্মরত ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চারজনই প্রবাসে জীবিকার সন্ধানে ওমানে অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে দুই ভাই অবিবাহিত ছিলেন এবং আগামী ১৫ মে দেশে ফেরার প্রস্তুতি চলছিল। দেশে ফেরার আগে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে বের হয়েছিলেন তারা। কেনাকাটা শেষে ফেরার পথেই ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।

ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় বুধবার (১৩ মে) একটি গাড়ির ভেতর তাদের নিথর দেহ পাওয়া যায়। ওমান পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করছে, দীর্ঘ সময় গাড়ি চালু অবস্থায় থাকায় এসি বা ইঞ্জিন থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস গাড়ির ভেতরে জমে গিয়ে শ্বাসরোধজনিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো রহস্য জড়িত রয়েছে—তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ দূতাবাস ওমান তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে পাঠানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানা গেছে।

একসঙ্গে একই পরিবারের চার ভাইয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাঙ্গুনিয়ার বন্দারাজারপাড়াজুড়ে নেমে এসেছে শোকের মাতম। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। প্রতিবেশীরা বলছেন, পরিবারটি ছিল অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সৎ। পরিবারের স্বপ্ন পূরণে চার ভাই একসঙ্গে বিদেশে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্নই মুহূর্তে দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা দ্রুত মরদেহ দেশে আনা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।