শাকসু নির্বাচন স্থগিত হলে দেশব্যাপী লাগাতার কর্মসূচির হুঁশিয়ারি ছাত্রশিবিরের
- Update Time : ০২:৪৮:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১২৯ Time View

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত এলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে দেশব্যাপী কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘নির্ধারিত সময়ে শাকসু নির্বাচন বাস্তবায়নের দাবি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর আগামী ২০ জানুয়ারি শাবিপ্রবিতে শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থীর প্রাণের দাবি এই নির্বাচন। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিটি প্যানেল ও প্রার্থীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন, ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রশাসনও শেষ মুহূর্তের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ঠিক এই সময়ে একটি মহল পেশিশক্তি ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা ছিল প্রতিটি ক্যাম্পাসে প্রতিনিধিত্বশীল ছাত্র সংসদ প্রতিষ্ঠা করা। নিয়মিত ও কার্যকর ছাত্র সংসদ নির্বাচনই পারে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে।
ছাত্র সংসদ নির্বাচন শিক্ষার্থীদের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার উল্লেখ করে শিবির সভাপতি বলেন, গতানুগতিক ছাত্র রাজনীতির নেতিবাচক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে কল্যাণমুখী ও প্রতিনিধিত্বশীল নেতৃত্ব গঠনে ছাত্র সংসদের ভূমিকা অপরিসীম। সম্প্রতি দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ইতিবাচক ফল আমরা দেখেছি। আবাসন, পরিবহন, মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, ডাইনিংয়ের খাবারের মানোন্নয়নসহ নানা ছাত্রকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।
তিনি আরও বলেন, এই ধারাবাহিকতায় শাবিপ্রবির সচেতন শিক্ষার্থীরাও তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রতিনিধিত্ব নির্বাচন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। শিক্ষার্থীদের প্রবল দাবির মুখেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নিতে বাধ্য হয়।
ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, পরাজয়ের ভয়ে ছাত্রদল শুরু থেকেই নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সময়সূচি বিবেচনায় কিছু নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশ দিলেও শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে শাকসু নির্বাচন পূর্বঘোষিত তারিখেই অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়। এরপরও ছাত্রদল ইসি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে এবং হাইকোর্টে রিট করে নির্বাচন বন্ধের চেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, আদালতে বড় বড় আইনজীবী দিয়ে নির্বাচন স্থগিতের চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে, যা জুলাই-পরবর্তী রাষ্ট্রব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক ধরনের তামাশার শামিল। এসব অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
শিবির সভাপতি বলেন, ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস, মাদক ও অপরাজনীতির কারণে ছাত্রদল আজ সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে প্রত্যাখ্যাত। নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা না নিয়ে তারা এখন পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বন্ধের ষড়যন্ত্রে নেমেছে।
তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে দেশের মানুষ দীর্ঘ ১৭ বছর সংগ্রাম করেছে। অথচ আজ ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার হরণ করতে নির্বাচন কমিশনের সামনে অবস্থান করছে—এটি তাদের দ্বিচারিতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম আরও বলেন, নানা নাটকীয়তার পর ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচনের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এই অবস্থায় পেশিশক্তি কিংবা আদালতকে ব্যবহার করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা হলে শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা তা মেনে নেবে না।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শাকসু নির্বাচন অবশ্যই নির্ধারিত তারিখে অনুষ্ঠিত হতে হবে। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক চাপ বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার করা হলে তা বরদাস্ত করা হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, এইচআরএম সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক হাফেজ ডা. রেজওয়ানুল হক, বায়তুলমাল সম্পাদক আনিসুর রহমানসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।














