খালি বাড়িতে নামাজ পড়ার অভিযোগে ভারতে ১২ জন আটক
- Update Time : ০৫:০২:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৩৭ Time View

ভারতের উত্তর প্রদেশের বেরিলি জেলার একটি গ্রামে অনুমতি ছাড়া একটি খালি বাড়িতে নামাজ আদায়ের অভিযোগে ১২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (১৮ জানুয়ারি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, খালি বাড়িটিতে প্রার্থনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এরপরই প্রাক-সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।
বেরিলির এসপি (সাউথ) আনশিকা ভার্মা জানান, মোহাম্মদগঞ্জ গ্রামের ওই বাড়িটি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অস্থায়ী মাদ্রাসা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়। পিটিআই-এর বরাতে জানা গেছে, পুলিশের এই পদক্ষেপ মূলত সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এড়াতে নেওয়া হয়েছে।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, বাড়িটির মালিক হানিফ নামের এক ব্যক্তি এবং সেখানে মূলত শুক্রবারের জুমার নামাজ আদায় করা হচ্ছিল। স্থানীয় কয়েকজন গ্রামবাসী নিয়মিত এ ধরনের জমায়েত নিয়ে আপত্তি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রার্থনা বন্ধ করে দেয়।

এসপি আনশিকা ভার্মা বলেন, অনুমতি ছাড়া কোনো নতুন ধর্মীয় কার্যক্রম বা জমায়েত পরিচালনা আইন লঙ্ঘনের শামিল। তিনি এলাকাবাসীকে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেন যে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানায়, আটক ১২ জনের বিরুদ্ধে শান্তি ভঙ্গের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হলে তারা জামিন পান। তবে এ ঘটনায় জড়িত আরও তিনজন পলাতক রয়েছেন, যাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, অভিযুক্তরা নামাজ বা ধর্মীয় জমায়েত পরিচালনার পক্ষে কোনো বৈধ নথি বা লিখিত অনুমতি দেখাতে পারেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, উত্তর প্রদেশে যেকোনো ধর্মীয় কার্যক্রম বা জনসমাগম আয়োজনের ক্ষেত্রে আগাম প্রশাসনিক অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। বেরিলির এই ঘটনায় ধর্মীয় আচার পালনের চেয়ে অনুমতি না নেওয়ার বিষয়টিকেই আইন ভঙ্গের মূল কারণ হিসেবে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন।
সূত্র: এনডিটিভি
















