প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষক পদের বিপরীতে পরীক্ষায় বসছেন ১০ লাখের বেশি চাকরিপ্রার্থী
- Update Time : ০৮:২০:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৫৫ Time View

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে বিপুল প্রতিযোগিতার চিত্র ফুটে উঠেছে এবারের পরীক্ষায়। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের লিখিত পরীক্ষা আগামী ২ জানুয়ারি একযোগে সারা দেশে অনুষ্ঠিত হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) জানায়, পার্বত্য তিন জেলা—খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান—ব্যতীত দেশের সব জেলায় সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা নেওয়া হবে।
চলতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০ জনের। অর্থাৎ গড়ে প্রতিটি পদের জন্য প্রায় ৭৫ জন করে পরীক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন, যা প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে নজিরবিহীন চাপের ইঙ্গিত দেয়।
ডিপিই সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১০ হাজার ২১৯টি পদের জন্য আবেদন করেছেন ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯ জন প্রার্থী। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১ জন।
পরীক্ষা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ সকাল ৯টার মধ্যে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে আসন গ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং এরপর কাউকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
নিরাপত্তা জোরদারে নারী ও পুরুষ পরীক্ষার্থীদের আলাদাভাবে তল্লাশি করা হবে। প্রয়োজনে হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করা হবে এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস শনাক্তে পরীক্ষার্থীদের উভয় কান উন্মুক্ত রেখে পরীক্ষা করা হবে, এমনকি টর্চলাইট দিয়েও কান পরীক্ষা করা হতে পারে। কেন্দ্রে মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, স্মার্ট ওয়াচ, যেকোনো ধরনের ঘড়ি ও ব্যাগ বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় ও জালিয়াতি রোধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে অধিদপ্তর। নিষিদ্ধ সামগ্রী বহনের দায়ে পরীক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কারসহ আইনানুগ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। ওএমআর শিট পূরণে শুধুমাত্র কালো বলপয়েন্ট কলম ব্যবহার বাধ্যতামূলক; পেনসিল ব্যবহার করলে উত্তরপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।
পরীক্ষা শেষে প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র উভয়ই কেন্দ্রের পরিদর্শকের কাছে জমা দিতে হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে এবং জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি সার্বিক তদারকি করবে। ভুয়া পরীক্ষার্থী বা জালিয়াত চক্র শনাক্ত হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এরই মধ্যে পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র ডাউনলোডের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড অথবা এসএসসির রোল ও পাসের সন ব্যবহার করে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করা যাচ্ছে। আবেদনকালে দেওয়া মোবাইল নম্বরে ০১৫৫২-১৪৬০৫৬ নম্বর থেকে এসএমএস পাঠানো হচ্ছে।
পরীক্ষায় অংশ নিতে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই প্রবেশপত্রের রঙিন প্রিন্ট কপি এবং মূল জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্টকার্ড সঙ্গে রাখতে হবে। অধিদপ্তর সফল আবেদনকারীদের যথাসময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নিয়ম-কানুন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে।














