বিমানের রেকর্ড আয় ১১,৫৫৯ কোটি টাকা, নিট মুনাফা লাফিয়ে বেড়েছে ১৭৮ শতাংশ
- Update Time : ০৮:৩৭:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৫০ Time View

জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে আয় ও মুনাফায় নতুন রেকর্ড গড়েছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে সংস্থাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেশি। একই সময়ে বিমানের নিট মুনাফা হয়েছে ৭৮৫ দশমিক ২১ কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ১৭৮ শতাংশ বেশি।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) প্রকাশিত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে বিমান অপারেশনাল মুনাফা অর্জন করেছে ১ হাজার ৬০২ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে টানা পঞ্চমবারের মতো লাভের ধারাবাহিকতা বজায় রাখল সংস্থাটি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সর্বশেষ ১০টি অর্থবছরের মধ্যে ৯ বারই নিট মুনাফা অর্জনে সক্ষম হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
গত অর্থবছরে বিমানের বহরে থাকা ২১টি উড়োজাহাজ দিয়ে দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে ৩০টি গন্তব্যে মোট ৩৩ দশমিক ৮৩ লাখ যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে। যাত্রী পরিবহনের এই সংখ্যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১ শতাংশ বেশি।
কার্গো পরিবহন খাতেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থাটি। ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে ৪৩ হাজার ৯১৮ মেট্রিক টন কার্গো পরিবহন করে ৯২৫ কোটি টাকা আয় করেছে বিমান, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৫ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সংস্থাটি। এ সময়ে বিদেশি এয়ারলাইন্সের ৩১ হাজার ১১২টি ফ্লাইটের মোট ৬১ লাখ ৩ হাজার ১৪৭ জন যাত্রীকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিয়েছে বিমান।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সম্পূর্ণ নিজস্ব আয়ে পরিচালিত একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা। প্রতিষ্ঠার ৫৪ বছরের ইতিহাসে সংস্থাটি সরকার থেকে কোনো ধরনের ভর্তুকি গ্রহণ করেনি। সেবার মান উন্নয়নের ফলে যাত্রীদের আস্থা ক্রমেই বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বিমানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ টিকিট বিক্রির রেকর্ডও অর্জিত হয়েছে।
দ্রুত লাগেজ সরবরাহ, উন্নত ইন-ফ্লাইট সেবা এবং বিমানবন্দর কার্যক্রমের আধুনিকায়ন যাত্রী সন্তুষ্টি বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান কঠোরভাবে অনুসরণ করায় বিমানের সেফটি রেকর্ডও প্রশংসিত হচ্ছে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় গণমাধ্যমগুলো বিমানের বহর আধুনিকায়ন এবং লাভজনক রুট সম্প্রসারণের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নতুন ব্যবস্থাপনার দক্ষ অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, কার্যকর সম্পদ বণ্টন এবং শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণেই এই রেকর্ড মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিমান নতুন জনপ্রিয় গন্তব্যে রুট সম্প্রসারণ, ডিজিটাল রূপান্তর এবং কার্গো সেবা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সংস্থাটির লক্ষ্য দক্ষিণ এশিয়ার একটি শীর্ষস্থানীয় এয়ারলাইন্স হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করা।
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শেখ বশির উদ্দিন। এতে গত অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুমোদন করা হয়। সভায় পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের পাশাপাশি অর্থ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা শেয়ারহোল্ডার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
















