বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে সব ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ
- Update Time : ১০:১৩:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৭২ Time View

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে সব ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা–৬-এর উপসচিব মো. আনোয়ার পারভেজের স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আদেশে বলা হয়, আগামী ২–৪ জানুয়ারি খুরুজের জোড় এবং ২২–২৪ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী খুরুজের জোড়, বিশ্ব ইজতেমাসহ নির্বাচনের আগে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে কোনো ধরনের সমাবেশ না করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, তাবলীগ জামায়াত বাংলাদেশ শুরায়ী নেজাম (জুবায়ের পন্থী) আগামী ২–৪ জানুয়ারি তিন দিনের খুরুজের জোড় আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। এর প্রেক্ষিতে তাবলীগ জামায়াত বাংলাদেশ (সাদপন্থী) শুরায়ে নেজাম অভিযোগ করে জানায়, খুরুজের জোড়ের নামে ইজতেমা আয়োজন করা হলে তারা ২২–২৪ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমা করবে। উভয় পক্ষই সরকারের কাছে পৃথকভাবে অনুমতির আবেদন জানায়। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার উভয় আবেদন নামঞ্জুর করে নির্বাচনের আগে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে সব ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ করে আদেশ জারি করে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছরের ২ নভেম্বর ধর্ম উপদেষ্টার সভাপতিত্বে তাবলীগ জামায়াতের উভয় পক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়—২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে না। নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন সরকারের তত্ত্বাবধানে ইজতেমা আয়োজন করা হবে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। জুবায়েরপন্থীরা প্রথম জোড় ইজতেমার পর আগামী ২–৪ জানুয়ারি খুরুজের মজমা আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করে এবং সারা দেশে সাথিদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়।
এতে সাদপন্থীরা খুরুজের নামে ইজতেমা আয়োজনের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, ধর্ম উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করে ২২–২৪ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের অনুমতি ও সহযোগিতা চায়।
বিশ্ব ইজতেমার আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বপ্রাপ্ত গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন খান জানান, সরকারি আদেশ পাওয়া গেছে এবং তা প্রতিপালনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ১৯৬৭ সাল থেকে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ২০১১ সালে স্থান সংকুলান না হওয়ায় দুই পর্বে ইজতেমা আয়োজন শুরু হয়। ২০১৮ সালে জুবায়েরপন্থী ও সাদপন্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন মুসল্লী নিহত হন। এরপর থেকে দুই পক্ষ পৃথক পর্বে ইজতেমা করে আসছে। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সংঘর্ষ ও সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন মুসল্লী নিহত এবং কয়েকশত আহত হয়েছেন। গত বছর বড় ধরনের সহিংসতার কারণে তিন পর্বে বিশ্ব ইজতেমা সম্পন্ন হয়।
২০২৬ সালের ইজতেমার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এ বছর জুবায়েরপন্থীরা টঙ্গীতে এবং সাদপন্থীরা ঢাকার কেরানীগঞ্জে জোড় ইজতেমা সম্পন্ন করেন। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের পরই বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।















