সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ শুরু জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সাড়ে তিন লাখের বেশি শিক্ষার্থী

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:৪৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৯৩ Time View

দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত একযোগে দেশের ৬১১টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নিচ্ছে সারাদেশের প্রায় ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫৯১ জন শিক্ষার্থী।

প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন রোববার বাংলা বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ইংরেজি, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) গণিত এবং বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষার সব প্রশ্ন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রণীত অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের আলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ বিরতির পর এ বছর আবারও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হচ্ছে। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ, বিতরণ এবং কেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কড়া নজরদারি

পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষককে কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং পরীক্ষাকক্ষে যেকোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে পরীক্ষার্থীরা অনুমোদিত ৮টি মডেলের নন-প্রোগ্রামেবল সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে। অনুমোদিত মডেলগুলো হলো— Casio Fx-82MS, Fx-100MS, Fx-570MS, Fx-991MS, Fx-991Ex, Fx-991ES, Fx-991ES Plus এবং Fx-991CW। পাশাপাশি সাধারণ (নন-সায়েন্টিফিক) ক্যালকুলেটর ব্যবহারেরও সুযোগ থাকবে। অনুমোদিত মডেলের বাইরে কোনো প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না।

৪০০ নম্বরের বৃত্তি পরীক্ষা

নীতিমালা অনুযায়ী, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে মোট পাঁচটি বিষয়ে। বাংলা, ইংরেজি ও গণিত—এই তিনটি বিষয়ে ১০০ নম্বর করে এবং বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে ৫০ নম্বর করে পরীক্ষা নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে মোট ৪০০ নম্বরের ওপর শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে।

কারা অংশ নিচ্ছে

মাধ্যমিক বা নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সপ্তম শ্রেণির সামষ্টিক মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, জুনিয়র বৃত্তি দুই ধরনের— ট্যালেন্টপুল বৃত্তি ও সাধারণ বৃত্তি। মোট বৃত্তির ৫০ শতাংশ ছাত্র এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত থাকবে। নির্ধারিত কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে এই অনুপাত সমন্বয় করা যাবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৯ সালে অষ্টম শ্রেণিতে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা নিয়েছিল সরকার। পরে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা চালু করা হলেও ব্যাপক সমালোচনার মুখে ২০২৩ সাল থেকে তা বাতিল করে একই সিলেবাসে অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আজ শুরু জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সাড়ে তিন লাখের বেশি শিক্ষার্থী

Update Time : ০৯:৪৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত একযোগে দেশের ৬১১টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নিচ্ছে সারাদেশের প্রায় ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫৯১ জন শিক্ষার্থী।

প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন রোববার বাংলা বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ইংরেজি, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) গণিত এবং বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষার সব প্রশ্ন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রণীত অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের আলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ বিরতির পর এ বছর আবারও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হচ্ছে। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ, বিতরণ এবং কেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কড়া নজরদারি

পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষককে কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং পরীক্ষাকক্ষে যেকোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে পরীক্ষার্থীরা অনুমোদিত ৮টি মডেলের নন-প্রোগ্রামেবল সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে। অনুমোদিত মডেলগুলো হলো— Casio Fx-82MS, Fx-100MS, Fx-570MS, Fx-991MS, Fx-991Ex, Fx-991ES, Fx-991ES Plus এবং Fx-991CW। পাশাপাশি সাধারণ (নন-সায়েন্টিফিক) ক্যালকুলেটর ব্যবহারেরও সুযোগ থাকবে। অনুমোদিত মডেলের বাইরে কোনো প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না।

৪০০ নম্বরের বৃত্তি পরীক্ষা

নীতিমালা অনুযায়ী, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে মোট পাঁচটি বিষয়ে। বাংলা, ইংরেজি ও গণিত—এই তিনটি বিষয়ে ১০০ নম্বর করে এবং বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে ৫০ নম্বর করে পরীক্ষা নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে মোট ৪০০ নম্বরের ওপর শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে।

কারা অংশ নিচ্ছে

মাধ্যমিক বা নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সপ্তম শ্রেণির সামষ্টিক মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, জুনিয়র বৃত্তি দুই ধরনের— ট্যালেন্টপুল বৃত্তি ও সাধারণ বৃত্তি। মোট বৃত্তির ৫০ শতাংশ ছাত্র এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত থাকবে। নির্ধারিত কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে এই অনুপাত সমন্বয় করা যাবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৯ সালে অষ্টম শ্রেণিতে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা নিয়েছিল সরকার। পরে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা চালু করা হলেও ব্যাপক সমালোচনার মুখে ২০২৩ সাল থেকে তা বাতিল করে একই সিলেবাসে অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।