ঢাবির সাবেক ভিসি মাকসুদ কামালসহ প্রশাসনের সবাই বিচারের মুখোমুখি হবে: ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
- Update Time : ১০:১৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১২০ Time View

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই আন্দোলন চলাকালে দায়িত্বে থাকা সাবেক উপাচার্য এএসএম মাকসুদ কামাল, প্রক্টরিয়াল বডি এবং প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেছেন ডাকসুর নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে যে নৃশংসতা হয়েছে, তার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার একদিন স্বাধীন বাংলাদেশেই হবে। কেউই দায় এড়াতে পারবে না।”
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে দীর্ঘ জবানবন্দি
এদিন ডাকসু ভিপির সঙ্গে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হন ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ।
সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে তদন্ত সংস্থার কাছে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে জুলাই মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘটিত হামলা, নিপীড়ন, গুমসহ বিভিন্ন ঘটনার বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরেন তারা।
জবানবন্দি শেষে সাংবাদিকদের সামনে এসে কায়েম জানান,
“ঢাবির সাবেক ভিসি মাকসুদ কামালের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে। আমরা সবকিছু তদন্ত সংস্থাকে দিয়ে এসেছি।”
‘মাকসুদ কামালকে বাঁচাতে অনেকে চেষ্টা করছে’
সাদিক কায়েম অভিযোগ করেন, সাবেক ভিসি মাকসুদ কামালকে অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ব্যক্তি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠনের একটি অংশ বিভিন্নভাবে আশ্রয় বা নিরাপদ প্রস্থানের চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন—
“জুলাইয়ের আন্দোলন দমাতে ঢাবি ক্যাম্পাসে বহিরাগত সশস্ত্র লোক ঢোকানো হয়েছিল। তাদের দিয়ে আমাদের ভাইবোনদের ওপর হামলা করানো হয়েছে। এসবের মূল পরিকল্পনায় ছিলেন মাকসুদ কামাল। আজ তিনি গা ঢাকা দিয়ে আছেন, আর কিছু মানুষ তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু বিচার হবেই।”
তুলনা টেনে আবেগী প্রতিক্রিয়া
ডাকসু ভিপি আরও বলেন—
“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের ভাইবোনদের যেভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে, তা ইসরায়েলিদের ফিলিস্তিনিদের ওপর বর্বর হামলার মতোই নিষ্ঠুর। কেউ হাসপাতালে যাওয়ার পথে পর্যন্ত রেহাই পায়নি। সেই সব ভয়াবহ ঘটনার ভিডিও-অডিও প্রমাণ, সাক্ষ্য—সবই আমাদের কাছে আছে।”
তিনি দাবি করেন, এই প্রমাণগুলো তদন্ত সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং প্রত্যেকটি ঘটনা অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার কাঠামোর মধ্যে আনার লক্ষ্যে তারা সাক্ষ্য দিচ্ছেন।
‘শেখ হাসিনার সহযোগীদের বিরুদ্ধেও জবানবন্দি’
কায়েম জানান, জুলাই মাসে সংঘটিত গণহত্যা, শিশু হত্যা, শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন এবং এসব ঘটনার সময় যেসব ব্যক্তি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগী ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেও জবানবন্দি দিয়েছেন।
তিনি বলেন—
“আমরা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, পুরো দেশের শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত অপরাধের বিচার চাই। যারা এই ঘটনার সহযোগী ছিল, তারা রাজনৈতিক ক্ষমতা বা পরিচয়ের আড়ালে লুকাতে পারবে না।”














