৬৫ হাজার ৫০২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পেলেন ১০ম গ্রেডে উন্নীত বেতনস্কেল
- Update Time : ০৪:৪৭:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১২৮ Time View

বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রধান শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনে অবশেষে বড় সিদ্ধান্ত এসেছে। প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদন করে ৬৫ হাজার ৫০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদকে ১১তম গ্রেড থেকে উন্নীত করে ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণের সুপারিশ করেছে।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রশাসনিক উন্নয়ন ও সমন্বয়-১ অধিশাখার উপসচিব জি এম সরফরাজ স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তুহিন বিষয়টি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করে লিখেছেন—“৬৫ হাজার ৫০২টি প্রধান শিক্ষকের বেতনস্কেল ১১ গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হলো। এ সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করবে।”
কমিটির সভায় বিস্তারিত আলোচনা, পূর্ব অভিজ্ঞতাও বিবেচনায়
গত ৩ ডিসেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৮ম সভায় এই প্রস্তাবটি বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়। আলোচ্য সূচির ৭ নম্বর এজেন্ডায় ছিল প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের গ্রেড উন্নীতকরণের বিষয়টি।
এর আগে রিট পিটিশন নম্বর ৩২১৪/২০১৮ অনুসারে আদালতের নির্দেশে ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন গ্রেড-১১ থেকে গ্রেড-১০ এ উন্নীত করা হয় এবং সে অনুযায়ী সরকারি আদেশও জারি হয়েছিল। সেই নজির ধরে এবার বাকি ৬৫ হাজার ৫০২ পদের বিষয়টিও বিবেচনায় আনা হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের সবুজ সংকেত
প্রস্তাব অনুমোদনের আগে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ উভয়ে সম্মতি প্রদান করে। পরে অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনুবিভাগও আনুষ্ঠানিকভাবে জানান—
“৬৫,৫০২টি প্রধান শিক্ষক পদের বেতনস্কেল ১০ম গ্রেডে নির্ধারণের বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই।”
এরপর গভীর পর্যালোচনা শেষে কমিটি সর্বসম্মতভাবে উন্নীতকরণের সুপারিশ করে।
শর্তসাপেক্ষ অনুমোদন
সুপারিশে বলা হয়েছে—
- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগ যে শর্ত আরোপ করেছে তা হুবহু অনুসরণ করতে হবে।
- এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন করতে হবে।
এতে বোঝা যায়, বেতনগ্রেড উন্নীতকরণ বাস্তবায়ন এখন কেবল আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষা।
প্রাথমিক শিক্ষকদের দীর্ঘ দিনের আন্দোলনের অবসান
বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন—
- তাদের দায়িত্ব বাড়ছে,
- স্কুল ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনিক চাপ বাড়ছে,
- কিন্তু বেতন ও গ্রেডের ক্ষেত্রে সেই তুলনামূলক গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
১১ গ্রেডে থাকা প্রধান শিক্ষকরা সহকারী শিক্ষকদের চেয়ে সামান্য বেশি গ্রেড পেলেও, দায়িত্বের তুলনায় সেটি ছিল অপ্রতুল। এখন ১০ম গ্রেডে উন্নীত হওয়ায় তাদের মর্যাদা ও প্রণোদনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন দিগন্ত
এই সিদ্ধান্তকে অনেকে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতে একটি বড় প্রশাসনিক সংস্কার হিসেবে দেখছেন। কারণ—
- প্রধান শিক্ষকেরা এখন বিদ্যালয় পরিচালনায় আরও স্বতঃস্ফূর্ত হবেন,
- পদোন্নতির সুযোগ বাড়বে,
- শিক্ষার মানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “প্রধান শিক্ষকরা বিদ্যালয় প্রশাসনের মূল চালিকা শক্তি। তাদের অনুপ্রেরণা বাড়লে প্রাথমিক শিক্ষার পুরো কাঠামোতেই উন্নতি আসবে।”














