৫০তম বিসিএস প্রিলির নম্বর বণ্টনে বড় পরিবর্তন
- Update Time : ১০:০৫:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১২৬ Time View

৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাসে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। দীর্ঘদিনের প্রচলিত নম্বর বণ্টনের কাঠামো ভেঙে এবার পরীক্ষার্থীদের জন্য নতুন ধরনের মূল্যায়ন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার পিএসসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সিলেবাস থেকে জানা গেছে, নতুন এই বণ্টন পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি কৌশলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে।
সিলেবাস অনুযায়ী, প্রিলিমিনারি পরীক্ষা মোট ২০০ নম্বরের হবে—যদিও মোট নম্বর অপরিবর্তিত, তবে বিষয়ভিত্তিক নম্বর বণ্টনে এসেছে বড় রদবদল। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য অংশে রাখা হয়েছে ৩০ করে মোট ৬০ নম্বর, যা আগে ছিল ৩৫ করে মোট ৭০ নম্বর। অর্থাৎ এ দু’টি ভাষায় নম্বর কিছুটা কমানো হলেও প্রশ্ন হবে আরও নির্ভুল ভাষাগত দক্ষতা ও ব্যাকরণিক শুদ্ধতা যাচাইয়ের ভিত্তিতে।
বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে এবার ২৫ নম্বর এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতেও ২৫ নম্বর রাখা হয়েছে। পূর্বে বাংলাদেশ বিষয়াবলি অংশে ছিল ৩০ নম্বর এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে ২০ নম্বর। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের ইতিহাস-রাজনীতি, নীতি–নির্ধারণ প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সেবাধর্মী প্রশাসনের সম্পর্ক বাড়ায় এই দুটি অংশে ভারসাম্য আনা হয়েছে।
ভূগোল (বাংলাদেশ ও বিশ্ব), পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অংশে রাখা হয়েছে ১০ নম্বর, যা আগের মতোই বহাল। আধুনিক প্রশাসনে জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই উন্নয়ন বিবেচনায় এ অংশের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।
এ ছাড়া সাধারণ বিজ্ঞানে ১৫ নম্বর, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তিতে ১৫ নম্বর, গাণিতিক যুক্তিতে ২০ নম্বর, মানসিক দক্ষতায় ১৫ নম্বর এবং নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসনে ১৫ নম্বর বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পূর্বে গাণিতিক যুক্তিতে ছিল ১৫ নম্বর, এবার তা বাড়িয়ে ২০ করা হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, প্রার্থীদের বিশ্লেষণী দক্ষতা, সংখ্যাতাত্ত্বিক মানসিকতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হবে।
অপরদিকে নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন অংশে ১৫ নম্বর বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগে ছিল মাত্র ১০। পিএসসি জানিয়েছে, প্রশাসনে সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও নৈতিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই অংশের ওজন বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নতুন এই সিলেবাস প্রকাশের পর পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকে বলছেন, নম্বর বণ্টনে এ পরিবর্তন মূলত দক্ষ, যুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট–সমৃদ্ধ নতুন প্রজন্মের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বাছাই করতেই করা হয়েছে। অন্যরা মনে করছেন, প্রস্তুতির ধরনে এখন বড় ধরনের পরিবর্তন আনা প্রয়োজন হবে।
পরীক্ষার্থীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি নতুন চ্যালেঞ্জ, তবে পিএসসি আশা করছে—এই কাঠামো ভবিষ্যতে আরও যোগ্য, পেশাদার ও নৈতিক প্রশাসন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।














