দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতির পদে কে দায়িত্ব নেবেন?
- Update Time : ১০:১৬:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৪৪ Time View

দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ আগামী ২৭ ডিসেম্বর অবসরে যাচ্ছেন। তার অবসরের ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আইনাঙ্গনে নতুন প্রধান বিচারপি কে হবেন তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
বর্তমান প্রধান বিচারপতি ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বর্তমানে ছয়জন বিচারপতি রয়েছেন। জ্যেষ্ঠতার ক্রম অনুযায়ী তারা হলেন—বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস. এম. ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
এদের মধ্যে পরবর্তী প্রধান বিচারপতি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নাম। জ্যেষ্ঠতার দিক থেকেও তারা আপিল বিভাগের প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন, যা তাদের প্রধান বিচারপতি হওয়ার সম্ভাবনাকে আরও দৃঢ় করছে।
সংবিধানের ধারায় বলা আছে, রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন। রীতি অনুযায়ী সাধারণত আপিল বিভাগের বিচারপতিদের মধ্য থেকেই প্রধান বিচারপতি নির্বাচিত হন। তবে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে একাধিকবার ব্যতিক্রম ঘটেছে। উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়, যখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বাইরে থাকাকালে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের ছয়জন বিচারপতি পদত্যাগ করেছিলেন। সেই উত্তাল সময়ে ছাত্র-জনতার দাবির প্রেক্ষিতে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে হাইকোর্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদকে দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
আইন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি বিচার বিভাগের ইতিহাসে ব্যতিক্রমী ঘটনা। অতীতে দায়িত্ব পালন করা সব প্রধান বিচারপতিকে মূলত আপিল বিভাগের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এবারও প্রধান বিচারপতি আপিল বিভাগের মধ্য থেকে নিয়োগ পাবেন। সেই হিসেবে, দেশকে ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম বা বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর মধ্যে একজন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন—এটি প্রায় নিশ্চিতভাবে বলা যায়। দেশের আইনাঙ্গনে নতুন প্রধান বিচারপির দায়িত্ব গ্রহণের ফলে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্টের কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও জ্যেষ্ঠতার রীতি মেনে চলা সম্ভব হবে।
বিশ্লেষকরা আরও মনে করছেন, এই পরিবর্তন দেশের উচ্চতম আদালতের নেতৃত্বে যে ধারাবাহিকতা ও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করবে। পরবর্তী প্রধান বিচারপি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সুনির্দিষ্ট বিচার প্রক্রিয়া এবং জনগণের আস্থা রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।















