সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি শুরু, বাজারে কমলো দাম: কেজিতে কমেছে ৩০–৪০ টাকা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৮:৩২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১১২ Time View

তিন মাসের দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আবারও ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি শুরু হয়েছে। রোববার (৭ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রথম পেঁয়াজবাহী ট্রাকটি বাংলাদেশে প্রবেশ করার মধ্য দিয়ে পুনরায় এই কার্যক্রম চালু হয়। এ নিয়ে আমদানিকারক, ব্যবসায়ী এবং ভোক্তা—সবার মধ্যে স্বস্তির সঞ্চার হয়েছে।

আমদানি বন্ধের প্রভাব: বাজারে অস্থিরতা ভোক্তার ক্ষোভ

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকদের মতে, আগস্টের শেষ দিন থেকে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় দেশের বাজারে ধীরে ধীরে ব্যাপক সংকট তৈরি হয়। সরবরাহ কমে যাওয়ায় পেঁয়াজের দাম ক্রমান্বয়ে বেড়ে গত দুই সপ্তাহ ধরেই বাজারে বিক্রি হয়েছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে। বিশেষ করে হিলি, দিনাজপুর, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

দেশি পেঁয়াজের উৎপাদন থাকলেও অতিরিক্ত চাহিদা এবং আমদানির অভাব বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছিল। অনেকেই অভিযোগ করেছিলেন, সিন্ডিকেট ও মজুদদাররা পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন।

সরকারের সিদ্ধান্তে বাজারে স্বস্তি

বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার গত শনিবার রাতে জরুরি ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেয়। সিদ্ধান্তটি জানাজানি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রোববার সকাল থেকেই পেঁয়াজের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়।

হিলি স্থলবন্দর ও দেশের অন্যান্য পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমে যায় দেশি পেঁয়াজের দাম। কিছু এলাকায় ৯০–১০০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি হতে শুরু করে, যা ভোক্তাদের জন্য বড় স্বস্তির খবর।

দ্রুত খালাস নিশ্চিত করতে নেয়া হয়েছে ব্যবস্থা

হিলি কাস্টমস রাজস্ব কর্মকর্তার এম জামান বাধন জানান, আমদানিকৃত পেঁয়াজ দ্রুত বাজারে পৌঁছানোর জন্য সব ধরনের খালাস কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। যাতে ট্রাক থেকে খালাস, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বাজারে পরিবহন—সবকিছু দ্রুত হয়।

তিনি বলেন, “গত ৩১ আগস্ট থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় রোববার বিকেল থেকেই ট্রাক ঢুকতে শুরু করেছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সবাইকে আমরা সহযোগিতা করছি।”

উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে আমদানি

হিলি স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কর্মকর্তা ইউসুফ আলী জানান, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য চারজন ব্যবসায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে আইপি (অনুমতি) পেয়েছেন। রোববার বিকেলে কয়েকটি ট্রাক প্রবেশ করেছে এবং নিয়ম অনুযায়ী পণ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে খালাসের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, “সরকার পুনরায় আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা না দেওয়া পর্যন্ত ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত থাকবে।”

সার্বিক চিত্র

ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি শুরু হওয়ায় বাজারে যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, তা এখনই অনুভূত হচ্ছে। দাম কমায় সাধারণ ভোক্তাদের স্বস্তি বাড়ছে, আর ব্যবসায়ীরাও আশাবাদী যে খুব শিগগিরই পেঁয়াজের বাজার পুরোপুরি স্থিতিশীল হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি শুরু, বাজারে কমলো দাম: কেজিতে কমেছে ৩০–৪০ টাকা

Update Time : ০৮:৩২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

তিন মাসের দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আবারও ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি শুরু হয়েছে। রোববার (৭ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রথম পেঁয়াজবাহী ট্রাকটি বাংলাদেশে প্রবেশ করার মধ্য দিয়ে পুনরায় এই কার্যক্রম চালু হয়। এ নিয়ে আমদানিকারক, ব্যবসায়ী এবং ভোক্তা—সবার মধ্যে স্বস্তির সঞ্চার হয়েছে।

আমদানি বন্ধের প্রভাব: বাজারে অস্থিরতা ভোক্তার ক্ষোভ

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকদের মতে, আগস্টের শেষ দিন থেকে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় দেশের বাজারে ধীরে ধীরে ব্যাপক সংকট তৈরি হয়। সরবরাহ কমে যাওয়ায় পেঁয়াজের দাম ক্রমান্বয়ে বেড়ে গত দুই সপ্তাহ ধরেই বাজারে বিক্রি হয়েছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে। বিশেষ করে হিলি, দিনাজপুর, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

দেশি পেঁয়াজের উৎপাদন থাকলেও অতিরিক্ত চাহিদা এবং আমদানির অভাব বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছিল। অনেকেই অভিযোগ করেছিলেন, সিন্ডিকেট ও মজুদদাররা পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন।

সরকারের সিদ্ধান্তে বাজারে স্বস্তি

বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার গত শনিবার রাতে জরুরি ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেয়। সিদ্ধান্তটি জানাজানি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রোববার সকাল থেকেই পেঁয়াজের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়।

হিলি স্থলবন্দর ও দেশের অন্যান্য পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমে যায় দেশি পেঁয়াজের দাম। কিছু এলাকায় ৯০–১০০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি হতে শুরু করে, যা ভোক্তাদের জন্য বড় স্বস্তির খবর।

দ্রুত খালাস নিশ্চিত করতে নেয়া হয়েছে ব্যবস্থা

হিলি কাস্টমস রাজস্ব কর্মকর্তার এম জামান বাধন জানান, আমদানিকৃত পেঁয়াজ দ্রুত বাজারে পৌঁছানোর জন্য সব ধরনের খালাস কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। যাতে ট্রাক থেকে খালাস, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বাজারে পরিবহন—সবকিছু দ্রুত হয়।

তিনি বলেন, “গত ৩১ আগস্ট থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় রোববার বিকেল থেকেই ট্রাক ঢুকতে শুরু করেছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সবাইকে আমরা সহযোগিতা করছি।”

উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে আমদানি

হিলি স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কর্মকর্তা ইউসুফ আলী জানান, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য চারজন ব্যবসায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে আইপি (অনুমতি) পেয়েছেন। রোববার বিকেলে কয়েকটি ট্রাক প্রবেশ করেছে এবং নিয়ম অনুযায়ী পণ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে খালাসের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, “সরকার পুনরায় আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা না দেওয়া পর্যন্ত ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত থাকবে।”

সার্বিক চিত্র

ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি শুরু হওয়ায় বাজারে যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, তা এখনই অনুভূত হচ্ছে। দাম কমায় সাধারণ ভোক্তাদের স্বস্তি বাড়ছে, আর ব্যবসায়ীরাও আশাবাদী যে খুব শিগগিরই পেঁয়াজের বাজার পুরোপুরি স্থিতিশীল হবে।