সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন বিতর্ক‘হাসিনাকে উদ্ধারে ভারত বিমানঘাঁটি ও কমান্ডো প্রস্তুত রেখেছিল’

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৮:৫৭:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৮৮ Time View

 

পিলখানা বিডিআর সদর দপ্তরে ২০০৯ সালের ২৫–২৬ ফেব্রুয়ারির নৃশংস হত্যাযজ্ঞ নিয়ে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে আবারও আলোচনায় এসেছে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজনদের নাম। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পরিকল্পনার বিভিন্ন ধাপে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা, কমান্ডো ইউনিট ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সম্পৃক্ততা নিয়ে একাধিক সাক্ষ্য ও তথ্য তাদের সামনে এসেছে।

তাপসের নাম সবচেয়ে বেশি উল্লেখ—প্রতিবেদন

কমিশনের তদন্তে শেখ হাসিনার ভাতিজা ও তৎকালীন আলোচিত ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের নাম সর্বাধিকবার উঠে এসেছে বলে জানানো হয়। প্রতিবেদনে দাবি, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের আগেই ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে কয়েক দফা গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যার বেশ কিছু অনুষ্ঠিত হয়েছিল তাপসের অফিস ও বাসায়।
কমিশন বলছে, এসব বৈঠকের এক পর্যায়ে ভারতীয় গোয়েন্দা প্রতিনিধিদের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের “শেষ পরিকল্পনা” চূড়ান্ত করা হয়।

India Today-এর প্রতিবেদনও উদ্ধৃত

তদন্ত প্রতিবেদনের সংযোজনী–৫৭-এ ভারতীয় পত্রিকা India Today-এ ১৬ মার্চ ২০০9 প্রকাশিত ‘More than a Mutiny’ শীর্ষক সৌরভ শুকলার প্রবন্ধ থেকে উদ্ধৃতি আনা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৯—পিলখানা ঘটনার দুই দিন পর—ভারত শেখ হাসিনাকে সম্ভাব্য উদ্ধার অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়—

  • ত্রিপুরায় একটি ফ্রন্টলাইন বিমানঘাঁটিতে দুটি দলে কমান্ডো প্রস্তুত রাখা হয়েছিল
  • কলকাতায় আরও একটি কমান্ডো প্লাটুন standby রাখা হয়

তদন্ত কমিশন বলছে, এ ধরনের প্রস্তুতি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে ভারতের সরাসরি আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।

ভারতীয় গোয়েন্দা কমান্ডো সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ

তদন্ত কমিশনের দাবি, বিভিন্ন সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে ভারতের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কমান্ডো ইউনিটের অন্তত ২৪ সদস্য পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা “পরিকল্পনা বা বাস্তবায়নে সরাসরি সম্পৃক্ত” ছিলেন।
তবে কমিশন এমন দাবির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা ও প্রমাণ আদালতের জন্য সংরক্ষণ করেছে বলে জানা যায়।

শেখ পরিবারের আরও সদস্যদের নাম

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়—

  • পরিকল্পনার সঙ্গে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী সদস্য শেখ সেলিমের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত মিলেছে
  • সেই সময়ের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ কিছু পরিকল্পনার ব্যাপারে অবহিত ছিলেন

এসবই কমিশনের সাক্ষ্যপ্রমাণ নির্ভর বক্তব্য—এমনটি প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।

ওয়ান–ইলেভেন পরবর্তী রাজনীতি ভারতের প্রভাব

কমিশনের ভাষ্য মতে, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার নির্বাচনজয় ও ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনে ভারতের “গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা” ছিল। ক্ষমতায় আসার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই সেনাবাহিনীর বহু অফিসারকে ধাপে ধাপে বিডিআরে পদায়ন করা হয়—যা কমিশনের মতে, ভবিষ্যৎ অস্থিতিশীলতার মঞ্চ তৈরি করে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, বিডিআরের হাতে সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাগুলোও ভারতের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছিল এবং তারই “প্রতিশোধমূলক প্রতিক্রিয়া” হিসেবেই পরিকল্পনা এগোতে থাকে।

সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ

তদন্ত কমিশন মনে করে, পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল সেনাবাহিনীর মনোবল বিপর্যস্ত করা বাংলাদেশের ওপর আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের একটি সুসমন্বিত পরিকল্পনা।
তবে এ ধরনের অভিযোগ নিশ্চিত প্রমাণ ছাড়া শুধুই কমিশনের মূল্যায়ন—সেটি প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন বিতর্ক‘হাসিনাকে উদ্ধারে ভারত বিমানঘাঁটি ও কমান্ডো প্রস্তুত রেখেছিল’

Update Time : ০৮:৫৭:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

 

পিলখানা বিডিআর সদর দপ্তরে ২০০৯ সালের ২৫–২৬ ফেব্রুয়ারির নৃশংস হত্যাযজ্ঞ নিয়ে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে আবারও আলোচনায় এসেছে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজনদের নাম। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পরিকল্পনার বিভিন্ন ধাপে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা, কমান্ডো ইউনিট ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সম্পৃক্ততা নিয়ে একাধিক সাক্ষ্য ও তথ্য তাদের সামনে এসেছে।

তাপসের নাম সবচেয়ে বেশি উল্লেখ—প্রতিবেদন

কমিশনের তদন্তে শেখ হাসিনার ভাতিজা ও তৎকালীন আলোচিত ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের নাম সর্বাধিকবার উঠে এসেছে বলে জানানো হয়। প্রতিবেদনে দাবি, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের আগেই ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে কয়েক দফা গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যার বেশ কিছু অনুষ্ঠিত হয়েছিল তাপসের অফিস ও বাসায়।
কমিশন বলছে, এসব বৈঠকের এক পর্যায়ে ভারতীয় গোয়েন্দা প্রতিনিধিদের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের “শেষ পরিকল্পনা” চূড়ান্ত করা হয়।

India Today-এর প্রতিবেদনও উদ্ধৃত

তদন্ত প্রতিবেদনের সংযোজনী–৫৭-এ ভারতীয় পত্রিকা India Today-এ ১৬ মার্চ ২০০9 প্রকাশিত ‘More than a Mutiny’ শীর্ষক সৌরভ শুকলার প্রবন্ধ থেকে উদ্ধৃতি আনা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৯—পিলখানা ঘটনার দুই দিন পর—ভারত শেখ হাসিনাকে সম্ভাব্য উদ্ধার অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়—

  • ত্রিপুরায় একটি ফ্রন্টলাইন বিমানঘাঁটিতে দুটি দলে কমান্ডো প্রস্তুত রাখা হয়েছিল
  • কলকাতায় আরও একটি কমান্ডো প্লাটুন standby রাখা হয়

তদন্ত কমিশন বলছে, এ ধরনের প্রস্তুতি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে ভারতের সরাসরি আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।

ভারতীয় গোয়েন্দা কমান্ডো সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ

তদন্ত কমিশনের দাবি, বিভিন্ন সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে ভারতের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কমান্ডো ইউনিটের অন্তত ২৪ সদস্য পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা “পরিকল্পনা বা বাস্তবায়নে সরাসরি সম্পৃক্ত” ছিলেন।
তবে কমিশন এমন দাবির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা ও প্রমাণ আদালতের জন্য সংরক্ষণ করেছে বলে জানা যায়।

শেখ পরিবারের আরও সদস্যদের নাম

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়—

  • পরিকল্পনার সঙ্গে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী সদস্য শেখ সেলিমের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত মিলেছে
  • সেই সময়ের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ কিছু পরিকল্পনার ব্যাপারে অবহিত ছিলেন

এসবই কমিশনের সাক্ষ্যপ্রমাণ নির্ভর বক্তব্য—এমনটি প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।

ওয়ান–ইলেভেন পরবর্তী রাজনীতি ভারতের প্রভাব

কমিশনের ভাষ্য মতে, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার নির্বাচনজয় ও ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনে ভারতের “গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা” ছিল। ক্ষমতায় আসার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই সেনাবাহিনীর বহু অফিসারকে ধাপে ধাপে বিডিআরে পদায়ন করা হয়—যা কমিশনের মতে, ভবিষ্যৎ অস্থিতিশীলতার মঞ্চ তৈরি করে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, বিডিআরের হাতে সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাগুলোও ভারতের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছিল এবং তারই “প্রতিশোধমূলক প্রতিক্রিয়া” হিসেবেই পরিকল্পনা এগোতে থাকে।

সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ

তদন্ত কমিশন মনে করে, পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল সেনাবাহিনীর মনোবল বিপর্যস্ত করা বাংলাদেশের ওপর আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের একটি সুসমন্বিত পরিকল্পনা।
তবে এ ধরনের অভিযোগ নিশ্চিত প্রমাণ ছাড়া শুধুই কমিশনের মূল্যায়ন—সেটি প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।