সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোববার থেকে শুরু হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:৪৩:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১১৫ Time View

দেশব্যাপী চলমান ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। বার্ষিক পরীক্ষা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যেন শৈক্ষিক ক্ষতির মুখে না পড়ে—এ বিবেচনায় শিক্ষকরা আগামী রোববার (ডিসেম্বর) থেকে সব শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ এবং বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ এক যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়—
“সহকারী শিক্ষকদের ন্যায্য তিন দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে চলমান কর্মসূচি আমরা পালন করেছি। তবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব, মানবিকতা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের প্রতি অঙ্গীকারের জায়গা থেকে বার্ষিক পরীক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করা হলো। পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব শিক্ষক নিয়মিত দায়িত্ব পালন করবেন।”

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আগামী রোববার থেকে সব শ্রেণির তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন তথা বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে। দুই সংগঠনের আলোচনার ভিত্তিতে পরীক্ষার পরবর্তী সময়ে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা আসবে।

শাটডাউনের পটভূমি

গত ডিসেম্বর থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা সর্বাত্মক কর্মবিরতি বা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ শুরু করেন। বেতন স্কেল সংশোধনসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের অগ্রগতি না থাকায় তারা এই কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় ১০ নভেম্বর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষকদের বেতন স্কেল ও গ্রেড পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে আশ্বাস দিলেও ২২ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরও বাস্তব কোনো অগ্রগতি না থাকায় শিক্ষকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

শিক্ষকদের তিন দফা দাবি

১. বেতন স্কেল উন্নয়ন
সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঘোষণামতে অন্তত ১১তম গ্রেডের প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে জারি করতে হবে।

২. উচ্চতর

গ্রেডে পদোন্নতি জটিলতা নিরসন
চাকরির ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে যে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার কথা, তা বাস্তবে নানা জটিলতার কারণে অধরা থেকে গেছে। শিক্ষকরা এই জটিলতা দূর করার দাবি জানাচ্ছেন।

৩. শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি
সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করতে হবে—এ দাবিও দীর্ঘদিনের।

পরীক্ষা চলবে, দাবি আদায়ের আন্দোলনও চলবে

শিক্ষক সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, পরীক্ষার সময় শাটডাউন স্থগিত হলেও দাবি আদায়ের সংগ্রাম চলমান থাকবে। পরীক্ষার পর শিক্ষকদের আন্দোলন আরও সুবিন্যস্তভাবে সামনে এগিয়ে নেওয়া হবে বলে তারা জানান।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রোববার থেকে শুরু হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা

Update Time : ০২:৪৩:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

দেশব্যাপী চলমান ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। বার্ষিক পরীক্ষা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যেন শৈক্ষিক ক্ষতির মুখে না পড়ে—এ বিবেচনায় শিক্ষকরা আগামী রোববার (ডিসেম্বর) থেকে সব শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ এবং বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ এক যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়—
“সহকারী শিক্ষকদের ন্যায্য তিন দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে চলমান কর্মসূচি আমরা পালন করেছি। তবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব, মানবিকতা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের প্রতি অঙ্গীকারের জায়গা থেকে বার্ষিক পরীক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করা হলো। পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব শিক্ষক নিয়মিত দায়িত্ব পালন করবেন।”

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আগামী রোববার থেকে সব শ্রেণির তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন তথা বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে। দুই সংগঠনের আলোচনার ভিত্তিতে পরীক্ষার পরবর্তী সময়ে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা আসবে।

শাটডাউনের পটভূমি

গত ডিসেম্বর থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা সর্বাত্মক কর্মবিরতি বা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ শুরু করেন। বেতন স্কেল সংশোধনসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের অগ্রগতি না থাকায় তারা এই কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় ১০ নভেম্বর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষকদের বেতন স্কেল ও গ্রেড পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে আশ্বাস দিলেও ২২ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরও বাস্তব কোনো অগ্রগতি না থাকায় শিক্ষকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

শিক্ষকদের তিন দফা দাবি

১. বেতন স্কেল উন্নয়ন
সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঘোষণামতে অন্তত ১১তম গ্রেডের প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে জারি করতে হবে।

২. উচ্চতর

গ্রেডে পদোন্নতি জটিলতা নিরসন
চাকরির ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে যে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার কথা, তা বাস্তবে নানা জটিলতার কারণে অধরা থেকে গেছে। শিক্ষকরা এই জটিলতা দূর করার দাবি জানাচ্ছেন।

৩. শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি
সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করতে হবে—এ দাবিও দীর্ঘদিনের।

পরীক্ষা চলবে, দাবি আদায়ের আন্দোলনও চলবে

শিক্ষক সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, পরীক্ষার সময় শাটডাউন স্থগিত হলেও দাবি আদায়ের সংগ্রাম চলমান থাকবে। পরীক্ষার পর শিক্ষকদের আন্দোলন আরও সুবিন্যস্তভাবে সামনে এগিয়ে নেওয়া হবে বলে তারা জানান।