ওসি রবিউল হকের বদলি: মতলব উত্তরে স্বস্তি ও নতুন আশার আলো
- Update Time : ১০:০৫:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১১৩ Time View

চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানায় দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ওসি মো. রবিউল হকের বদলিকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—তার দায়িত্বকাল জুড়ে থানায় সৃষ্টি হয়েছিল এক ধরনের ভয়-ভীতি, অনিয়ম আর গ্রেফতার–বাণিজ্যের সংস্কৃতি। অবশেষে তাকে অন্যত্র বদলি করা হওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে ফিরে এসেছে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের আশা।
দীর্ঘদিনের অভিযোগে জর্জরিত দায়িত্বকাল
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওসি রবিউল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা বেশ দীর্ঘ—
- গ্রেফতার-বাণিজ্যের অভিযোগ
- রিমান্ড দেখিয়ে অর্থ আদায়
- মামলায় ধারা পরিবর্তনের নামে চাঁদা দাবি
- রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিবেচনায় নিরীহ মানুষকে গ্রেফতার
- সাধারণ ডায়েরি গ্রহণে অনিয়ম
- তদন্তে ঘুষ–দুর্নীতিতে জড়িত থাকা
এমনকি কেউ কেউ দাবি করেছেন, মতলব উত্তরে দায়িত্ব পালনকালে তিনি কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এসব কারণে এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছিল ক্ষোভ ও আতঙ্কের পরিবেশ, কিন্তু ওসির প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাননি।
বদলির খবর ছড়াতেই উচ্ছ্বাস
ওসি রবিউলের বদলির খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় নাগরিকদের প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত তীব্র। শত শত মানুষ ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে স্বস্তির মন্তব্য করতে থাকেন। অনেকেই প্রকাশ করেছেন, “এখনো ন্যায়বিচারে বিশ্বাস ফেরানো সম্ভব”—এমন আশা।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, ওসির চাহিদামতো টাকা না পেলে মামলার ধারা কৃত্রিমভাবে কঠোর করা হতো, আবার যার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হতো তার রাজনৈতিক পরিচয় পর্যন্ত বদলে দেওয়া হতো। এক আইনজীবী অভিযোগ করে বলেন, টাকা না পাওয়ায় এক বিএনপি নেতাকে আওয়ামী লীগ পরিচয় দেখিয়ে চালান দেওয়া হয়েছিল—যা ছিল সম্পূর্ণ বেআইনি।
নির্বাচনের আগে রদবদল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশেই পুলিশ প্রশাসনে চলছে লটারিভিত্তিক রদবদল। সেই ধারাবাহিকতায় মতলব উত্তর থানার ওসি রবিউল হকও বদলি হয়েছেন। সরকারি সূত্রে জানা যায়, নিরপেক্ষ নির্বাচন ও সুষ্ঠু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন ওসির প্রতি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা
নতুন ওসি দায়িত্ব নেওয়ার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হবে—এমনটাই আশা করছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা—
- থানায় হয়রানি ও অনিয়ম বন্ধ হবে
- সেবার মান বাড়বে
- রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেফতার কমবে
- থানায় আবারও জনবান্ধব পরিবেশ ফিরে আসবে
মতলব উত্তরবাসীর বিশ্বাস, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে থানায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং ন্যায়বিচারের পরিবেশ নিশ্চিত হবে। দীর্ঘদিনের ভয়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে মানুষ আবারও পুলিশের ওপর আস্থা রাখতে পারবে—এমন আশায় বুক বেঁধেছেন তারা।















