সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিক শিক্ষকরা কাজে না ফিরলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:৪৩:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১১৯ Time View

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের চলমান কর্মবিরতি ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচিকে সরকারি শৃঙ্খলা চাকরি আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবিলম্বে কাজে যোগ না দিলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে চাকরি আইন, আচরণ বিধিমালা ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

কর্মসূচি বন্ধ করে কাজে যোগদানের নির্দেশ

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের কয়েকটি সংগঠন ১ ডিসেম্বর থেকে কর্মবিরতি এবং ৩ ডিসেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছে। এর ফলে চলমান বার্ষিক পরীক্ষায় ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, অনেক জায়গায় পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে, শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়—
অবিলম্বে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে বিদ্যালয়ে ফিরে পরীক্ষাসহ সব নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
অন্যথায় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেতনগ্রেডসহ তিন দাবির অগ্রগতি জানালো মন্ত্রণালয়

সহকারী শিক্ষকদের প্রধান তিন দাবি হলো—
১. ১১তম গ্রেডে বেতন স্কেল
২. ১০ ১৬ বছর চাকরির পর উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার জটিলতা নিরসন
৩. প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব দাবির বিষয়ে ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। যেমন—

  • আগস্ট সহকারী শিক্ষকদের বেতনস্কেল ১৩ থেকে ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণের অনুরোধ বেতন কমিশনের চেয়ারম্যানকে পাঠানো হয়েছে।
  • ১০ নভেম্বর অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে জানানো হয়—পে-কমিশনের প্রতিবেদন পেলেই বেতনস্কেল উন্নীতকরণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।
  • উপদেষ্টা, অর্থ উপদেষ্টা ও বেতন কমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনাও হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের দাবি—
দাবি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকরা কর্মবিরতি দিয়ে ভুল বার্তা দিচ্ছেন।

পরীক্ষায় বাধা, হামলা বিশৃঙ্খলার অভিযোগ

বিজ্ঞপ্তিতে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে—

  • অনেক শিক্ষক বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণে বাধা দিচ্ছেন
  • কিছু এলাকায় পরীক্ষা নিতে ইচ্ছুক শিক্ষকরা হামলা লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন
  • কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে

মন্ত্রণালয় বলেছে, এগুলো সরকারি চাকরি আইন ও আচরণ বিধিমালার লঙ্ঘনই নয়, বরং ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়েও পড়ে

শিক্ষকদের প্রতি চূড়ান্ত নির্দেশ

বিজ্ঞপ্তির শেষ অংশে স্পষ্টভাবে বলা হয়—

দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকগণকে অবিলম্বে কাজে যোগদান করে তৃতীয় প্রান্তিক পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় শৃঙ্খলাভঙ্গকারী হিসেবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে, শিক্ষকরা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ বিবেচনায় দায়িত্বশীল অবস্থান গ্রহণ করবেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রাথমিক শিক্ষকরা কাজে না ফিরলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

Update Time : ০২:৪৩:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের চলমান কর্মবিরতি ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচিকে সরকারি শৃঙ্খলা চাকরি আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবিলম্বে কাজে যোগ না দিলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে চাকরি আইন, আচরণ বিধিমালা ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

কর্মসূচি বন্ধ করে কাজে যোগদানের নির্দেশ

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের কয়েকটি সংগঠন ১ ডিসেম্বর থেকে কর্মবিরতি এবং ৩ ডিসেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছে। এর ফলে চলমান বার্ষিক পরীক্ষায় ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, অনেক জায়গায় পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে, শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়—
অবিলম্বে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে বিদ্যালয়ে ফিরে পরীক্ষাসহ সব নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
অন্যথায় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেতনগ্রেডসহ তিন দাবির অগ্রগতি জানালো মন্ত্রণালয়

সহকারী শিক্ষকদের প্রধান তিন দাবি হলো—
১. ১১তম গ্রেডে বেতন স্কেল
২. ১০ ১৬ বছর চাকরির পর উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার জটিলতা নিরসন
৩. প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব দাবির বিষয়ে ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। যেমন—

  • আগস্ট সহকারী শিক্ষকদের বেতনস্কেল ১৩ থেকে ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণের অনুরোধ বেতন কমিশনের চেয়ারম্যানকে পাঠানো হয়েছে।
  • ১০ নভেম্বর অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে জানানো হয়—পে-কমিশনের প্রতিবেদন পেলেই বেতনস্কেল উন্নীতকরণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।
  • উপদেষ্টা, অর্থ উপদেষ্টা ও বেতন কমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনাও হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের দাবি—
দাবি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকরা কর্মবিরতি দিয়ে ভুল বার্তা

দিচ্ছেন।

পরীক্ষায় বাধা, হামলা বিশৃঙ্খলার অভিযোগ

বিজ্ঞপ্তিতে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে—

  • অনেক শিক্ষক বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণে বাধা দিচ্ছেন
  • কিছু এলাকায় পরীক্ষা নিতে ইচ্ছুক শিক্ষকরা হামলা লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন
  • কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে

মন্ত্রণালয় বলেছে, এগুলো সরকারি চাকরি আইন ও আচরণ বিধিমালার লঙ্ঘনই নয়, বরং ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়েও পড়ে

শিক্ষকদের প্রতি চূড়ান্ত নির্দেশ

বিজ্ঞপ্তির শেষ অংশে স্পষ্টভাবে বলা হয়—

দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকগণকে অবিলম্বে কাজে যোগদান করে তৃতীয় প্রান্তিক পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় শৃঙ্খলাভঙ্গকারী হিসেবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে, শিক্ষকরা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ বিবেচনায় দায়িত্বশীল অবস্থান গ্রহণ করবেন।