আজ শহিদ ডা. মিলন দিবস: স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের অগ্নিশিখা
- Update Time : ০৬:৫০:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
- / ৯৩ Time View

আজ ২৭ নভেম্বর, শহিদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন দিবস। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সংগ্রামের ইতিহাসে এই দিনটি এক অনন্য গুরুত্ব বহন করে। ১৯৯০ সালের এই দিনে সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন চিকিৎসক নেতা ও জনপ্রিয় সংগঠক ডা. মিলনকে ঢাকার টিএসসি এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার এ হত্যাকাণ্ড যেন বিস্ফোরণের মতো আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে তোলে, এবং অচিরেই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের জোয়ারে স্বৈরতন্ত্রের পতন ঘটে।
ডা. মিলন তখন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) যুগ্ম মহাসচিব। তিনি পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখছিলেন। তার হত্যার মধ্য দিয়ে গণআंदোলন একটি দৃশ্যমান বাঁকবদল পায়—দেশব্যাপী স্বৈরাচারবিরোধী জনতার দাবানল আরও তীব্র হয়, আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত।
শহিদ মিলনের জীবনের সংক্ষিপ্ত পরিচয়
শহিদ ডা. শামসুল আলম খান মিলনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ছিল এক সচেতন শিক্ষিত পরিবারে।
• ১৯৭৩ সালে সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে এসএসসি
• ১৯৭৫ সালে নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি
• ১৯৮৩ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন
মানবসেবা ও ন্যায়বিচারের প্রতি গভীর বিশ্বাস থেকেই তিনি চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক-সামাজিক দায়বদ্ধতায় যুক্ত হন। অল্প বয়সেই হয়ে ওঠেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীকী মুখ।
দিবসটি উপলক্ষে নানা আয়োজন
প্রতি বছরের মতো এবারও রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন, ছাত্র সংগঠন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন মহল শহিদ মিলন দিবস পালন করছে। শহিদ মিনার বা টিএসসির সামনে মিলন স্মৃতিবেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, রক্তদান কর্মসূচি ও শোভাযাত্রার মতো নানা আয়োজন চলছে।
তারেক রহমানের বাণী: মিলনের আত্মত্যাগের চেতনা আজও প্রাসঙ্গিক
দিবসটি উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক বাণীতে বলেন,
তার বক্তব্যে স্পষ্ট—ডা. মিলনের আত্মদান কেবল ঐতিহাসিক নয়, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও তা প্রতিরোধ ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামে নতুন উদ্দীপনা জোগায়।
মিলনের আত্মদান: একটি যুগ-পরিবর্তনের মাইলফলক
ডা. মিলনের নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে যে গণবিস্ফোরণ সৃষ্টি হয়েছিল, তা একদিকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, অন্যদিকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করে। এরশাদের পতন, গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রা—সবকিছুরই কেন্দ্রে ছিলেন শহিদ মিলন।
বাংলাদেশের গণতন্ত্রপিপাসু মানুষের কাছে ২৭ নভেম্বর তাই শুধু একটি স্মরণের দিন নয়—এটি প্রতিরোধ, আত্মত্যাগ ও গণমানুষের ঐক্যের প্রতীক।
আজ শহিদ ডা. মিলন দিবস: স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের অগ্নিশিখা
আজ ২৭ নভেম্বর, শহিদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন দিবস। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সংগ্রামের ইতিহাসে এই দিনটি এক অনন্য গুরুত্ব বহন করে। ১৯৯০ সালের এই দিনে সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন চিকিৎসক নেতা ও জনপ্রিয় সংগঠক ডা. মিলনকে ঢাকার টিএসসি এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার এ হত্যাকাণ্ড যেন বিস্ফোরণের মতো আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে তোলে, এবং অচিরেই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের জোয়ারে স্বৈরতন্ত্রের পতন ঘটে।
ডা. মিলন তখন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) যুগ্ম মহাসচিব। তিনি পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখছিলেন। তার হত্যার মধ্য দিয়ে গণআंदোলন একটি দৃশ্যমান বাঁকবদল পায়—দেশব্যাপী স্বৈরাচারবিরোধী জনতার দাবানল আরও তীব্র হয়, আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত।
শহিদ মিলনের জীবনের সংক্ষিপ্ত পরিচয়
শহিদ ডা. শামসুল আলম খান মিলনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ছিল এক সচেতন শিক্ষিত পরিবারে।
• ১৯৭৩ সালে সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে এসএসসি
• ১৯৭৫ সালে নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি
• ১৯৮৩ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন
মানবসেবা ও ন্যায়বিচারের প্রতি গভীর বিশ্বাস থেকেই তিনি চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক-সামাজিক দায়বদ্ধতায় যুক্ত হন। অল্প বয়সেই হয়ে ওঠেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীকী মুখ।
দিবসটি উপলক্ষে নানা আয়োজন
প্রতি বছরের মতো এবারও রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন, ছাত্র সংগঠন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন মহল শহিদ মিলন দিবস পালন করছে। শহিদ মিনার বা টিএসসির সামনে মিলন স্মৃতিবেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, রক্তদান কর্মসূচি ও শোভাযাত্রার মতো নানা আয়োজন চলছে।
তারেক রহমানের বাণী: মিলনের আত্মত্যাগের চেতনা আজও প্রাসঙ্গিক
দিবসটি উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক বাণীতে বলেন,
“ঐক্যবদ্ধ থাকলে ষড়যন্ত্রকারীরা কখনো সফল হতে পারে না। পতিত আওয়ামী সরকারের গত ১৬ বছরের শাসনামলে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, গণতন্ত্রকে কবরস্থ করা হয়েছিল। ৫ আগস্টের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা যেন নতুন স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছি, কিন্তু এখনো দেশি–বিদেশি ষড়যন্ত্র থেমে নেই। শহিদ ডা. মিলনের আত্মত্যাগ আমাদের জন্য সবসময়ই প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”
তার বক্তব্যে স্পষ্ট—ডা. মিলনের আত্মদান কেবল ঐতিহাসিক নয়, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও তা প্রতিরোধ ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামে নতুন উদ্দীপনা জোগায়।
মিলনের আত্মদান: একটি যুগ-পরিবর্তনের মাইলফলক
ডা. মিলনের নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে যে গণবিস্ফোরণ সৃষ্টি হয়েছিল, তা একদিকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, অন্যদিকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করে। এরশাদের পতন, গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রা—সবকিছুরই কেন্দ্রে ছিলেন শহিদ মিলন।
বাংলাদেশের গণতন্ত্রপিপাসু মানুষের কাছে ২৭ নভেম্বর তাই শুধু একটি স্মরণের দিন নয়—এটি প্রতিরোধ, আত্মত্যাগ ও গণমানুষের ঐক্যের প্রতীক।














