সিজিএসের অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি অধ্যাপক বশির
- Update Time : ০৮:৫৮:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
- / ১১৯ Time View

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় মদদ দেওয়ার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কৃত অধ্যাপক বশির আহমেদ আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে। চলমান বিচারপ্রক্রিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও তিনি শনিবার (২২ নভেম্বর) ঢাকায় সেন্টার ফর গভার্ন্যান্স স্টাডিজ – সিজিএস আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৫’ সম্মেলনে অংশ নেন। এ ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অংশীজনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠান
রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত সিজিএসের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে দিনটি ছিল অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি আয়োজন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বহিষ্কৃত ও মামলার আসামি অধ্যাপক বশিরের উপস্থিতি অনেকে অসংগত ও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করেছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হামলায় ‘অভিযুক্ত ভূমিকা’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে সংঘটিত হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় তখনকার সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন বশির আহমেদ অভিযুক্ত হন।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’-এর সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
হামলার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অধ্যাপক বশির ছিলেন “মূল নেপথ্য ক্রীড়নক”—যিনি হামলাকারীদের সংগঠিত ও প্ররোচিত করেছিলেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার সংশ্লিষ্টতার সত্যতা পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে।
বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্রাকচারাল তদন্ত কমিটি আরও গভীর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
আশুলিয়ায় দায়ের হওয়া হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি
এছাড়া, ঢাকার আশুলিয়া থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যাচেষ্টা মামলাতেও তিনি আসামি। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। এই অবস্থায় একটি আন্তর্জাতিক মানের সেমিনারে তার উপস্থিতি আইনগত ও নৈতিক দিক থেকে সমালোচিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মহলে।
শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভ
বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন—
“জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা আমাদের উপর হামলা করেছে বা হামলায় মদদ দিয়েছে, তাদের এই ধরনের মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে অবাধে ঘুরে বেড়ানো আমাদের জন্য অপমানজনক। একাধিক মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও তাদের অর্ধেক বেতন চালিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত তাদের বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।”
আহত শিক্ষকের নিন্দা
জুলাই হামলায় আহত ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. খো. লুৎফুল এলাহী কঠোর সমালোচনা করে বলেন—
“শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত একজন আসামিকে এ ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক সমাবেশে আমন্ত্রণ জানানো লজ্জাজনক। তার বিরুদ্ধে মামলাও রয়েছে, তদন্তও চলছে। তবু এমন আয়োজনে সুযোগ দেওয়া—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি অবমাননা।”
প্রশ্নবিদ্ধ নৈতিকতা ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা
অধ্যাপক বশিরের উপস্থিতি শুধু বিতর্কই সৃষ্টি করেনি, বরং সিজিএসের আমন্ত্রণ প্রক্রিয়া ও যাচাইকরণ পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়। অনেকের মতে, একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আমন্ত্রিত অতিথির তালিকা করার সময় অংশগ্রহণকারীদের পটভূমি সম্পর্কে আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল।
এ ঘটনাকে অনেকে দেখছেন—আইন, নৈতিকতা ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলতার এক বড় পরীক্ষার অংশ হিসেবে।














