সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসিনার আমলের গুম–নির্যাতনে নীরব এইচআরডব্লিউ আজ এত সক্রিয় কেন?

বিল্লাল হোসেন
  • Update Time : ০৪:৫৭:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৯২ Time View

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্প্রতি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে। এই রায়কে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে সেই বিবৃতি ঘিরে দেশব্যাপী প্রশ্ন উঠেছে—এই উদ্বেগ কি সত্যিকারের মানবাধিকারজনিত, নাকি রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থান?

ভারতীয় নাগরিক মীনাক্ষী গাঙ্গুলির বিবৃতি পক্ষপাতের অভিযোগ

এইচআরডব্লিউ–র এশিয়া বিভাগের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি তার বিবৃতিতে দাবি করেন, হাসিনা–কামালের অনুপস্থিতিতে বিচার এবং তাদের নিজের পছন্দের আইনজীবী না পাওয়ার বিষয়টি “আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের মানদণ্ড পূরণ করেনি।”

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—
২০১0–২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, স্কাইপ কেলেঙ্কারি, ICT–তে ভুয়া সাক্ষী, সাজানো সাক্ষ্যদানের অভিযোগ—এসব বিষয়ে এইচআরডব্লিউ এবং মীনাক্ষী গাঙ্গুলি কোথায় ছিলেন?

শুধু তাই নয়, যখন ICT–তে একের পর এক ভুয়া সাক্ষ্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রায়, বিচারকের অসদাচরণ এবং স্কাইপ স্ক্যান্ডাল প্রকাশ্যে আসে, তখন এইচআরডব্লিউ কেন গভীর তদন্ত দাবি করল না? কেন সেই সময়ে বাংলাদেশিদের ক্রন্দন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলে তোলার চেষ্টা হলো না? 

দেশের মানুষের প্রশ্ন সরাসরি:
আপনি ভারতীয় বলে ভারতের সরকারি অবস্থানের সঙ্গে মিল রেখে কথা বলছেন না তো?”

কারণ, অতীতে হাসিনার আমলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ভারতীয় মানবাধিকার লবির নীরবতা এই সন্দেহকে আরও জোরদার করেছে।

এইচআরডব্লিউর যুক্তি বাংলাদেশের বাস্তবতা: কোনটি সত্য?

এইচআরডব্লিউ তাদের বিবৃতিতে বলেছে—
• হাসিনা ও কামালের অনুপস্থিতিতে বিচার হয়েছে
• নিজেদের পছন্দের আইনজীবী পাননি
• আত্মপক্ষ সমর্থন ও ক্রস-এক্সামিনেশন সীমিত
• মৃত্যুদণ্ডের রায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের বাইরে

কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—

/> ২০১০-২০২৩ সালে আইসিটি ট্রাইব্যুনালে যখন একই ধরনের অভিযোগ ওঠে, তখন এইচআরডব্লিউ কোথায় ছিল?
তখন কি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মানা হয়েছিল?
তখন কি মানবাধিকারের নামে নিরবতা রাজনৈতিক সুবিধা হিসেবেই গণ্য হয়?

আজ যখন প্রথমবার দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহত-নির্যাতিত হাজারো পরিবার মনে করছে তারা ন্যায়বিচারের পথে একধাপ এগিয়েছে, তখন আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষপাতী বিবৃতি অনেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ মনে হচ্ছে।

 

জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থান: রক্তঝরা সপ্তাহগুলোর বিবরণ

২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নেতৃত্বে তিন সপ্তাহব্যাপী গণবিক্ষোভে জাতিসংঘের হিসাবে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়। অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়—নিহতদের মধ্যে ছিল স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, তরুণ, এমনকি সাধারণ পথচারীও।

আদালতে প্রসিকিউশন যে ৫৪ জন সাক্ষী হাজির করে—
• এদের অর্ধেক বিশেষজ্ঞ
• বাকিরা সরাসরি ভুক্তভোগী বা পরিবার
• আদালতে হাসিনার ভয়েস রেকর্ডিং বাজানো হয়, যেখানে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতির নির্দেশ শোনা যায়

এইসব প্রমাণ আদালতের রায়কে আরও শক্তিশালী করেছে বলে বিচারকরা জানান।

রায়ে কী বলা হয়েছে?

৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের মূল পয়েন্ট:

  • রোম স্ট্যাটিউটের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদকে ভিত্তি ধরা হয়েছে
    • হাসিনার নির্দেশে দমন–পীড়ন চালানো হয়েছে
    • ড্রোন, হেলিকপ্টার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি ছিল
    • নিরাপত্তা বাহিনীর তিনটি হত্যাকাণ্ড ঠেকাতে ব্যর্থতা
    • ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য রায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ
    • হাসিনা সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে নিজের “নেতৃত্বের দায়” স্বীকার করেছেন

 

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন সংশোধন: মানবাধিকার সংস্থার প্রশংসা সমালোচনা

ইয়ুনুস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন সংশোধন করে—
• গুমকে স্পষ্টভাবে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি
• কমান্ড রেসপনসিবিলিটি পরিষ্কারভাবে সংজ্ঞায়িত
• রোম স্ট্যাটিউটের সঙ্গে সামঞ্জস্য

কিন্তু ২০২৫ সালের সংশোধনীতে “রাজনৈতিক দল ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা” যোগ করায় এইচআরডব্লিউ উদ্বেগ জানায়।

 

ভারতকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ আন্তর্জাতিক বিতর্ক

বাংলাদেশ সরকার ভারতকে হাসিনা-কামালকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। এইচআরডব্লিউ বলছে—
ভারত যেন নিশ্চিত করে:
• মৃত্যু–ঝুঁকি নেই
• অন্যায্য বিচারের ঝুঁকি নেই

এতেও প্রশ্ন উঠেছে—
তারা কি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থাকে অবমূল্যায়ন করছে, নাকি ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক সমন্বয় রক্ষা করছে?

 

শেষ কথা: ন্যায়বিচার কি একমুখী নাকি সব পক্ষের অধিকারই সমান গুরুত্বপূর্ণ?

এইচআরডব্লিউর বিবৃতিতে দেশের মানুষের ক্ষোভের মূল কারণ একটাই—
দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হওয়া বাঙালিদের কণ্ঠ যখন চাপা ছিল, তখন বৈশ্বিক সংস্থাগুলো নীরব ছিল; আজ বিচার শুরু হলে তারা হঠাৎ সক্রিয়।

মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেছেন—
“ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা মানে অভিযুক্তদের অধিকারও সুরক্ষিত করা।”

কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের প্রশ্ন হলো—
তাহলে এত বছর ধরে ভুক্তভোগীদের অধিকার কোথায় ছিল?
তাদের কণ্ঠস্বর তখন কেন শোনা হয়নি?
আজ যখন জনগণ ন্যায়বিচারের আলো দেখতে শুরু করেছে, তখন হঠাৎ মানবাধিকারের ঢাল তোলা কি সত্যিই নিরপেক্ষতা?

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিল্লাল হোসেন

বিল্লাল হোসেন, একজন প্রজ্ঞাবান পেশাজীবী, যিনি গণিতের ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ, ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ হিসেবে একটি সমৃদ্ধ ও বহুমুখী ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। তার আর্থিক খাতে যাত্রা তাকে নেতৃত্বের ভূমিকায় নিয়ে গেছে, বিশেষ করে সৌদি আরবের আল-রাজি ব্যাংকিং Inc. এবং ব্যাংক-আল-বিলাদে বিদেশী সম্পর্ক ও করেসপন্ডেন্ট মেইন্টেনেন্স অফিসার হিসেবে। প্রথাগত অর্থনীতির গণ্ডির বাইরে, বিল্লাল একজন প্রখ্যাত লেখক ও বিশ্লেষক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে মননশীল কলাম ও গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করে। তার দক্ষতা বিস্তৃত বিষয় জুড়ে রয়েছে, যেমন অর্থনীতির জটিলতা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, প্রবাসী শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট, রেমিটেন্স, রিজার্ভ এবং অন্যান্য সম্পর্কিত দিক। বিল্লাল তার লেখায় একটি অনন্য বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসেন, যা ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে অর্জিত বাস্তব জ্ঞানকে একত্রিত করে একাডেমিক কঠোরতার সাথে। তার প্রবন্ধগুলো শুধুমাত্র জটিল বিষয়গুলির উপর গভীর বোঝাপড়ার প্রতিফলন নয়, বরং পাঠকদের জন্য জ্ঞানপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে, যা তত্ত্ব ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। বিল্লাল হোসেনের অবদান তার প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে যে, তিনি আমাদের আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বের জটিলতাগুলি উন্মোচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি বিস্তৃত এবং আরও সূক্ষ্ম বোঝাপড়ার দিকে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

হাসিনার আমলের গুম–নির্যাতনে নীরব এইচআরডব্লিউ আজ এত সক্রিয় কেন?

Update Time : ০৪:৫৭:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্প্রতি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে। এই রায়কে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে সেই বিবৃতি ঘিরে দেশব্যাপী প্রশ্ন উঠেছে—এই উদ্বেগ কি সত্যিকারের মানবাধিকারজনিত, নাকি রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থান?

ভারতীয় নাগরিক মীনাক্ষী গাঙ্গুলির বিবৃতি পক্ষপাতের অভিযোগ

এইচআরডব্লিউ–র এশিয়া বিভাগের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি তার বিবৃতিতে দাবি করেন, হাসিনা–কামালের অনুপস্থিতিতে বিচার এবং তাদের নিজের পছন্দের আইনজীবী না পাওয়ার বিষয়টি “আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের মানদণ্ড পূরণ করেনি।”

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—
২০১0–২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, স্কাইপ কেলেঙ্কারি, ICT–তে ভুয়া সাক্ষী, সাজানো সাক্ষ্যদানের অভিযোগ—এসব বিষয়ে এইচআরডব্লিউ এবং মীনাক্ষী গাঙ্গুলি কোথায় ছিলেন?

শুধু তাই নয়, যখন ICT–তে একের পর এক ভুয়া সাক্ষ্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রায়, বিচারকের অসদাচরণ এবং স্কাইপ স্ক্যান্ডাল প্রকাশ্যে আসে, তখন এইচআরডব্লিউ কেন গভীর তদন্ত দাবি করল না? কেন সেই সময়ে বাংলাদেশিদের ক্রন্দন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলে তোলার চেষ্টা হলো না? 

দেশের মানুষের প্রশ্ন সরাসরি:
আপনি ভারতীয় বলে ভারতের সরকারি অবস্থানের সঙ্গে মিল রেখে কথা বলছেন না তো?”

কারণ, অতীতে হাসিনার আমলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ভারতীয় মানবাধিকার লবির নীরবতা এই সন্দেহকে আরও জোরদার করেছে।

এইচআরডব্লিউর যুক্তি বাংলাদেশের বাস্তবতা: কোনটি সত্য?

এইচআরডব্লিউ তাদের বিবৃতিতে বলেছে—
• হাসিনা ও কামালের অনুপস্থিতিতে বিচার হয়েছে
• নিজেদের পছন্দের আইনজীবী পাননি
• আত্মপক্ষ সমর্থন ও ক্রস-এক্সামিনেশন সীমিত
• মৃত্যুদণ্ডের রায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের বাইরে

কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—

/> ২০১০-২০২৩ সালে আইসিটি ট্রাইব্যুনালে যখন একই ধরনের অভিযোগ ওঠে, তখন এইচআরডব্লিউ কোথায় ছিল?
তখন কি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মানা হয়েছিল?
তখন কি মানবাধিকারের নামে নিরবতা রাজনৈতিক সুবিধা হিসেবেই গণ্য হয়?

আজ যখন প্রথমবার দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহত-নির্যাতিত হাজারো পরিবার মনে করছে তারা ন্যায়বিচারের পথে একধাপ এগিয়েছে, তখন আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষপাতী বিবৃতি অনেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ মনে হচ্ছে।

 

জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থান: রক্তঝরা সপ্তাহগুলোর বিবরণ

২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নেতৃত্বে তিন সপ্তাহব্যাপী গণবিক্ষোভে জাতিসংঘের হিসাবে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়। অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়—নিহতদের মধ্যে ছিল স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, তরুণ, এমনকি সাধারণ পথচারীও।

আদালতে প্রসিকিউশন যে ৫৪ জন সাক্ষী হাজির করে—
• এদের অর্ধেক বিশেষজ্ঞ
• বাকিরা সরাসরি ভুক্তভোগী বা পরিবার
• আদালতে হাসিনার ভয়েস রেকর্ডিং বাজানো হয়, যেখানে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতির নির্দেশ শোনা যায়

এইসব প্রমাণ আদালতের রায়কে আরও শক্তিশালী করেছে বলে বিচারকরা জানান।

রায়ে কী বলা হয়েছে?

৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের মূল পয়েন্ট:

  • রোম স্ট্যাটিউটের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদকে ভিত্তি ধরা হয়েছে
    • হাসিনার নির্দেশে দমন–পীড়ন চালানো হয়েছে
    • ড্রোন, হেলিকপ্টার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি ছিল
    • নিরাপত্তা বাহিনীর তিনটি হত্যাকাণ্ড ঠেকাতে ব্যর্থতা
    • ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য রায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ
    • হাসিনা সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে নিজের “নেতৃত্বের দায়” স্বীকার করেছেন

 

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন সংশোধন: মানবাধিকার সংস্থার প্রশংসা সমালোচনা

ইয়ুনুস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন সংশোধন করে—
• গুমকে স্পষ্টভাবে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি
• কমান্ড রেসপনসিবিলিটি পরিষ্কারভাবে সংজ্ঞায়িত
• রোম স্ট্যাটিউটের সঙ্গে সামঞ্জস্য

কিন্তু ২০২৫ সালের সংশোধনীতে “রাজনৈতিক দল ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা” যোগ করায় এইচআরডব্লিউ উদ্বেগ জানায়।

 

ভারতকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ আন্তর্জাতিক বিতর্ক

বাংলাদেশ সরকার ভারতকে হাসিনা-কামালকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। এইচআরডব্লিউ বলছে—
ভারত যেন নিশ্চিত করে:
• মৃত্যু–ঝুঁকি নেই
• অন্যায্য বিচারের ঝুঁকি নেই

এতেও প্রশ্ন উঠেছে—
তারা কি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থাকে অবমূল্যায়ন করছে, নাকি ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক সমন্বয় রক্ষা করছে?

 

শেষ কথা: ন্যায়বিচার কি একমুখী নাকি সব পক্ষের অধিকারই সমান গুরুত্বপূর্ণ?

এইচআরডব্লিউর বিবৃতিতে দেশের মানুষের ক্ষোভের মূল কারণ একটাই—
দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হওয়া বাঙালিদের কণ্ঠ যখন চাপা ছিল, তখন বৈশ্বিক সংস্থাগুলো নীরব ছিল; আজ বিচার শুরু হলে তারা হঠাৎ সক্রিয়।

মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেছেন—
“ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা মানে অভিযুক্তদের অধিকারও সুরক্ষিত করা।”

কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের প্রশ্ন হলো—
তাহলে এত বছর ধরে ভুক্তভোগীদের অধিকার কোথায় ছিল?
তাদের কণ্ঠস্বর তখন কেন শোনা হয়নি?
আজ যখন জনগণ ন্যায়বিচারের আলো দেখতে শুরু করেছে, তখন হঠাৎ মানবাধিকারের ঢাল তোলা কি সত্যিই নিরপেক্ষতা?