সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতীয় নম্বর থেকে হুমকি: “হাসিনাকে ফাঁসি দিলে কাউকে ছাড় নয়”—রায় ঘোষণার আগের রাতে চাপে প্রসিকিউশন টিম

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:২৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৩৯ Time View

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বহুল আলোচিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণার আগের রাতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রসিকিউশন টিমের বেশ কয়েকজন সদস্য দাবি করেছেন, রবিবার রাত থেকেই তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে ভারতীয় কান্ট্রি কোডযুক্ত অজানা নম্বর থেকে একের পর এক কল গিয়ে ভয়াবহ হুমকি দেওয়া হয়েছে।

প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কলগুলোর বেশিরভাগেই অশালীন ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করা হয়। কলদাতারা রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ‘গুরুতর পরিণতি’র হুমকি দেয় এবং স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়— হাসিনার বিরুদ্ধে রায় গেলে তোমাদের কেউই রেহাই পাবে না।”

একাধিক প্রসিকিউটরের কাছে একই ধরনের হুমকি

প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহ বলেন, “গতকাল সন্ধ্যা থেকেই ফোন আসা শুরু হয়। ভারতীয় নম্বর থেকে একটার পর একটা কল—কখনো নোংরা ভাষা, কখনো আবার সরাসরি হুমকি। বেশিরভাগ কলের বক্তব্য একই—হাসিনার বিরুদ্ধে রায় গেলে আমরা কেউ নিরাপদ থাকব না।”

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, “রাতভর অসংখ্য কল পেয়েছি। ভাষা ছিল অত্যন্ত উসকানিমূলক। পরিস্থিতি এতটাই বিরক্তিকর হয়ে ওঠে যে, শেষ পর্যন্ত ফোন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হই।”

তবে তিনি হুমকিদাতাদের লাগামহীন কথাবার্তাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তার মন্তব্য, যারা ভয় দেখায় তারা আসলে কাপুরুষ। আমরা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি—হুমকিতে ভয় পেলে সত্যের বিচার সম্ভব নয়।”

প্রসিকিউশনের উদ্বেগ: হুমকি কি সমন্বিত কোনো প্রচেষ্টা?

তবে হুমকির ধরন ও সময় দেখে দলটির কয়েকজন সদস্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কারণ—
• একই রাতে,
• বিভিন্ন ভারতীয় কান্ট্রি কোড (+91) যুক্ত নম্বর থেকে,
• একাধিক প্রসিকিউটরের কাছে,
• একই ভাষা ও একই বার্তা।

এটি কি কোনো সমন্বিত অপচেষ্টা, নাকি বিচ্ছিন্ন ঘটনা—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার প্রস্তুতি

প্রসিকিউশন টিমের কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হবে। কল রেকর্ড, স্ক্রিনশট ও নম্বরগুলো তদন্ত সংস্থাকে হস্তান্তরের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনাল এলাকায় রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আগেই বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সেনা, র‌্যাব, পুলিশ, এপিবিএন ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা একাধিক স্তরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রসিকিউটরদের উদ্দেশে দেওয়া হুমকি নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

আইনবিদদের মতামত

প্রখ্যাত আইনজীবীরা মনে করছেন—
“এমন হুমকি বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার স্পষ্ট চেষ্টা। এটি আদালত অবমাননার শামিল এবং সাইবার আইনসহ ফৌজদারি আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।”

রায়ের আগের রাতেই উত্তেজনা চরমে

শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে যখন ট্রাইব্যুনাল এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা, দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের ভিড় এবং সারাদেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে—ঠিক তখনই প্রসিকিউশন টিমের এই ‘হুমকি প্রাপ্তি’ বিচার প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভারতীয় নম্বর থেকে হুমকি: “হাসিনাকে ফাঁসি দিলে কাউকে ছাড় নয়”—রায় ঘোষণার আগের রাতে চাপে প্রসিকিউশন টিম

Update Time : ১২:২৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বহুল আলোচিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণার আগের রাতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রসিকিউশন টিমের বেশ কয়েকজন সদস্য দাবি করেছেন, রবিবার রাত থেকেই তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে ভারতীয় কান্ট্রি কোডযুক্ত অজানা নম্বর থেকে একের পর এক কল গিয়ে ভয়াবহ হুমকি দেওয়া হয়েছে।

প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কলগুলোর বেশিরভাগেই অশালীন ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করা হয়। কলদাতারা রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ‘গুরুতর পরিণতি’র হুমকি দেয় এবং স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়— হাসিনার বিরুদ্ধে রায় গেলে তোমাদের কেউই রেহাই পাবে না।”

একাধিক প্রসিকিউটরের কাছে একই ধরনের হুমকি

প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহ বলেন, “গতকাল সন্ধ্যা থেকেই ফোন আসা শুরু হয়। ভারতীয় নম্বর থেকে একটার পর একটা কল—কখনো নোংরা ভাষা, কখনো আবার সরাসরি হুমকি। বেশিরভাগ কলের বক্তব্য একই—হাসিনার বিরুদ্ধে রায় গেলে আমরা কেউ নিরাপদ থাকব না।”

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, “রাতভর অসংখ্য কল পেয়েছি। ভাষা ছিল অত্যন্ত উসকানিমূলক। পরিস্থিতি এতটাই বিরক্তিকর হয়ে ওঠে যে, শেষ পর্যন্ত ফোন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হই।”

তবে তিনি হুমকিদাতাদের লাগামহীন কথাবার্তাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তার মন্তব্য, যারা ভয় দেখায় তারা আসলে কাপুরুষ। আমরা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি—হুমকিতে ভয় পেলে সত্যের বিচার সম্ভব নয়।”

প্রসিকিউশনের উদ্বেগ: হুমকি কি সমন্বিত কোনো প্রচেষ্টা?

তবে হুমকির ধরন ও সময় দেখে দলটির কয়েকজন সদস্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কারণ—
• একই রাতে,
• বিভিন্ন ভারতীয় কান্ট্রি কোড (+91) যুক্ত নম্বর থেকে,
• একাধিক প্রসিকিউটরের কাছে,
• একই ভাষা ও একই বার্তা।

এটি কি কোনো সমন্বিত অপচেষ্টা, নাকি বিচ্ছিন্ন ঘটনা—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার প্রস্তুতি

প্রসিকিউশন টিমের কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হবে। কল রেকর্ড, স্ক্রিনশট ও নম্বরগুলো তদন্ত সংস্থাকে হস্তান্তরের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনাল এলাকায় রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আগেই বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সেনা, র‌্যাব, পুলিশ, এপিবিএন ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা একাধিক স্তরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রসিকিউটরদের উদ্দেশে দেওয়া হুমকি নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

আইনবিদদের মতামত

প্রখ্যাত আইনজীবীরা মনে করছেন—
“এমন হুমকি বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার স্পষ্ট চেষ্টা। এটি আদালত অবমাননার শামিল এবং সাইবার আইনসহ ফৌজদারি আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।”

রায়ের আগের রাতেই উত্তেজনা চরমে

শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে যখন ট্রাইব্যুনাল এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা, দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের ভিড় এবং সারাদেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে—ঠিক তখনই প্রসিকিউশন টিমের এই ‘হুমকি প্রাপ্তি’ বিচার প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।