সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে নেওয়া হচ্ছে দুটি বুলডোজার — উত্তপ্ত নিরাপত্তা পরিবেশে ছাত্রজনতার স্লোগান

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:৪৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২১৯ Time View

ঢাকা — সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ট্রাকে করে দুটি বুলডোজার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ট্রাকের ওপরে থাকা বুলডোজারগুলোতে কয়েকজন তরুণকে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এলাকাজুড়ে মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থলে থাকা প্রতিবেদক জানান, তরুণদের একটি দল বুলডোজারের ওপরে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিচ্ছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল— “জায়গা ফিরে পাওয়া”, “মাঠ গড়ে তোলা”, অথবা “দুর্নীতির প্রতীক ভাঙার” আহ্বান। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তৎক্ষণাৎ বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করা হয়।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে প্রবেশের প্রধান রাস্তাগুলোতে সাঁজোয়া যান (APC) রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‍্যাব ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এলাকাজুড়ে কঠোর তল্লাশি চলছে।

অতীতের উত্তাল ঘটনাগুলো

এর আগে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে, একটি বুলডোজার এসে গুঁড়িয়ে দেয় ধানমন্ডি ৩২-এর বাড়ির অবশিষ্টাংশ। সেই সময় একটি বড় এক্সকাভেটরও আনা হয়েছিল।
এরও আগে, গত বছরের আগস্ট, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে ছাত্রজনতা ও স্থানীয় বিক্ষুব্ধরা ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাসভবনটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এ বাড়িটি বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করত—এখানেই বসবাস করতেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই বাড়িটিকে ঘিরে রাজনৈতিক আবেগ ও উত্তেজনা বরাবরই প্রবল।

আজকের রায় ঘোষণার প্রেক্ষাপট

আজই জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রায়কে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ “কমপ্লিট শাটডাউন” কর্মসূচি পালন করছে, যা কারণে শহরজুড়ে পরিবহন কম, দোকানপাট বন্ধ এবং সর্বত্র উত্তেজনাপূর্ণ নীরবতা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো পরিস্থিতিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে এবং ধানমন্ডি ৩২-সহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

উত্তপ্ত

পরিস্থিতিতে বুলডোজারের আগমন

এসব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তা ঘিরে ধানমন্ডি ৩২-এ বুলডোজার আনার ঘটনা নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি হয়তো এলাকার দখল–সংক্রান্ত সংকট বা ছাত্র উদ্যোগের অংশ। আবার অনেকে মনে করছেন, শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে প্রতীকী পদক্ষেপও হতে পারে।

যাই হোক, ধানমন্ডি ৩২ আবারও দেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে, আর বুলডোজারের প্রবেশ সেই উত্তেজনাকে আরও ঘনীভূত করেছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে নেওয়া হচ্ছে দুটি বুলডোজার — উত্তপ্ত নিরাপত্তা পরিবেশে ছাত্রজনতার স্লোগান

Update Time : ১২:৪৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকা — সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ট্রাকে করে দুটি বুলডোজার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ট্রাকের ওপরে থাকা বুলডোজারগুলোতে কয়েকজন তরুণকে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এলাকাজুড়ে মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থলে থাকা প্রতিবেদক জানান, তরুণদের একটি দল বুলডোজারের ওপরে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিচ্ছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল— “জায়গা ফিরে পাওয়া”, “মাঠ গড়ে তোলা”, অথবা “দুর্নীতির প্রতীক ভাঙার” আহ্বান। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তৎক্ষণাৎ বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করা হয়।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে প্রবেশের প্রধান রাস্তাগুলোতে সাঁজোয়া যান (APC) রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‍্যাব ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এলাকাজুড়ে কঠোর তল্লাশি চলছে।

অতীতের উত্তাল ঘটনাগুলো

এর আগে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে, একটি বুলডোজার এসে গুঁড়িয়ে দেয় ধানমন্ডি ৩২-এর বাড়ির অবশিষ্টাংশ। সেই সময় একটি বড় এক্সকাভেটরও আনা হয়েছিল।
এরও আগে, গত বছরের আগস্ট, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে ছাত্রজনতা ও স্থানীয় বিক্ষুব্ধরা ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাসভবনটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এ বাড়িটি বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করত—এখানেই বসবাস করতেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই বাড়িটিকে ঘিরে রাজনৈতিক আবেগ ও উত্তেজনা বরাবরই প্রবল।

আজকের রায় ঘোষণার প্রেক্ষাপট

আজই জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রায়কে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ “কমপ্লিট শাটডাউন” কর্মসূচি পালন করছে, যা কারণে শহরজুড়ে পরিবহন কম, দোকানপাট বন্ধ এবং সর্বত্র উত্তেজনাপূর্ণ নীরবতা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো পরিস্থিতিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে এবং ধানমন্ডি ৩২-সহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

উত্তপ্ত

পরিস্থিতিতে বুলডোজারের আগমন

এসব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তা ঘিরে ধানমন্ডি ৩২-এ বুলডোজার আনার ঘটনা নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি হয়তো এলাকার দখল–সংক্রান্ত সংকট বা ছাত্র উদ্যোগের অংশ। আবার অনেকে মনে করছেন, শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে প্রতীকী পদক্ষেপও হতে পারে।

যাই হোক, ধানমন্ডি ৩২ আবারও দেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে, আর বুলডোজারের প্রবেশ সেই উত্তেজনাকে আরও ঘনীভূত করেছে।