ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মামলার রায়: দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড়
- Update Time : ১২:২০:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
- / ২৩৬ Time View

ঢাকা, বাংলাদেশ — ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আরও দুই আসামির বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যা–সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণার দিন আজ। এ রায়কে ঘিরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এলাকায় ভোর থেকেই দেশের সব গণমাধ্যমের পাশাপাশি বিশ্বের শীর্ষ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকরা ভিড় জমিয়েছেন।
রয়টার্স, এপি, এএফপি, আল জাজিরা, বিবিসি ওয়াল্ডসহ আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার প্রতিনিধিরা সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনাল চত্বরে অবস্থান করছেন। ঐতিহাসিক এ রায় সরাসরি বিশ্বদর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে তারা প্রস্তুত।
সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মাসউদুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় পাচ্ছেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই আজ পুরো বিশ্বের দৃষ্টি ট্রাইব্যুনালের দিকে। আন্তর্জাতিক সব গণমাধ্যমই আজ এখানে।” তিনি আরও জানান, রয়টার্স এ বিচার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করবে বলেও জানা গেছে।
কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকা
রায়কে কেন্দ্র করে পুরো সুপ্রিম কোর্ট ও ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, এপিবিএন, বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা পরিস্থিতি নজরদারিতে রেখেছেন।
নিরাপত্তার স্বার্থে রবিবার সন্ধ্যা থেকেই দোয়েল চত্বর থেকে শিক্ষাভবনমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। জনগণের চলাচলেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
দীর্ঘ শুনানি শেষে রায় আজ
গত ১৩ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণার দিন হিসেবে ১৭ নভেম্বর নির্ধারণ করে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল আজ রায় দেবেন। অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
শেখ হাসিনার মামলার শুনানি মোট ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়। প্রসিকিউশন ও ডিফেন্সের যুক্তিতর্ক–পাল্টা যুক্তিতর্ক চলে ৯ কার্যদিন। গত ২৩ অক্টোবর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সমাপনী বক্তব্য দেন। এরপর চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেনের যুক্তিখণ্ডন উপস্থাপন শেষে রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হয়।
যুক্তিতর্কে প্রসিকিউশন শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে। তবে রাজসাক্ষী হওয়ায় তৃতীয় আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। তার আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ মামুনের খালাস দাবি করেন। রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন আবারও বিশ্বাস প্রকাশ করেন—শেখ হাসিনা ও কামাল খালাস পাবেন।
বিশাল মামলার নথি ও অভিযোগসমূহ
প্রসিকিউশন তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট পাঁচটি অভিযোগ আনে—
• উসকানি
• মারণাস্ত্র ব্যবহার
• আবু সাঈদ হত্যা
• চানখারপুলে গণহত্যা
• আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো
মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার।
এর মধ্যে—
• তথ্যসূত্র: ২,০১৮ পৃষ্ঠা
• জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণ: ৪,০০৫ পৃষ্ঠা
• শহীদদের তালিকার বিবরণ: ২,৭২৪ পৃষ্ঠা
মোট ৮৪ জনকে সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। গত ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কাছে জমা দেয় তদন্ত সংস্থা।
ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত
রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশে-বিদেশে উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বাংলাদেশে বিচারব্যবস্থা, রাজনীতি এবং রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ার ইতিহাসে আজকের দিনটি মাইলফলক হয়ে থাকবে—একথা মানছেন বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজিরবিহীন উপস্থিতি এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তার মধ্যে আজকের রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করবে।















