সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিচারক ও নারীর মন বোঝা কঠিন: অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:৩৯:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৬৩ Time View

অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেছেন, সংবিধান সংশোধনী নিয়ে চলমান মামলার রায় কী হবে, তা আগে থেকে অনুমান করা কখনোই সম্ভব নয়। বিচারকের মন যেমন জটিল, তেমনি নারীর মনও অনিশ্চিত— কোন পরিস্থিতিতে কোন দিকে মোড় নেবে, তা পূর্বাভাস দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। তাই রায় ঘোষণার আগে আদালতের অবস্থান বা রাজনৈতিক ঝোঁক সম্পর্কে মন্তব্য করা দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয় বলেও তিনি মত দেন।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ‘বাংলা সাহিত্যে কবি গোলাম মোস্তফার অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাটর্নি জেনারেল এ মন্তব্য করেন।

রায়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে বক্তব্য

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রায়কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ যে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, তা সরকার আইনগতভাবে লক্ষ্য করছে। তিনি উল্লেখ করেন— আওয়ামী লীগ বর্তমানে একটি নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত। সেক্ষেত্রে তাদের যেকোনো ধরনের কর্মসূচিকে আইনের চোখে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে। “আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে, এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে”—যোগ করেন তিনি।

আগামী নির্বাচন নিয়ে অভিমত

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে— এমন আশঙ্কাকে তিনি গুরুত্ব দেন না। তার মতে, আওয়ামী লীগের অনেক নেতা ইতোমধ্যেই বুঝতে পেরেছেন যে, দলবল বা আত্মীয়স্বজনসহ বিদেশে পালিয়ে গেলে মাঠপর্যায়ের অসংখ্য কর্মী অসহায় হয়ে পড়ে। তাই তারা এখন আর আগে যেমন ঝুঁকি নিতেন, তেমনটি নেবেন না বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।

গণভোট ও সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গ

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সাম্প্রতিক গণভোট দেশের সব রাজনৈতিক দলই গ্রহণ করেছে, যা গণতান্ত্রিক ধারার এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। সংবিধান সংশোধনীর মামলায় আদালতে তিনি যুক্তি দিয়েছেন— দেশের সংবিধান নির্ধারণের ক্ষমতা জনগণের বিজয়ী শক্তির মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি ঐতিহাসিক উদাহরণ হিসেবে ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান ও সর্বশেষ গণভোটের কথা তুলে ধরেন।

তার মতে, সংবিধান ও গণভোট শুধুমাত্র একটি আইনি কাঠামো নয়; বরং এগুলো দেশের রাজনৈতিক পথনির্দেশ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের মতামত প্রতিফলনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

‘দেশের মানুষই ভবিষ্যতের পথ দেখাবে’

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, সংবিধান ও গণভোটের মাধ্যমে দেশের মানুষই আগামী দিনের দিকনির্দেশনা দেবেন। এটি কেবল আইনের বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিচারক ও নারীর মন বোঝা কঠিন: অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান

Update Time : ০৬:৩৯:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেছেন, সংবিধান সংশোধনী নিয়ে চলমান মামলার রায় কী হবে, তা আগে থেকে অনুমান করা কখনোই সম্ভব নয়। বিচারকের মন যেমন জটিল, তেমনি নারীর মনও অনিশ্চিত— কোন পরিস্থিতিতে কোন দিকে মোড় নেবে, তা পূর্বাভাস দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। তাই রায় ঘোষণার আগে আদালতের অবস্থান বা রাজনৈতিক ঝোঁক সম্পর্কে মন্তব্য করা দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয় বলেও তিনি মত দেন।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ‘বাংলা সাহিত্যে কবি গোলাম মোস্তফার অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাটর্নি জেনারেল এ মন্তব্য করেন।

রায়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে বক্তব্য

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রায়কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ যে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, তা সরকার আইনগতভাবে লক্ষ্য করছে। তিনি উল্লেখ করেন— আওয়ামী লীগ বর্তমানে একটি নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত। সেক্ষেত্রে তাদের যেকোনো ধরনের কর্মসূচিকে আইনের চোখে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে। “আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে, এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে”—যোগ করেন তিনি।

আগামী নির্বাচন নিয়ে অভিমত

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে— এমন আশঙ্কাকে তিনি গুরুত্ব দেন না। তার মতে, আওয়ামী লীগের অনেক নেতা ইতোমধ্যেই বুঝতে পেরেছেন যে, দলবল বা আত্মীয়স্বজনসহ বিদেশে পালিয়ে গেলে মাঠপর্যায়ের অসংখ্য কর্মী অসহায় হয়ে পড়ে। তাই তারা এখন আর আগে যেমন ঝুঁকি নিতেন, তেমনটি নেবেন না বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।

গণভোট ও সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গ

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সাম্প্রতিক গণভোট দেশের সব রাজনৈতিক দলই গ্রহণ করেছে, যা গণতান্ত্রিক ধারার এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। সংবিধান সংশোধনীর মামলায় আদালতে তিনি যুক্তি দিয়েছেন— দেশের সংবিধান নির্ধারণের ক্ষমতা জনগণের বিজয়ী শক্তির মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি ঐতিহাসিক উদাহরণ হিসেবে ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান ও সর্বশেষ গণভোটের কথা তুলে ধরেন।

তার মতে, সংবিধান ও গণভোট শুধুমাত্র একটি আইনি কাঠামো নয়; বরং এগুলো দেশের রাজনৈতিক পথনির্দেশ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের মতামত প্রতিফলনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

‘দেশের মানুষই ভবিষ্যতের পথ দেখাবে’

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, সংবিধান ও গণভোটের মাধ্যমে দেশের মানুষই আগামী দিনের দিকনির্দেশনা দেবেন। এটি কেবল আইনের বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।