ব্রিটিশ মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ড. ইউনূস,কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না
- Update Time : ০২:২২:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
- / ২৩৩ Time View

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, প্রতিযোগিতামূলক ও সকলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা হারিয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনও দলটিকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। ফলে আগামী নির্বাচন হবে একটি “নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা”—যেখানে ক্ষমতাকেন্দ্রিক পুরনো কাঠামোর বাইরে গিয়ে জনঅংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সংবাদমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন সফররত যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী ব্যারোনেস জেনি চ্যাপম্যান। দুই দেশের সম্পর্ক, নির্বাচন, অভিবাসন–বিষয়ক উদ্বেগ, রোহিঙ্গা সংকট এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ বহুমাত্রিক ইস্যু নিয়ে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনা হয়।
স্বচ্ছ নির্বাচন ও তরুণ ভোটারদের প্রত্যাশা
বৈঠকে ড. ইউনূস জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, এ নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক—যেখানে ভোটার উপস্থিতিও থাকবে ব্যাপক। গত ১৬ বছরের স্বৈরশাসনের সময় তিন দফা বিতর্কিত ও “কারচুপির নির্বাচনে” ভোট দিতে না পারা কোটি তরুণ এবার প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।
তার ভাষায়, “যারা এত বছর ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তারাই এবার পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি।”
আওয়ামী লীগের অযোগ্যতা ও জুলাই সনদের তাৎপর্য
অধ্যাপক ইউনূস ব্যাখ্যা করেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় নির্বাচনে অংশ নেওয়া তাদের পক্ষে আইনগতভাবে অসম্ভব। নির্বাচন কমিশনও দলটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে।
তিনি বলেন, “জুলাই সনদ বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন সূচনা। এটি শুধু রাজনৈতিক সংস্কারের নথি নয়—এটি গত বছরের ঐতিহাসিক জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও লাখো মানুষের প্রত্যাশার বাস্তব প্রতিফলন।”
ব্রিটিশ মন্ত্রীর প্রশংসা ও উদ্বেগ
যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন মন্ত্রী জেনি চ্যাপম্যান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিচালনার জন্য অধ্যাপক ইউনূসকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ন্যাশনাল কনসেনসাস কমিশন, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের চলমান আলোচনার প্রশংসা করেন।
তবে তিনি যুক্তরাজ্যের আশ্রয় ব্যবস্থার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং নিরাপদ, বৈধ ও মানবিক অভিবাসন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
ড. ইউনূস তার সঙ্গে একমত হয়ে বলেন, সরকার বৈধ পথে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণে বাংলাদেশিদের উৎসাহিত করছে এবং অবৈধ অভিবাসন রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে বৈশ্বিক ভূমিকা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “ক্যাম্পে বেড়ে ওঠা তরুণরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত, নিস্তেজ ও হতাশ। তাদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে—অন্যথায় এটি ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।”
বাণিজ্য, বিমান ও সমুদ্র গবেষণায় সহযোগিতা
ঢাকা–লন্ডন বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ড. ইউনূস জানান, বঙ্গোপসাগরে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করতে বাংলাদেশ একটি ব্রিটিশ গবেষণা জাহাজ ক্রয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
চ্যাপম্যান বাংলাদেশের বিমান খাত নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে আরও দৃঢ় সহযোগিতা গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি জানান, এয়ারবাস ইন্টারন্যাশনালের প্রধান শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন—যা বিমান খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।
বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, এসডিজি সমন্বয়কারী লামিয়া মোরশেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুক উপস্থিত ছিলেন।















