সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্রদের যৌন হয়রানির অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আটক

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:০০:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৭১ Time View

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এরশাদ হালিমকে পুরুষ শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে রাজধানীর শেওড়া পাড়ায় অবস্থিত তাঁর বাসায় অভিযান চালিয়ে মিরপুর মডেল থানার একটি টিম তাকে হেফাজতে নেয়। বর্তমানে থানায় নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, অধ্যাপক এরশাদ ক্যাম্পাসের বাইরে থাকায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের ভয়াবহ অভিযোগ

গত কয়েক সপ্তাহে রসায়ন বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী বিভিন্ন গণমাধ্যমে অভিযোগ করেন যে, পরীক্ষাসংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের অজুহাতে অধ্যাপক এরশাদ নিয়মিত তাদের বাসায় আসতে বলতেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগে উঠে এসেছে—

  • বাসায় নেওয়ার পর তিনি আলো নিভিয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করতেন।
  • বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হাত দিতেন।
  • জোরপূর্বক স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়ার চেষ্টা করতেন।
  • ভয়ভীতি দেখিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য করতেন।

একজন শিক্ষার্থী জানান, পরীক্ষার সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আমাকে ডেকে নিয়ে তিনি হঠাৎ আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। আমি বাধা দিলে তিনি আমাকে ভয় দেখান এবং কাউকে কিছু না বলতে বলেন।”
ঘটনার পর তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কথাও জানিয়েছেন।

আরেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, পরীক্ষার নম্বর নিয়ে সহায়তার কথা বলে তিনি আমাকে একাধিকবার বাসায় ডাকতেন। একদিন সুযোগ পেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আমার শরীরে হাত দিতে শুরু করেন। আমি প্রতিবাদ করলে তিনি রেগে যান। এরপর থেকে ক্লাসে যেতেও ভয় লাগছে।”

তদন্তে নেমেছে পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মিরপুর মডেল থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সব আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে। রসায়ন বিভাগ এবং প্রক্টর অফিস পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুলিশ বলেছে, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, ডিজিটাল প্রমাণ এবং ঘটনাস্থলের তথ্য যাচাই সাপেক্ষে অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ছাত্রদের যৌন হয়রানির অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আটক

Update Time : ১১:০০:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এরশাদ হালিমকে পুরুষ শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে রাজধানীর শেওড়া পাড়ায় অবস্থিত তাঁর বাসায় অভিযান চালিয়ে মিরপুর মডেল থানার একটি টিম তাকে হেফাজতে নেয়। বর্তমানে থানায় নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, অধ্যাপক এরশাদ ক্যাম্পাসের বাইরে থাকায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের ভয়াবহ অভিযোগ

গত কয়েক সপ্তাহে রসায়ন বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী বিভিন্ন গণমাধ্যমে অভিযোগ করেন যে, পরীক্ষাসংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের অজুহাতে অধ্যাপক এরশাদ নিয়মিত তাদের বাসায় আসতে বলতেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগে উঠে এসেছে—

  • বাসায় নেওয়ার পর তিনি আলো নিভিয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করতেন।
  • বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হাত দিতেন।
  • জোরপূর্বক স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়ার চেষ্টা করতেন।
  • ভয়ভীতি দেখিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য করতেন।

একজন শিক্ষার্থী জানান, পরীক্ষার সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আমাকে ডেকে নিয়ে তিনি হঠাৎ আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। আমি বাধা দিলে তিনি আমাকে ভয় দেখান এবং কাউকে কিছু না বলতে বলেন।”
ঘটনার পর তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কথাও জানিয়েছেন।

আরেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, পরীক্ষার নম্বর নিয়ে সহায়তার কথা বলে তিনি আমাকে একাধিকবার বাসায় ডাকতেন। একদিন সুযোগ পেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আমার শরীরে হাত দিতে শুরু করেন। আমি প্রতিবাদ করলে তিনি রেগে যান। এরপর থেকে ক্লাসে যেতেও ভয় লাগছে।”

তদন্তে নেমেছে পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মিরপুর মডেল থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সব আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে। রসায়ন বিভাগ এবং প্রক্টর অফিস পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুলিশ বলেছে, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, ডিজিটাল প্রমাণ এবং ঘটনাস্থলের তথ্য যাচাই সাপেক্ষে অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।