শেখ হাসিনার বিচারের রায় ঘোষণার তারিখ আজ নির্ধারিত হবে
- Update Time : ০৮:২৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
- / ২৭৫ Time View

জুলাই মাসে সংঘটিত গণআন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে বহুল আলোচিত বিচারের রায় ঘোষণার তারিখ আজ বৃহস্পতিবার নির্ধারিত হতে যাচ্ছে। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ রায়ের দিন ঘোষণার আদেশ দেবেন বলে জানা গেছে।
রায়ের তারিখ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চত্বরে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা। মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, বিজিবি এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। গোটা এলাকা জুড়ে রয়েছে নজরদারি ক্যামেরা ও টহলদল। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ট্রাইব্যুনালের আশপাশে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
যুক্তিতর্ক শেষ ও রায় ঘোষণার প্রস্তুতি
গত ২৩ অক্টোবর এই মামলার প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের কৌসুলিদের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য ১৩ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। আজ সেই দিনেই নির্ধারিত হবে রায় ঘোষণার তারিখ। মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রনিযুক্ত কৌসুলি তাদের খালাসের আবেদন জানিয়েছেন। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে তৃতীয় আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিষয়ে কোনো আলাদা আবেদন করা হয়নি, কারণ তিনি এ মামলার রাজসাক্ষী হিসেবে বিবেচিত।
ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম ও আইনি দিক
প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আওয়ামী লীগ ২০১০ সালে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট সংশোধন করে এই আদালত গঠন করেছিল। যদিও মূল আইনটি ১৯৭৩ সালে প্রণীত। তারা নিজেরাই অনুপস্থিত আসামিদের বিচার প্রক্রিয়ার কাঠামো তৈরি করেছিল, এবং সেই কাঠামো অনুসারেই এখন বিচার চলছে।”
তিনি আরও বলেন, “যদি কেউ মনে করেন যে এই প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হচ্ছে, তাহলে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করতে হবে। পলাতক আসামিদের পক্ষে কেবল রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী কথা বলতে পারেন। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন অ্যাডভোকেট আমির হোসেন, যিনি শেখ হাসিনার আমলে স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাই এখানে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা ঠিক নয়।”
আইনগত অবস্থান ও উপস্থিতির বিষয়
প্রসিকিউটর মিজানুল আরও ব্যাখ্যা করেন, “স্টেট ডিফেন্সের যোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তবে যদি কেউ আইনজীবীর নিয়োগ বা প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি করতে চান, তাহলে তাঁকে অবশ্যই এই মামলায় ‘লোকাস স্ট্যান্ডি’ থাকতে হবে, অর্থাৎ মামলায় কথা বলার অধিকার থাকতে হবে। পলাতক আসামিরাও চাইলে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে নিজে বক্তব্য দিতে পারেন, কিংবা নিজেদের আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেন। আদালতের সামনে হাজির না হয়ে বাইরে থেকে কোনো মন্তব্য বা আপত্তি আইনসিদ্ধ নয়।”
নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা
রায়ের তারিখ ঘোষণার আগেই রাজধানীজুড়ে উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন এদিনকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, অপরদিকে বিরোধী রাজনৈতিক জোটগুলোর পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে—নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মামলার রায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে, কারণ এতে একদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে, অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার মতো একটি ঐতিহাসিক ঘটনা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেবে।
আজ ট্রাইব্যুনাল রায়ের তারিখ নির্ধারণ করলে, সেটি বাংলাদেশের বিচার ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এখন দেশের দৃষ্টি নিবদ্ধ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ভবনের দিকে—যেখানে আজকের দিনটি হতে পারে ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।















