সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেনমার্কে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত হচ্ছেন ঢাবির উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:৩৩:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৮৪ Time View

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান এবার নতুন এক কূটনৈতিক দায়িত্বে যাচ্ছেন। সরকার তাকে ডেনমার্কে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করেছে। জানা গেছে, নিয়োগের প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকার ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে ‘অ্যাগ্রিমে’ বা গ্রহণযোগ্যতার জন্য আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। এখন শুধু সে দেশের সম্মতিপত্র বা ক্লিয়ারেন্স পাওয়াটাই বাকি। সাধারণত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ১ থেকে ৩ মাস সময় লাগে।

ড. নিয়াজ আহমেদ খান ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। প্রায় দেড় বছর পরই তিনি আবারও এক নতুন দায়িত্বে যাচ্ছেন—একটি ইউরোপীয় রাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে। তার এই নিয়োগের খবর প্রকাশের পর একাডেমিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে, বিশেষ করে একজন বিদ্যাপীঠের প্রধান থেকে সরাসরি রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে যাওয়া বিষয়টি নিয়ে।

একাধিক নতুন নিয়োগের প্রস্তাব

ড. নিয়াজ আহমেদ খানের পাশাপাশি আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের প্রস্তুতি চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক দূত লামিয়া মোর্শেদ, আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষ দূত লুতফে সিদ্দিকী এবং তার বোন হুসনা সিদ্দিকীকেও রাষ্ট্রদূত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ, ভুটানের থিম্পু, মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন ও ইরানের তেহরানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনারের পদ শিগগিরই শূন্য হতে যাচ্ছে। এদের মধ্যে লুতফে সিদ্দিকী আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সিঙ্গাপুরে, আর তার বোন হুসনা সিদ্দিকী চান দ্য হেগে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিতে। লামিয়া মোর্শেদ ইউরোপের কোনো দেশে দায়িত্ব নিতে চাইলেও আপাতত খালি পদ নেই বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে।

তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও এই নিয়োগগুলো নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নথিপত্র প্রক্রিয়া শুরু করেনি। একাধিক মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়গুলো এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

বিতর্ক সমালোচনা

অ–কূটনীতিক ব্যক্তিদের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের এই ধারা নিয়ে ইতোমধ্যে পেশাদার কূটনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেক অভিজ্ঞ কূটনীতিক, যারা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছেন, তারা মনে করছেন—দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নয়, বরং রাজনৈতিক বিবেচনায় এসব নিয়োগ দেওয়া হলে তা পররাষ্ট্রনীতির পেশাদারিত্ব ক্ষুণ্ণ করবে।

বিশেষ করে আলোচনায় থাকা লুতফে সিদ্দিকী ও হুসনা সিদ্দিকী দুইজনই সাবেক আইজিপি আবু ইয়াহইয়া বুরহানুল ইসলাম সিদ্দিকীর সন্তান, যিনি শেখ হাসিনার আমলে পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফলে এই নিয়োগে পারিবারিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের প্রশ্নও উঠেছে।

কূটনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া

একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্তব্য করেছেন,

“যখন পেশাদার কূটনীতিকরা ২৫-৩০ বছর কাজ করে রাষ্ট্রদূতের পদে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখেন, তখন রাজনৈতিক বা একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ডের ব্যক্তিদের হঠাৎ এসব পদে বসানো তাদের জন্য একধরনের মনোবলহীনতা তৈরি করে।”

অন্যদিকে সরকারের ঘনিষ্ঠ মহল দাবি করছে, রাষ্ট্রদূতের পদে পেশাদার কূটনীতিকদের পাশাপাশি শিক্ষাবিদ বা নীতিনির্ধারকদের নিয়োগ কোনো ব্যতিক্রম নয়। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক যোগাযোগে নানামাত্রিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো সম্ভব হয়।

সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে শিগগিরই ড. নিয়াজ আহমেদ খানকে ডেনমার্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নিতে দেখা যাবে। একাডেমিক জগৎ থেকে কূটনৈতিক পরিসরে তার এই রূপান্তর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পরিসরে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে—যেখানে শিক্ষাবিদরা কেবল নীতি প্রণয়নেই নয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও সরাসরি ভূমিকা রাখছেন।

তবে এখন নজর থাকবে ডেনমার্ক সরকারের অনুমোদনের দিকে। সেই ক্লিয়ারেন্স মিললেই কোপেনহেগেনে বাংলাদেশের পতাকা ওড়াবেন নতুন রাষ্ট্রদূত—ড. নিয়াজ আহমেদ খান।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ডেনমার্কে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত হচ্ছেন ঢাবির উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান

Update Time : ১২:৩৩:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান এবার নতুন এক কূটনৈতিক দায়িত্বে যাচ্ছেন। সরকার তাকে ডেনমার্কে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করেছে। জানা গেছে, নিয়োগের প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকার ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে ‘অ্যাগ্রিমে’ বা গ্রহণযোগ্যতার জন্য আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। এখন শুধু সে দেশের সম্মতিপত্র বা ক্লিয়ারেন্স পাওয়াটাই বাকি। সাধারণত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ১ থেকে ৩ মাস সময় লাগে।

ড. নিয়াজ আহমেদ খান ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। প্রায় দেড় বছর পরই তিনি আবারও এক নতুন দায়িত্বে যাচ্ছেন—একটি ইউরোপীয় রাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে। তার এই নিয়োগের খবর প্রকাশের পর একাডেমিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে, বিশেষ করে একজন বিদ্যাপীঠের প্রধান থেকে সরাসরি রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে যাওয়া বিষয়টি নিয়ে।

একাধিক নতুন নিয়োগের প্রস্তাব

ড. নিয়াজ আহমেদ খানের পাশাপাশি আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের প্রস্তুতি চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক দূত লামিয়া মোর্শেদ, আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষ দূত লুতফে সিদ্দিকী এবং তার বোন হুসনা সিদ্দিকীকেও রাষ্ট্রদূত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ, ভুটানের থিম্পু, মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন ও ইরানের তেহরানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনারের পদ শিগগিরই শূন্য হতে যাচ্ছে। এদের মধ্যে লুতফে সিদ্দিকী আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সিঙ্গাপুরে, আর তার বোন হুসনা সিদ্দিকী চান দ্য হেগে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিতে। লামিয়া মোর্শেদ ইউরোপের কোনো দেশে দায়িত্ব নিতে চাইলেও আপাতত খালি পদ নেই বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে।

তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও এই নিয়োগগুলো নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নথিপত্র প্রক্রিয়া শুরু করেনি। একাধিক মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়গুলো এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

বিতর্ক সমালোচনা

অ–কূটনীতিক ব্যক্তিদের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের এই ধারা নিয়ে ইতোমধ্যে পেশাদার কূটনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেক অভিজ্ঞ কূটনীতিক, যারা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছেন, তারা মনে করছেন—দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নয়, বরং রাজনৈতিক বিবেচনায় এসব নিয়োগ দেওয়া হলে তা পররাষ্ট্রনীতির পেশাদারিত্ব ক্ষুণ্ণ করবে।

বিশেষ করে আলোচনায় থাকা লুতফে সিদ্দিকী ও হুসনা সিদ্দিকী দুইজনই সাবেক আইজিপি আবু ইয়াহইয়া বুরহানুল ইসলাম সিদ্দিকীর সন্তান, যিনি শেখ হাসিনার আমলে পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফলে এই নিয়োগে পারিবারিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের প্রশ্নও উঠেছে।

কূটনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া

একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্তব্য করেছেন,

“যখন পেশাদার কূটনীতিকরা ২৫-৩০ বছর কাজ করে রাষ্ট্রদূতের পদে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখেন, তখন রাজনৈতিক বা একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ডের ব্যক্তিদের হঠাৎ এসব পদে বসানো তাদের জন্য একধরনের মনোবলহীনতা তৈরি করে।”

অন্যদিকে সরকারের ঘনিষ্ঠ মহল দাবি করছে, রাষ্ট্রদূতের পদে পেশাদার কূটনীতিকদের পাশাপাশি শিক্ষাবিদ বা নীতিনির্ধারকদের নিয়োগ কোনো ব্যতিক্রম নয়। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক যোগাযোগে নানামাত্রিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো সম্ভব হয়।

সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে শিগগিরই ড. নিয়াজ আহমেদ খানকে ডেনমার্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নিতে দেখা যাবে। একাডেমিক জগৎ থেকে কূটনৈতিক পরিসরে তার এই রূপান্তর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পরিসরে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে—যেখানে শিক্ষাবিদরা কেবল নীতি প্রণয়নেই নয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও সরাসরি ভূমিকা রাখছেন।

তবে এখন নজর থাকবে ডেনমার্ক সরকারের অনুমোদনের দিকে। সেই ক্লিয়ারেন্স মিললেই কোপেনহেগেনে বাংলাদেশের পতাকা ওড়াবেন নতুন রাষ্ট্রদূত—ড. নিয়াজ আহমেদ খান।