সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী সন্ত্রাস নির্মূল কমিটি গঠনের প্রস্তাব

বিল্লাল হোসেন
  • Update Time : ০৩:০০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৩৫২ Time View

বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বের বুকে শান্তিপ্রিয়, ভদ্র ও পরিশ্রমী নাগরিক হিসেবে পরিচিত। কিন্তু গত পনেরো বছর ধরে দেশটি ছিল ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার দমনমূলক শাসনের কবলে। এই সময়ে সাধারণ মানুষকে অকথ্য নির্যাতন, দমন-পীড়ন ও নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে বিরোধী মত দমন, নিরপরাধ নাগরিকদের গুম, খুন, এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানো—এসবই ছিল হাসিনা সরকারের নিত্যদিনের রুটিন কার্যক্রম।

দেশব্যাপী ‘আয়না ঘর’ নামে কুখ্যাত গোপন নির্যাতন সেলগুলোতে অসংখ্য মানুষকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। র‍্যাব, পুলিশ, ডিবি, এনএসআইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ধ্বংসের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই বিভীষিকাময় অধ্যায় আন্তর্জাতিক পরিসরেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে কলঙ্কিত করেছে। কারণ, শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা ছিলেন দুর্নীতিগ্রস্ত, ক্ষমতালোভী ও নীতিহীন। তাদের শাসনকালে বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, ব্যাংকিং খাত—সবকিছুতেই অরাজকতা ও স্বজনপ্রীতির রাজত্ব কায়েম হয়।

এই অমানবিক শাসনেরই পরিণতি ছিল ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান। দেশজুড়ে ক্ষুব্ধ জনগণের ঢেউ ওঠে, সর্বস্তরের মানুষ রাস্তায় নেমে আসে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটাতে। এক পর্যায়ে শেখ হাসিনা, তার মন্ত্রিসভার সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীরা দেশ ত্যাগ করে পালিয়ে যায় প্রতিবেশী ভারতসহ বিভিন্ন দেশে। সেখান থেকেই তারা এখনো বাংলাদেশের অগ্রগতি ও নতুন গণবিপ্লবের সফলতা বিনষ্ট করতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ এখন জেগে উঠেছে—তারা আর প্রতারণা, নিপীড়ন ও সন্ত্রাসের রাজনীতি মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনকাল ছিল লুণ্ঠন, স্বজনপ্রীতি ও অরাজকতার প্রতীক। ব্যাংক খাত দেউলিয়া, অর্থনীতি বিপর্যস্ত, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধসে পড়ে। রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে তারা দুর্নীতির নেটওয়ার্ক তৈরি করে রেখেছিল। শেষ পর্যন্ত জনগণের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেলে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়—এবং বাংলাদেশ নতুন রাজনৈতিক পথে পা বাড়ায়।

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এবং রায় ঘোষণার তারিখও নির্ধারণ করেছে। গুম, খুন, ধর্ষণ, নির্যাতন ও দমননীতির জন্য তারা শিগগিরই আন্তর্জাতিক বিচারের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। এ রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ ন্যায়বিচারের এক নতুন দিগন্ত দেখতে চায়।

তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেখা যাচ্ছে, পরাজিত আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পুনরায় দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। তারা রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে আগুন সন্ত্রাস চালিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। বাস, ট্রেন, শপিংমল, সরকারি অফিস ও গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগ করে তারা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চাচ্ছে। বিদেশে পালিয়ে থাকা নেতাদের নির্দেশে এই অপচেষ্টা চলছে। কিন্তু দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছে এবং জনগণও এখন অনেক বেশি সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ।

এই বাস্তবতায় নতুন প্রজন্মের নাগরিক সমাজ ও সাধারণ জনগণ এক নতুন জাতীয় উদ্যোগের প্রস্তাব উত্থাপন করেছে—আওয়ামী সন্ত্রাস নির্মূল কমিটি” গঠনের আহ্বান। তাদের মতে, দেশকে স্থিতিশীল রাখতে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সন্ত্রাসের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এই কমিটি গঠন এখন সময়ের দাবি।

প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলাস্তরে নাগরিকদের অংশগ্রহণে এই কমিটি গঠন করা উচিত—যেখানে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্রিত হবে। শিক্ষিত তরুণ সমাজ, শ্রমজীবী জনগণ, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের সমন্বয়ে একটি গণকমিটি গড়ে তুলতে হবে, যার মূল লক্ষ্য হবে—আওয়ামী সন্ত্রাসের মূল শেকড় উপড়ে ফেলা এবং দেশে শান্তি ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

নতুন প্রতিদিন দেশব্যাপী সাধারণ মানুষের মতামত জানতে চাওয়ায় অধিকাংশ মানুষ একবাক্যে বলেছে,
“যে দল আগুনে মানুষ পোড়ায়, গুম-খুন করে, রাষ্ট্রের সম্পদ লুটে নেয়—তাদের সন্ত্রাসী চক্র নির্মূল না করলে দেশে কখনো শান্তি ফিরবে না। আওয়ামী সন্ত্রাস নির্মূল কমিটি এখন জাতীয় প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে।”

জনগণের অভিমত স্পষ্ট—দেশপ্রেমিক সব রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও নাগরিক সমাজকে একত্রিত হয়ে আওয়ামী সন্ত্রাস নির্মূলের জন্য জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। কারণ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই এখন আর কোনো রাজনৈতিক দলের নয়—এটি পুরো জাতির অস্তিত্বের লড়াই।

বাংলাদেশ আজ পরিবর্তনের পথে। ফ্যাসিবাদ ও সন্ত্রাসের রাজনীতি মুছে দিয়ে জনগণ নতুন যুগে প্রবেশ করছে। এখনই সময় ঐক্যবদ্ধ জাতির অঙ্গীকারকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার—
আওয়ামী সন্ত্রাস নির্মূল কমিটি” গঠন করে একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার।

 

Please Share This Post in Your Social Media

One thought on “আওয়ামী সন্ত্রাস নির্মূল কমিটি গঠনের প্রস্তাব

  1. সুন্দর লিখেছেন। প্রতিদিন এমন লেখাই পাঠকের প্রত্যাশা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিল্লাল হোসেন

বিল্লাল হোসেন, একজন প্রজ্ঞাবান পেশাজীবী, যিনি গণিতের ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ, ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ হিসেবে একটি সমৃদ্ধ ও বহুমুখী ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। তার আর্থিক খাতে যাত্রা তাকে নেতৃত্বের ভূমিকায় নিয়ে গেছে, বিশেষ করে সৌদি আরবের আল-রাজি ব্যাংকিং Inc. এবং ব্যাংক-আল-বিলাদে বিদেশী সম্পর্ক ও করেসপন্ডেন্ট মেইন্টেনেন্স অফিসার হিসেবে। প্রথাগত অর্থনীতির গণ্ডির বাইরে, বিল্লাল একজন প্রখ্যাত লেখক ও বিশ্লেষক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে মননশীল কলাম ও গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করে। তার দক্ষতা বিস্তৃত বিষয় জুড়ে রয়েছে, যেমন অর্থনীতির জটিলতা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, প্রবাসী শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট, রেমিটেন্স, রিজার্ভ এবং অন্যান্য সম্পর্কিত দিক। বিল্লাল তার লেখায় একটি অনন্য বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসেন, যা ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে অর্জিত বাস্তব জ্ঞানকে একত্রিত করে একাডেমিক কঠোরতার সাথে। তার প্রবন্ধগুলো শুধুমাত্র জটিল বিষয়গুলির উপর গভীর বোঝাপড়ার প্রতিফলন নয়, বরং পাঠকদের জন্য জ্ঞানপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে, যা তত্ত্ব ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। বিল্লাল হোসেনের অবদান তার প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে যে, তিনি আমাদের আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বের জটিলতাগুলি উন্মোচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি বিস্তৃত এবং আরও সূক্ষ্ম বোঝাপড়ার দিকে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

আওয়ামী সন্ত্রাস নির্মূল কমিটি গঠনের প্রস্তাব

Update Time : ০৩:০০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বের বুকে শান্তিপ্রিয়, ভদ্র ও পরিশ্রমী নাগরিক হিসেবে পরিচিত। কিন্তু গত পনেরো বছর ধরে দেশটি ছিল ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার দমনমূলক শাসনের কবলে। এই সময়ে সাধারণ মানুষকে অকথ্য নির্যাতন, দমন-পীড়ন ও নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে বিরোধী মত দমন, নিরপরাধ নাগরিকদের গুম, খুন, এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানো—এসবই ছিল হাসিনা সরকারের নিত্যদিনের রুটিন কার্যক্রম।

দেশব্যাপী ‘আয়না ঘর’ নামে কুখ্যাত গোপন নির্যাতন সেলগুলোতে অসংখ্য মানুষকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। র‍্যাব, পুলিশ, ডিবি, এনএসআইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ধ্বংসের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই বিভীষিকাময় অধ্যায় আন্তর্জাতিক পরিসরেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে কলঙ্কিত করেছে। কারণ, শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা ছিলেন দুর্নীতিগ্রস্ত, ক্ষমতালোভী ও নীতিহীন। তাদের শাসনকালে বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, ব্যাংকিং খাত—সবকিছুতেই অরাজকতা ও স্বজনপ্রীতির রাজত্ব কায়েম হয়।

এই অমানবিক শাসনেরই পরিণতি ছিল ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান। দেশজুড়ে ক্ষুব্ধ জনগণের ঢেউ ওঠে, সর্বস্তরের মানুষ রাস্তায় নেমে আসে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটাতে। এক পর্যায়ে শেখ হাসিনা, তার মন্ত্রিসভার সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীরা দেশ ত্যাগ করে পালিয়ে যায় প্রতিবেশী ভারতসহ বিভিন্ন দেশে। সেখান থেকেই তারা এখনো বাংলাদেশের অগ্রগতি ও নতুন গণবিপ্লবের সফলতা বিনষ্ট করতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ এখন জেগে উঠেছে—তারা আর প্রতারণা, নিপীড়ন ও সন্ত্রাসের রাজনীতি মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনকাল ছিল লুণ্ঠন, স্বজনপ্রীতি ও অরাজকতার প্রতীক। ব্যাংক খাত দেউলিয়া, অর্থনীতি বিপর্যস্ত, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধসে পড়ে। রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে তারা দুর্নীতির নেটওয়ার্ক তৈরি করে রেখেছিল। শেষ পর্যন্ত জনগণের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেলে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়—এবং বাংলাদেশ নতুন রাজনৈতিক পথে পা বাড়ায়।

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এবং রায় ঘোষণার তারিখও নির্ধারণ করেছে। গুম, খুন, ধর্ষণ, নির্যাতন ও দমননীতির জন্য তারা শিগগিরই আন্তর্জাতিক বিচারের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। এ রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ ন্যায়বিচারের এক নতুন দিগন্ত দেখতে চায়।

তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেখা যাচ্ছে, পরাজিত আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পুনরায় দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। তারা রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে আগুন সন্ত্রাস চালিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। বাস, ট্রেন, শপিংমল, সরকারি অফিস ও গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগ করে তারা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চাচ্ছে। বিদেশে পালিয়ে থাকা নেতাদের নির্দেশে এই অপচেষ্টা চলছে। কিন্তু দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছে এবং জনগণও এখন অনেক বেশি সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ।

এই বাস্তবতায় নতুন প্রজন্মের নাগরিক সমাজ ও সাধারণ জনগণ এক নতুন জাতীয় উদ্যোগের প্রস্তাব উত্থাপন করেছে—আওয়ামী সন্ত্রাস নির্মূল কমিটি” গঠনের আহ্বান। তাদের মতে, দেশকে স্থিতিশীল রাখতে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সন্ত্রাসের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এই কমিটি গঠন এখন সময়ের দাবি।

প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলাস্তরে নাগরিকদের অংশগ্রহণে এই কমিটি গঠন করা উচিত—যেখানে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্রিত হবে। শিক্ষিত তরুণ সমাজ, শ্রমজীবী জনগণ, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের সমন্বয়ে একটি গণকমিটি গড়ে তুলতে হবে, যার মূল লক্ষ্য হবে—আওয়ামী সন্ত্রাসের মূল শেকড় উপড়ে ফেলা এবং দেশে শান্তি ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

নতুন প্রতিদিন দেশব্যাপী সাধারণ মানুষের মতামত জানতে চাওয়ায় অধিকাংশ মানুষ একবাক্যে বলেছে,
“যে দল আগুনে মানুষ পোড়ায়, গুম-খুন করে, রাষ্ট্রের সম্পদ লুটে নেয়—তাদের সন্ত্রাসী চক্র নির্মূল না করলে দেশে কখনো শান্তি ফিরবে না। আওয়ামী সন্ত্রাস নির্মূল কমিটি এখন জাতীয় প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে।”

জনগণের অভিমত স্পষ্ট—দেশপ্রেমিক সব রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও নাগরিক সমাজকে একত্রিত হয়ে আওয়ামী সন্ত্রাস নির্মূলের জন্য জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। কারণ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই এখন আর কোনো রাজনৈতিক দলের নয়—এটি পুরো জাতির অস্তিত্বের লড়াই।

বাংলাদেশ আজ পরিবর্তনের পথে। ফ্যাসিবাদ ও সন্ত্রাসের রাজনীতি মুছে দিয়ে জনগণ নতুন যুগে প্রবেশ করছে। এখনই সময় ঐক্যবদ্ধ জাতির অঙ্গীকারকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার—
আওয়ামী সন্ত্রাস নির্মূল কমিটি” গঠন করে একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার।