সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের পরিকল্পনা ডেনমার্কের

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:৩০:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৫৭ Time View

ডেনমার্কের সিদ্ধান্তটি বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে—বিশেষত শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে এই প্ল্যাটফর্মগুলোর সম্পর্ক নিয়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপ ও পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার কিশোরদের মধ্যে উদ্বেগ, হতাশা, আত্মসম্মানবোধের ঘাটতি এবং একাকীত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ডেনমার্ক সরকারের প্রস্তাবিত এই নতুন আইনটি অনুযায়ী, ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোররা আর ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট বা ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবে না। তবে ১৩ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে, বিশেষ অনুমতির ভিত্তিতে তাদের মা–বাবা প্রবেশাধিকার দিতে পারবেন। এই নীতিমালার অংশ হিসেবে ডেনমার্ক একটি বয়স যাচাইকরণ অ্যাপ’ চালুর পরিকল্পনা করছে, যা ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে।

আইনটি কার্যকর হলে এটি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর নতুন দায়বদ্ধতা আরোপ করবে। বর্তমানে বয়স যাচাইয়ের দায়িত্ব সাধারণত ব্যবহারকারীর ওপর থাকে, কিন্তু নতুন আইন কার্যকর হলে তা স্থানান্তরিত হবে টেক কোম্পানি, মা–বাবা এবং অ্যাপ স্টোর কর্তৃপক্ষের মধ্যে ভাগাভাগি দায়িত্বে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবসায়িক মডেলের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ কিশোর ব্যবহারকারীরাই এই প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি বড় অংশ।

ডেনমার্কের এই সিদ্ধান্তটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যেই একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। দেশটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে, এবং আইন অমান্য করলে প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর ৫০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

এছাড়াও, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অনলাইন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা, ইউটা আর্কানসাস রাজ্যে এরই মধ্যে এমন আইন প্রণীত হয়েছে যেখানে ১৮ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট খোলার আগে অভিভাবকের অনুমতি বাধ্যতামূলক।

এই নতুন প্রবণতা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে: শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কতদূর যেতে দেওয়া উচিত? অনেকেই বলছেন, ডেনমার্কের এই পদক্ষেপ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ‘অপ্রতিরোধ্য প্রভাব’-এর বিরুদ্ধে এক প্রকার প্রতিরোধের সূচনা হতে পারে, আবার অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন—অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ সৃজনশীলতা, শেখার সুযোগ এবং ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

সব মিলিয়ে, ডেনমার্কের এই উদ্যোগটি শুধু একটি দেশীয় নীতি নয়, বরং ডিজিটাল যুগে শিশুদের সুরক্ষায় বৈশ্বিক এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।

সূত্র: ম্যাশেবল, বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের পরিকল্পনা ডেনমার্কের

Update Time : ০৬:৩০:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

ডেনমার্কের সিদ্ধান্তটি বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে—বিশেষত শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে এই প্ল্যাটফর্মগুলোর সম্পর্ক নিয়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপ ও পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার কিশোরদের মধ্যে উদ্বেগ, হতাশা, আত্মসম্মানবোধের ঘাটতি এবং একাকীত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ডেনমার্ক সরকারের প্রস্তাবিত এই নতুন আইনটি অনুযায়ী, ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোররা আর ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট বা ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবে না। তবে ১৩ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে, বিশেষ অনুমতির ভিত্তিতে তাদের মা–বাবা প্রবেশাধিকার দিতে পারবেন। এই নীতিমালার অংশ হিসেবে ডেনমার্ক একটি বয়স যাচাইকরণ অ্যাপ’ চালুর পরিকল্পনা করছে, যা ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে।

আইনটি কার্যকর হলে এটি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর নতুন দায়বদ্ধতা আরোপ করবে। বর্তমানে বয়স যাচাইয়ের দায়িত্ব সাধারণত ব্যবহারকারীর ওপর থাকে, কিন্তু নতুন আইন কার্যকর হলে তা স্থানান্তরিত হবে টেক কোম্পানি, মা–বাবা এবং অ্যাপ স্টোর কর্তৃপক্ষের মধ্যে ভাগাভাগি দায়িত্বে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবসায়িক মডেলের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ কিশোর ব্যবহারকারীরাই এই প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি বড় অংশ।

ডেনমার্কের এই সিদ্ধান্তটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যেই একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। দেশটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে, এবং আইন অমান্য করলে প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর ৫০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

এছাড়াও, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অনলাইন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা, ইউটা আর্কানসাস রাজ্যে এরই মধ্যে এমন আইন প্রণীত হয়েছে যেখানে ১৮ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট খোলার আগে অভিভাবকের অনুমতি বাধ্যতামূলক।

এই নতুন প্রবণতা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে: শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কতদূর যেতে দেওয়া উচিত? অনেকেই বলছেন, ডেনমার্কের এই পদক্ষেপ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ‘অপ্রতিরোধ্য প্রভাব’-এর বিরুদ্ধে এক প্রকার প্রতিরোধের সূচনা হতে পারে, আবার অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন—অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ সৃজনশীলতা, শেখার সুযোগ এবং ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

সব মিলিয়ে, ডেনমার্কের এই উদ্যোগটি শুধু একটি দেশীয় নীতি নয়, বরং ডিজিটাল যুগে শিশুদের সুরক্ষায় বৈশ্বিক এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।

সূত্র: ম্যাশেবল, বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান