সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে অর্থ উপদেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা: ধৈর্য ধরার আহ্বান

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:৪৬:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৭২ Time View

নতুন জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, পে কমিশনের কার্যক্রম এখনো প্রক্রিয়াধীন, এবং কমিশনের তিনটি পৃথক রিপোর্ট যাচাই-বাছাইয়ের পর একটি সুসংগঠিত ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হবে—যা পরবর্তী সরকার এসে বাস্তবায়ন করবে।

বুধবার (১২ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “পে কমিশনের জন্য একটি আলাদা কমিশন গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে তারা রিপোর্ট প্রস্তুতের শেষ পর্যায়ে আছে। তিনটি রিপোর্ট পাওয়ার পর সেগুলো যাচাই-বাছাই, প্রশাসনিক অনুমোদন ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এরপর সচিব কমিটি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত গ্রহণের পরই বাস্তবায়নের পথ খুলবে। ফলে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের মধ্যে সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব না-ও হতে পারে। তবে আমরা একটি শক্তিশালী কাঠামো বা ফ্রেমওয়ার্ক রেখে যাচ্ছি, যাতে পরবর্তী সরকার দ্রুত তা বাস্তবায়ন করতে পারে।”

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের সময়ের মধ্যে পে স্কেল পুরোপুরি কার্যকর করা কিছুটা অনিশ্চিত। সময়, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং অর্থের সংস্থান—এই তিনটি বিষয়ই এখানে বড় চ্যালেঞ্জ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অর্থের ব্যবস্থা। তবে আমরা দীর্ঘ সাত-আট বছর পর এই উদ্যোগ নিজেরা নিয়েছি। মাত্র বারো মাসের মধ্যে কাজ শুরু করেছি। তাই আমি সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানাচ্ছি। ক্ষোভ নয়, আমাদের প্রচেষ্টার ফল ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী সরকারকে অবশ্যই পে কমিশনের সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। শুধু সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নয়, সামাজিক খাত, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং বাজেট ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক ভারসাম্যও রক্ষা করতে হবে। উন্নয়ন ও মানবসম্পদের মধ্যে একটি টেকসই ভারসাম্য তৈরি করাই হবে মূল লক্ষ্য।”

এ সময় অর্থ উপদেষ্টা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের চলমান কিছু পদক্ষেপের দিকেও ইঙ্গিত দেন। তিনি জানান, রমজানের আগে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত তেল ও চিনি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারে ৪০ হাজার ‘বডি অন ক্যামেরা’ কেনার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে, যা নিয়ে আগামী বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বন্দরে আটকে থাকা পুরোনো গাড়িগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, “যেসব পুরোনো গাড়ি দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে পড়ে আছে, সেগুলো পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই এগুলো স্ক্র্যাপ করে স্থানীয়ভাবে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাইরে বিক্রি করলে তা পরিবেশ ও রাজস্ব উভয়ের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।”

ড. সালেহউদ্দিন আরও জানান, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকার কিছুটা কমানো হবে, তবে টাকার অঙ্কে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না। বাজেট কাঠামোকে আরও বাস্তবসম্মত ও দক্ষভাবে পরিচালনার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সবশেষে তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি স্থিতিশীল ও দায়িত্বশীল অর্থনৈতিক কাঠামো রেখে যাওয়া, যাতে পরবর্তী সরকার সহজেই নতুন পে স্কেলসহ অন্যান্য সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারে। আমাদের কাজ হচ্ছে ভিত্তি তৈরি করা—বাস্তবায়ন পরবর্তী সরকারের ওপর নির্ভর করবে।”

অর্থ উপদেষ্টার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চললেও এটি সময়সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া। প্রশাসনিক অনুমোদন, অর্থের সংস্থান ও নীতিগত ভারসাম্যের সমন্বয় না হলে এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তবে সরকারের আন্তরিকতা ও প্রস্তুতি আশাব্যঞ্জক।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে অর্থ উপদেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা: ধৈর্য ধরার আহ্বান

Update Time : ০২:৪৬:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

নতুন জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, পে কমিশনের কার্যক্রম এখনো প্রক্রিয়াধীন, এবং কমিশনের তিনটি পৃথক রিপোর্ট যাচাই-বাছাইয়ের পর একটি সুসংগঠিত ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হবে—যা পরবর্তী সরকার এসে বাস্তবায়ন করবে।

বুধবার (১২ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “পে কমিশনের জন্য একটি আলাদা কমিশন গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে তারা রিপোর্ট প্রস্তুতের শেষ পর্যায়ে আছে। তিনটি রিপোর্ট পাওয়ার পর সেগুলো যাচাই-বাছাই, প্রশাসনিক অনুমোদন ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এরপর সচিব কমিটি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত গ্রহণের পরই বাস্তবায়নের পথ খুলবে। ফলে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের মধ্যে সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব না-ও হতে পারে। তবে আমরা একটি শক্তিশালী কাঠামো বা ফ্রেমওয়ার্ক রেখে যাচ্ছি, যাতে পরবর্তী সরকার দ্রুত তা বাস্তবায়ন করতে পারে।”

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের সময়ের মধ্যে পে স্কেল পুরোপুরি কার্যকর করা কিছুটা অনিশ্চিত। সময়, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং অর্থের সংস্থান—এই তিনটি বিষয়ই এখানে বড় চ্যালেঞ্জ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অর্থের ব্যবস্থা। তবে আমরা দীর্ঘ সাত-আট বছর পর এই উদ্যোগ নিজেরা নিয়েছি। মাত্র বারো মাসের মধ্যে কাজ শুরু করেছি। তাই আমি সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানাচ্ছি। ক্ষোভ নয়, আমাদের প্রচেষ্টার ফল ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী সরকারকে অবশ্যই পে কমিশনের সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। শুধু সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নয়, সামাজিক খাত, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং বাজেট ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক ভারসাম্যও রক্ষা করতে হবে। উন্নয়ন ও মানবসম্পদের মধ্যে একটি টেকসই ভারসাম্য তৈরি করাই হবে মূল লক্ষ্য।”

এ সময় অর্থ উপদেষ্টা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের চলমান কিছু পদক্ষেপের দিকেও ইঙ্গিত দেন। তিনি জানান, রমজানের আগে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত তেল ও চিনি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারে ৪০ হাজার ‘বডি অন ক্যামেরা’ কেনার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে, যা নিয়ে আগামী বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বন্দরে আটকে থাকা পুরোনো গাড়িগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, “যেসব পুরোনো গাড়ি দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে পড়ে আছে, সেগুলো পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই এগুলো স্ক্র্যাপ করে স্থানীয়ভাবে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাইরে বিক্রি করলে তা পরিবেশ ও রাজস্ব উভয়ের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।”

ড. সালেহউদ্দিন আরও জানান, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকার কিছুটা কমানো হবে, তবে টাকার অঙ্কে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না। বাজেট কাঠামোকে আরও বাস্তবসম্মত ও দক্ষভাবে পরিচালনার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সবশেষে তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি স্থিতিশীল ও দায়িত্বশীল অর্থনৈতিক কাঠামো রেখে যাওয়া, যাতে পরবর্তী সরকার সহজেই নতুন পে স্কেলসহ অন্যান্য সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারে। আমাদের কাজ হচ্ছে ভিত্তি তৈরি করা—বাস্তবায়ন পরবর্তী সরকারের ওপর নির্ভর করবে।”

অর্থ উপদেষ্টার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চললেও এটি সময়সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া। প্রশাসনিক অনুমোদন, অর্থের সংস্থান ও নীতিগত ভারসাম্যের সমন্বয় না হলে এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তবে সরকারের আন্তরিকতা ও প্রস্তুতি আশাব্যঞ্জক।